• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

প্রচলিত দ্বীন বনাম প্রকৃত দ্বীন (পর্ব- ২)

  ধর্ম ডেস্ক

১১ জুলাই ২০১৯, ১০:৫৬
দ্বীন
ছবি : প্রতীকী

এটা এমন যেমন ঈসা (আ:) এর তিরোধানের পর তারা যেমন একক ইলাহকে ভুলে গিয়ে ছালিস তথা তিত্ববাদে বিশ্বাসি হয়ে বাড়তে বাড়তে তাওহীদের শিরোমণি ইবরাহীম (আ:) যিনি মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে গেলেন, তাঁরও একটা মূর্তি স্থাপন করা হলো তাঁরই হাতে নির্মিত আল্লাহর ঘর বায়তুল্লায়! অথচ তিঁনি নিজেই দুআ করছেন, 

وَإِذْ قَالَ إِبْرٰهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا الْبَلَدَ ءَامِنًا وَاجْنُبْنِى وَبَنِىَّ أَن نَّعْبُدَ الْأَصْنَامَ

আর স্মরণ কর ‘যখন ইবরাহীম বলল, ‘হে আমার রব, আপনি এ শহরকে নিরাপদ করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখুন’।(ইবরাহীম ১৪/৩৫) এরাও দাবি করতো আমরা ইবরহীমের মিল্লাতের/মাযহাবের তথা দীনে হানিফের।

আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি দ্বীনের যারা ধারক বহক কওমের সরদার বাপ দাদারা যাদের থেকে কলমা কালাম, সলাত, সিয়াম, এক কথায় দ্বীনের নামে চলমান সকল কিছুতেই উৎসের সাথে মিলালে ভুল মনে হচ্ছে! এটা এমন যেমন কোনো কবি বলেছেন ‘জীবন প্রভাতে মনের মালাতে গেথেছিনু যত ফুল, আজ দেখি হায় ফুল সেতো নয়, সেতো জীবনের ভুল’। 

আগের পর্ব পড়তে- প্রচলিত দ্বীন বনাম প্রকৃত দ্বীন (পর্ব- ১)

একজন গুরু যুগ যুগ ধরে চলে আশা ইসলামের মূলমন্ত্র কালিমা "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ" (মুহাম্মাদ ১৯) উল্টো পড়ার তালকিন করলেন। আবার কালিমার শেষ অংশ "ইল্লাল্লাহর" জিকির "ইজখির" দিয়ে হালাল করতে চাইলে আমাদের সংখালঘু কিছু শাইখদের প্রতিবাদে বলা হলো যারা "ইল্লাল্লাহ" জিকির বৈধ বলে না তারা নাকি আলেমের কাতারে পড়ে না! কিন্তু অসখ্য নবি রসূল থেকে আয়িম্মায়েকেরাম পর্যন্ত কেউ এটা প্রবর্তন করেছেন মর্মে কোন দলিল নেই ।

মহান আল্লাহ বলেন,

وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِىٓ إِلَيْهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَاعْبُدُونِ

আর তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূল আমি পাঠাইনি যার প্রতি আমি এই ওহী নাজিল করিনি যে, ‘আমি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমার ইবাদাত কর।’ (আম্বিয়া ২১/২৫) অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি বাপ-দাদা আর বুজুর্গের দোহাই দিয়ে কালেমার মর্ম পর্যন্ত পাল্টিয়ে বলা হচ্ছে। তার জ্বলন্ত প্রমাণ মায়ানমারে সূচি বুদ্ধবাহিনী এদের মসজিদের মধ্যে গলা কেটে হত্যা করল তখন ওলামায়েকেরাম গর্জে উঠলেও এরা বললো کسی سے کچھ نہی ہوتا ہے جو کچھ ہوتا ہے اللہ سے ہوتا ہے، " কোন কিছু থেকে কোন কিছু হয় না যা কিছু সব আল্লাহ থেকে হয়" হায় কলেমার অপব্যাবহার! 

যার পরিনতি আমরা দেখছি অসংখ্য রোহিংগা শরণার্থী এখন নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশের মত একটি ক্ষুদ্র দেশের গলগ্রহ হয়ে মানবেতার জীবনযাপন করছে! এটাই কি কলেমার শিক্ষা? এমনিভাবে মহান রবের প্রতিটি বিধানের সাথে এমনি অপব্যাখ্যা করে তার সত্যি অর্থকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।

ধর্মজাযকদের অশুভ থাবায় প্রকৃত দ্বীন হারিয়ে গেছে তাদের তৈরি করা প্রচলিত দ্বীনের কাছে। যে পিতার হাত ধরে মাসজিদে যাওয়া শিখেছি, তাকে যেভাবে সলাত আদায় করতে দেখেছি , যেসকল আলিমদের সান্নিধ্যে বসতে পেরে সার্থক মনে করেছি, যাদের ওয়াজ শুনে ছোট থেক বড় হয়েছি এবং যে চলমান ধর্মীয় সংস্কৃতির আবর্তে নিজেদের গড়ে তুলেছি সব কিছুই কি তাহলে ভুল? 

নামমাত্র কয়েকজন বিশুদ্ধ আকীদার আলিমদের লেখনি ও বক্তব্য শুনে সেটা হুট করে মেনে নেয়া সহজ নয়। কিন্তু উপায়ও নেই। তাদের বক্তব্যের পরিচ্ছন্নতা স্পষ্ট রেফারেন্স ও গ্রহণযোগ্য যুক্তিকে পাশ কাটানও মোখলেস হৃদয়ের জন্য সহজও নয় । 

চলবে... 

লেখক : মুরাদ বিন আমজাদ, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

ওডি/এনএম

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড