• মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের আকিদা (পর্ব- ২)

  ধর্ম ডেস্ক

১৪ জুন ২০১৯, ১২:৫৭
আকিদা
ছবি : প্রতীকী

(৭) বান্দা কীভাবে আল্লাহর প্রিয় ও সন্তুষজনক কাজগুলো জানতে পারবে? 

আল্লাহ যা পছন্দ করেন ও ভালবাসেন, তা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন আদেশের মাধ্যমে এবং যা অপছন্দ করেন তা জানিয়ে দিয়েছেন নিষেধের মাধ্যমে। সুতরাং রাসূল প্রেরণ এবং আসমানী কিতাব নাযিলের মাধ্যমে বান্দাগণ আল্লাহর পছন্দনীয় আমলসমূহ জানতে পেরেছে। এর মাধ্যমেই তাদের নিকট আল্লাহর অকাট্য দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাঁর পরিপূর্ণ হিকমত প্রকাশিত হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন-    

رُسُلاً مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلاَ يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ

‘‘সুসংবাদদাতা এবং ভীতি প্রদর্শনকারী রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি। যাতে রাসূলগণকে প্রেরণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন সুযোগ না থাকে’’। (সূরা নিসাঃ ১৬৫) আল্লাহ তাআ’লা আরো বলেন- 

قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمْ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ

‘‘বলুন! যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবেসে থাক তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী ও দয়ালু’’। (সূরা আল-ইমরান : ৩১) 

(৮) ইবাদতের শর্ত কয়টি? 

ইবাদতের শর্ত হচ্ছে তিনটি।

(১) ‘সিদকুল আযীমাহ’ তথা ইবাদত করার সুদৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করা। আর এটি হচ্ছে এবাদতের অস্তিত্বের শর্ত।

(২) নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া।

(৩) আল্লাহ তাআলা যে শরীয়ত (দ্বীন) অনুযায়ী ইবাদত করতে বলেছেন, ইবাদতটি সেই শরীয়ত অনুযায়ী হওয়া। শেষ দু’টি হচ্ছে ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত।

আগের পর্ব পড়তে- মুক্তিপ্রাপ্ত দলের আকিদা (পর্ব- ১)

‘সিদকুল আযীমাহ’ তথা সুদৃঢ় ইচ্ছা বলতে কী বুঝায়? 

তা হচ্ছে ইবাদত করতে গিয়ে সম্পূর্ণরূপে অলসতা পরিহার করা এবং কথা ও কাজে পরিপূর্ণ মিল থাকা। আল্লাহ তা’আলা বলেন-

  يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لاَ تَفْعَلُونَ * كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لاَ تَفْعَلُونَ

‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা কর না তা বল কেন? তোমরা যা কর না তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষ জনক’’। (সূরা আস্ সাফ)

(৯) যেই শরীয়ত (দ্বীন) অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করতে বলা হয়েছে, তা কোনটি? 

সেটি হচ্ছে, দ্বীনে হানীফ তথা মিল্লাতে ইবরাহীম। আল্লাহ তা’আলা বলেন  إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الأِسْلاَمُ

‘‘আল্লাহর নিকট ইসলাম হচ্ছে একমাত্র মনোনীত দ্বীন’’। (সূরা আল-ইমরানঃ ১৯) আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন-

أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالأرْضِ طَوْعًا وَكَرْهً

‘‘তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য কোন দ্বীন তালাশ করছে? অথচ আসমান-যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তারই অনুগত’’। (সূরা আল-ইমরানঃ ৮৩) 

আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন-

وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلاَّ مَنْ سَفِهَ 

‘‘দ্বীনে ইবরাহীম থেকে কেবল সেই ব্যক্তিই মুখ ফিরিয়ে নেয়, যে নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করে’’। (সূরা বাকারাঃ ১৩০) আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন-

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلاَمِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنْ الْخَاسِرِينَ

‘‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন তালাশ করে, তা কখনও তার নিকট থেকে গ্রহণ করা হবেনা। আর আখেরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত’’। (সূরা আল-ইমরানঃ ৮৫) আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন-

 أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنْ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ

‘‘তাদের কি এমন শরীক আছে, যারা তাদের জন্য এমন দ্বীন নির্ধারণ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ্ দেননি?’’ (সূরা শুরাঃ ২১)

চলবে... 

লেখক : মুরাদ বিন আমজাদ, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

ওডি/এনএম

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড