• শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

ইফতারের সময় পঠিতব্য দোয়া

  ধর্ম ডেস্ক

১৫ মে ২০১৯, ১৪:২৯
দোয়া
ছবি : প্রতীকী

শায়খ যাকারিয়া ইফতারের দোয়া লিখেছেন :

اللهم لك صمت وبك امنت وعليك توكلت وعلي رزقك افطرت

হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রাখিয়াছি এবং তোমার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি এবং তোমার ওপর ভরসা করিয়াছি ও তোমারই প্রদত্ত নেয়ামত দ্বারা ইফতার করিতেছি।

অতঃপর তিনি লিখেছেন, হাদীসে আরও সংক্ষিপ্ত দোয়া বর্ণিত আছে। [১]
 
শায়খ সাহেব নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তার লিখিত ইফতারের দোয়াতে এমন কতগুলো বাড়তি শব্দ আছে, যা পৃথিবীর কোনো হাদীসে নেই। হাদীস ঘাটলে বোঝা যায় যে, একটি যঈফ বর্ণনায় ইফতারের দোয়া এরূপ আছে- اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে রোযা রেখেছি এবং তোমার দেয়া রিযিক দ্বারাই ইফতার করছি। [২] 

ইমাম হাইসামী (রহ.) হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন, رواه الطبراني في الأوسط وفيه داود بن الزبرقان وهو ضعيف তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে দাউদ বিন যাবারকান রয়েছে। সে যঈফ। [৩]

পাঠক! তাবলীগ জামাআতের ২নং আমীর মুহাম্মাদ ইউসুফ সাহেব সাহারানপুর মাসরাসায় আবু দাউদ পড়েছেন। [৪] ভাবতে আশ্চর্য লাগে, যে শায়খুল হাদীস সাহেব বছরের পর বছর আবু দাউদ পড়িয়েছেন, তিনি যঈফ হাদীসটি শুধু বর্ণনা করেন নি বরং উক্ত সংক্ষিপ্ত দোয়ার সাথে وبك امنت وعليك توكلت শব্দ বাড়িয়ে হাদীস বিকৃত করেছেন।

অথচ সাহাবী ইবনে মাসউদ এর হাদীস বর্ণনায় সতর্কতার ব্যাপারে শায়খ নিজেই লিখেছেন যে, যখন কোনো হাদীস বয়ান করতেন তখন রাসূল  (সা.)  এর শব্দাবলি কম বেশি হয়ে যাবার ভয়ে তাঁর চোখ দুটো লাল হয়ে যেত। তাঁর শিরাগুলো ফুলে উঠতো। ফলে তিনি বলতেন, নবী (সা.)  এরূপ বলেছেন কিংবা একটু কম বলেছেন অথবা একটু বেশি বলেছেন, নতুবা এর কাছাকাছি বলেছেন। [৫]

তাই বলছি, রাসূলের  হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে একটি শব্দ হেরফের হওয়ার ভয়ে ইবনে মাসউদের  মতো সাহাবী যদি ভয়ে কেঁদে উঠেন, তাহলে আজকের শায়খুল হাদীসদের হাদীসের শব্দে বাড়াবাড়ি করার ব্যাপারে মুখে তালা মারা এবং কলমের নিভ ভেঙ্গে ফেলা উচিত নয় কি?

ইফতারের সময় পঠিতব্য সঠিক দোয়া :

ইবনে উমর  বলেন, নবী (সা.)  যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন :

ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَثَبَتَ الْاَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ

অর্থ : পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং নেকী নির্ধারিত হলো ইনশাআল্লাহ।[৬]

[১] ফাজায়েলে রমজান- ৪৯১ পৃঃ, [২] আবু দাউদ : ২৩৬০, মুজামুল আওসাত : ৭৫৪৯, [৩] মাজমাউয যাওয়ায়িদ : ৭/৩০১ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত : ১৪০৮ হি.) [৪] হায়াতুস সাহাবা, উর্দু, ২য় পৃষ্ঠা, [৫] ইবনে মাজাহ- ৪র্থ পৃষ্ঠা, [৬] আবূ দাঊদ : ২৩৫৯, মুস্তাদরাকে হাকেম : ১৫৩৬ (বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ) 

গ্রন্থ- সহীহ আকীদার মানদন্ডে তাবলীগী নিসাব [নতুন সংস্করণ], অধ্যায়- ফাজায়েলে রমজান। 

লেখক : মুরাদ বিন আমজাদ।

ওডি/এনএম

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড