• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

রমজানের শেষ সাত দিনের গুরুত্ব (শেষ পর্ব)

  ধর্ম ডেস্ক

০১ জুন ২০১৯, ১০:৫২
লাইলাতুল কদর
ছবি : প্রতীকী

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللهِ، إِنِّي شَيْخٌ كَبِيرٌ عَلِيلٌ، يَشُقُّ عَلَيَّ الْقِيَامُ، فَأْمُرْنِي بِلَيْلَةٍ لَعَلَّ اللهَ يُوَفِّقُنِي فِيهَا لِلَيْلَةِ الْقَدْرِ. قَالَ: " عَلَيْكَ بِالسَّابِعَةِ».

“একলোক নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমি একজন অসুস্থ বৃদ্ধ মানুষ, দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা আমার জন্য কষ্টকর। অতএব, আপনি আমাকে এমন একটি রাতের কথা আদেশ করুন যে রাতে আল্লাহ আমাকে তাওফিক দিলে লাইলাতুল কদর পাবো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই তা রমযানের সাতাশ তারিখ।” [৩]

ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত যে,

«أَنَّ رِجَالًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أُرُوا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي المَنَامِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ».

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নযোগে রমযানের শেষের সাত রাতে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়। (এ শোনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকেও তোমাদের স্বপ্নের অনুরূপ দেখানো হয়েছে। (তোমাদের দেখা ও আমার দেখা) শেষ সাত দিনের ক্ষেত্রে মিলে গেছে। অতএব, যে ব্যক্তি এর সন্ধান প্রত্যাশী, সে যেন শেষ সাত রাতে সন্ধান করে।” [৪]

উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

«تَحَرَّوْهَا لَيْلَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ " يَعْنِي لَيْلَةَ الْقَدْرِ».

“তোমরা রমযানের সাতাশ তারিখ লাইলাতুল কদর তালাশ করো।” [৫]

মু‘আবিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

«لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ».

“সাতাশ রমজান লাইলাতুল কদর”। [৬]

আগের পর্ব পড়তে- রমজানের শেষ সাত দিনের গুরুত্ব (পর্ব- ১)

ইমাম আহমাদ রহ.-এর মত হচ্ছে, কোনো তারিখ নির্দিষ্ট না করে বিরত থাকাটাই বিশুদ্ধ। এ মতের পক্ষে প্রমাণ হলো আবু যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিয়ে রমযানের শেষ সাত দিনের বেজোড় রাত্রিগুলোতে সালাত আদায় করেছেন।

«قام بهم في الثالثة والعشرين إلى ثلث الليل. وفي الخامسة إلى نصف الليل، وفي السابعة إلى آخر الليل، حتى خشوا أن يفوتهم الفلاحُ»

তিনি তাদেরকে নিয়ে তেইশ তারিখ রাত্রির এক তৃতীয়াংশ, পঁচিশ তারিখ অর্ধ রাত্রি ও সাতাশ তারিখ রাতে প্রায় শেষ রাত্রি পর্যন্ত সালাত আদায় করেছেন, তা এত পরিমাণ দীর্ঘ ছিল যে, মনে হচ্ছিল কল্যাণ তথা সাহরী ছুটে যাবে। তিনি এ সময় তার পরিবার ও লোকদেরকে সালাতে একত্রিত করেছেন। হাদীসে বর্ণিত «الفلاحُ» মানে সাহরী।

কেউ কেউ সে রাতের আলামত ও নিদর্শন দ্বারা দলীল দিয়ে থাকেন। কারণ উল্লিখিত উবাই ইবন কা‘ব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসে এসেছে যে, এ দিন ভোরে সূর্য উদিত হবে তবে আলোকরশ্মি থাকবে না।

কোনো এক সৎলোক সাতাশ রমজান বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিল। সে দেখল মানুষের মাথার উপরে ফিরিশতাগণ তাওয়াফ করছে।

একলোক অন্ধকারে বারবার কী যেন দেখছিল। তাকে আরেকলোক জিজ্ঞাসা করল, আপনি কী দেখছেন? সে বলল আমি কদরের রাত তালাশ করছি। তখন লোকটি তাকে বলল, আপনি ঘুমান। আমি আপনাকে কদরের রাতের সংবাদ দিব। যখন সাতাশ রমজান এলো তখন সে ঐ লোকটিকে নিয়ে খেজুর বাগানে গেল। দেখল খেজুর গাছগুলো জমিনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তিনি বললেন, কদরের রাত ব্যতীত আমরা সারা বছর গাছগুলোকে এমন দেখি না।

এক পঙ্গু এ রাতে আল্লাহর কাছে তার পঙ্গুত্ব ভালো হওয়ার জন্য দো‘আ করছিল। আল্লাহ তার পঙ্গুত্ব ভালো করে দেন।

এমনিভাবে এক বোবা লোক ত্রিশ বছর আল্লাহর কাছে দো‘আ করছিলেন। আল্লাহ তার যবান খুলে দেন এবং সে কথা বলতে সক্ষম হয়। মন্ত্রী আবুল মুযাফফর উল্লেখ করেন, তিনি সাতাশ তারিখ রাতে (সেদিন জুমু‘আর দিন ছিল) দেখেন যে, আকাশের দরজা কা‘বা বরাবর খোলা। তিনি ধারণা করছিলেন তা নবুওয়াতের কামরার মতো। এভাবে সূর্যোদয় পর্যন্ত বলবৎ ছিল। শেষ দশকের বেজোড় রাতের কোনো একটি যদি জুম‘আ বার হয়, তাহলে সেটিই লাইলাতুল কদর হওয়ার বেশি সম্ভাবনা।

[১] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬২। [২] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬২। [৩] মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২১৪৯। শু‘আইব আরনাঊত হাদীসটিকে বুখারীর শর্তানুসারে সহীহ বলেছেন। [৪] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৫। [৫] মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ৪৮০৮, শু‘আইব আরনাঊত হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ বলেছেন। [৬] আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৮৬, আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। 

লেখক : মুরাদ বিন আমজাদ, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

ওডি/এনএম

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড