• শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রচলিত দ্বীন বনাম প্রকৃত দ্বীন (শেষ পর্ব)

  ধর্ম ডেস্ক

১২ জুলাই ২০১৯, ১২:৪৮
দ্বীন
ছবি : প্রতীকী

দেশ-বিদেশের অনেক নওজোয়ান এ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছে যে, সত্যি বলতে অনলাইনে না এসে অফলাইনে থেকে মুষ্টিময় বিশুদ্ধ শাইখদের লেখনি ও লেকচার পড়তে বা শোনার মাধ্যমে মাহরুম থেকে হয়তো কোনো দিন উপলব্ধি করতে পারতাম না যে, অহীর বিধান কতটা নির্মম। ওহীর জ্ঞান কত বিশুদ্ধ! এবং পবিত্র দ্বীন ইসলামের অলৌকিকসৌন্দর্য ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য আসলে কী। 

সলাত, সিয়াম, হজ, জাকাতের পাশপাশি মৃত্যু বার্ষিকীর নামে খানা পিনার ধুমধাম উত্সব, শবে বরাতের রুটি হালুয়া, মিলাদ মাহফিলের জিলাপি, ঈদুল ফিতরের কেনাকাটা ও ঈদুল আযহার গরু খাওয়ার আনন্দের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল আমাদের প্রচলিত দ্বীন ইসলাম! বুঝতে পারতাম না প্রচলিত দ্বীনের ভীড়ে কোনটা প্রকৃত দ্বীন ইসলাম? কোনোদিন হয়তো উপলব্ধি করতে পারতাম না প্রকৃত দ্বীনে আকীদার এতটা গুরুত্ব! বাপ দাদর লালিত দ্বীনের ধারক বাহকদের,কাউকে বলতে শুনিনি সারা জীবনের সলাত, সিয়াম, ইবাদত বন্দেগির কানাকড়ির মুল্য নেই যদি ঈমান তথা আকীদা বিশুদ্ধ না হয়। 

সারা জীবন আখেরি মুনাজাত আর আখেরি মুলাকাতের নজরানা ও কিচ্ছা কাহিনীর সংস্কৃতিতে বুঝতে পারিনি কোনটা সুন্নত আর কোনটা বিদআত। কোনটা তাওহীদ আর কোনটা শিরক? মন্ত্রের ন্যায় না বুঝে কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত ও জুমআর খুতবা শুনেছি তাতে বহুত সওয়াব আছে শুনেছি, বুঝার প্রয়োজন আছে বলতে শুনিনি কখনো কথিত হক্কানিদের!

চলমান দ্বীনের নামে চার মিনিটের জামাআত শেষে দশ-বিশ মিনিটের কথিত দীর্ঘ মোনাজাতের লৌকিক ফরহেজগারির সংস্কৃতি দেখে আসছি, কিন্তু প্রকৃত দ্বীনে গোটা সলাতটাই যে মোনাযাত সে কথা বলতে শুনিনি কওমের প্রচলিত দ্বীনের ধারকদের!(কিছু ছাড়া) 

মহান রবের অস্তিত্বের প্রশ্নে একটি দল তাঁকে চলমান দ্বীন/মাযহাবের দুহাই দিয়ে নিরাকার বলে আসছে বিনা দলীলে মেনে চলেছি যুগ যুগ ধরে। তাদেরই আবার বলতে শুনেছি মহামতি ইমাম আবু হানিফা রহ: নিরাকার আল্লাহকে নিরানব্বই বার সপ্নে দেখেছে। সুবহান আল্লাহ। সহিত বিনা দলিলে তাও মেনে নিয়েছি। কখনো প্রশ্ন করি নাই, নিরাকার হলে দেখলো কীভাবে?

অপর দিকে একটি দল প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে সকার বানালো তারই বা দলীল কোথায়? বরং এক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের আকীদা হলো আমরা বিশ্বাস করব যে, এসকল সিফাতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ যা বলেছেন তা সত্য এবং এসবের অর্থ তিনিই ভালো জানেন। আমরা এর ওপর ইজমালি ঈমান রাখব। সাথে সাথে এ বিশ্বাস পোষন করব যে, আল্লাহ তা'আলা সকল প্রকার সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যবান হওয়া থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। তিঁনি বলেন,

فَاطِرُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ ۚ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوٰجًا وَمِنَ الْأَنْعٰمِ أَزْوٰجًا ۖ يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ ۚ لَيْسَ كَمِثْلِهِۦ شَىْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ

তিনি আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা; তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া বানিয়েছেন এবং চতুষ্পদ জন্তু থেকেও জোড়া বানিয়েছেন। (এভাবেই) তিনি তোমাদেরকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মত কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। (শুরা ৪২/৭৪)

فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য অন্য কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন আর তোমরা জান না।(নাহল16/74)

رَّبُّ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبٰدَتِهِۦ ۚ هَلْ تَعْلَمُ لَهُۥ سَمِيًّا

তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যে যা আছে তার রব। সুতরাং তাঁর ইবাদাত কর এবং তাঁরই ইবাদাতে ধৈর্যশীল থাক। তুমি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জানো? (মারিয়াম ১৯/৬৫)

আগের পর্ব পড়তে- প্রচলিত দ্বীন বনাম প্রকৃত দ্বীন (পর্ব- ২) 

অপরদিকে আমাদের চলমান কওমি দ্বীনের ধারক বাহকগণ মহান রবের অবস্থান সম্পর্কে  সত্তাগতভাবে তিঁনি সর্বত্র বিরাজমান বলছেন! অপর একটি দল সহীর লেবাস পরে মহান আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টি আরশে সমাসিন বলছেন/লিখছেন! বিস্ময়কর ব্যাপার হলো উভয় দল আকীদাগত ভ্রান্তিতে নিপতিত! এ সম্পর্কে সালাফদের আকীদার সাথে তাদের খালাফদের আকীদার পরিপূর্ণ মিল নেই বলা যায়। যেমন সালাফদের অন্যতম ইমাম আবু হানিফা রহ: কে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল,আল্লাহ কোথায়? তিনি বললেন : كان الله تعالى ولا مكان كان قبل أن يخلقالخلق كان ولم يكن أين ولا خلق ولا شى وهو خالق كل شي যখন (আরশসহ) কোনো স্থানই ছিল না, তখনো আল্লাহ তা'আলা ছিলেন।

সৃষ্টির অস্তিত্বের পূর্বে তিঁনি ছিলেন। তিঁনি তখনও ছিলেন, যখন "কোথাও" বলার মতো জায়গা ছিল না, কোন সৃষ্টি ছিল না এবং কোনো বস্তুই ছিল না। তিঁনিই সব কিছুর স্রষ্টা। (আল-ফিকহুল আবসাত ৫৭)

এ সম্পর্কে ইমাম মালিক রহঃ কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন- الاستواء معلوم والكيف مجهول والايمان به واجب والسوال عنه بدعت আরশের ওপর ইসতাওয়া তথা অধিষ্টিত হওয়া বিষয়টি সুস্পষ্ট, কী ধরণ তা অস্পষ্ট, এর ওপর (মানে আরশ সমুন্নত) ইমান আনা ওয়াজিব।

আর এ সম্পর্কে প্রশ্ন (বাড়াবাড়ি মাতামাতি করা)করা বিদআত। আমার সধারণ জনগণের জন্য মহামতি ইমামের এ সতার্কতামূলক উক্তিতেই থেমে যাওয়া উচিত। নয়তো পদস্খলনের সম্বাবনা বেশি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর সম্পর্কে সঠিক আকীদা পোষন করার তাওফিক দান করুন। 

লেখক : মুরাদ বিন আমজাদ, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

ওডি/এনএম

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড