• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

হায়াত বৃদ্ধিকারী আমলসমূহ (৩য় পর্ব)

  অধিকার ডেস্ক    ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৩:৩৬

ইসলাম
ছবি : প্রতীকী

দ্বীনি আলোচনায় সম্পৃক্ত হওয়া-

মসজিদে যে সকল দ্বীনি আলোচনা অনুষ্ঠান বা (দীনী শিক্ষা বৈঠক) অনুষ্ঠিত হয়, এত স্বশরীরে উপস্থিত হলে অসংখ্য নেকী ও মর্যাদা লাভ করা যায়। শুধু তাই নয়, ঈমানের পর ইলমই হলো আল্লাহর কাছে মর্যাদা বৃদ্ধির প্রথম উপায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম বা জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (সূরা মুজাদালা- ১১)

ইলম শিক্ষা করার জন্য পথে চলা, হাটা, কষ্ট করা ইত্যাদিও ইবাদত। এগুলোর মর্যাদা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত বেশি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, কেউ যদি ইলম শিক্ষার জন্য কোনো পথে চলে, তবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। আলিমের (জ্ঞানীদের) জন্য আসমান এবং জমিনের সকলেই ক্ষমা প্রার্থণা করেন।

এমনকি পানির মধ্যে মাছও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করে। তারকারাজির উপর চাঁদের যেমন মর্যাদা, ইবাদতে লিপ্ত থাকা আবিদের উপরে আলিমের (জ্ঞানীর) তেমনই মর্যাদা, আলিমরাই (জ্ঞানীরাই) হচ্ছেন নবীদের উত্তরাধিকারী।

নবীগণ কোনো টাকা পয়সা উত্তরাধিকার রেখে যাননি। তারা শুধু ইলম এর উত্তরাধিকার রেখে যান। কাজেই যে ব্যক্তি ইলম গ্রহণ করলো, সে নবীদের উযত্তরাধিকার থেকে একটি বড় অংশগ্রহণ করল। (সহীহ বুখারী-১/৩৭, সহীহ মুসলিম-৪/২০৭৪)

আমরা হয়ত মনে করতে পারি যে, এই মর্যাদা বোধ হয় শুধু যারা মাদ্রাসায় পড়েন অথবা যারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইলম অর্জন করে তাদের জন্যই। আসল বিষয় তা নয়, যেকোনো বয়সের যেকোনো মুসলিম ওয়াজ মাহফিলে, মসজিদে, খুতবার আলোচনায়, আলিমের কাছে প্রশ্ন করে, বই পড়ে বা যে কোনভাবে দ্বীনি ইলম শিক্ষা করতে গেলেই এই মর্যাদা ও নেকী লাভ করবে।

কেননা- রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবী আবু যার রা. কে বলেন, হে আবু যার! তুমি যদি সকালে মসজিদে যেয়ে কুরআনের একটি আয়াত শিক্ষা কর, তবে তা তোমার জন্য ১০০ রাকআত নফল নামাজ আদায় করার থেকেও উত্তম। আর যদি তুমি ইলমের একটি অধ্যায় শিক্ষা কর, আমলকৃত বা আমলকৃত নয়- তবে তা তোমার জন্য ১০০০ রাকআত নফল নামাজ আদায় করার থেকেও উত্তম। (সুনানে ইবনুমাজাহ-১/৭৯, আত-তারগীব-১/৫৪, ২/২৩২)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আমার মসজিদে এ উদ্দেশ্যে আসবে যে, সে কোনো কল্যাণকর বিষয় শিক্ষাগ্রহণ করবে বা কাউকে শিক্ষা দিবে, তাহলে সেই ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীগণের মর্যাদা লাভ করবে। (সুনানে ইবনুমাজাহ- ১/৮২, সহীহুত তারগীব- ১/২০)

আগের পর্ব পড়তে : হায়াত বৃদ্ধিকারী আমলসমূহ (২য় পর্ব)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি সকাল সকাল বা দুপরের আগে (জুমআর খুতবার আগে) এ উদ্দেশ্যে মসজিদে আসবে, যে সে কোনো কল্যানকর কিছু শিক্ষা নিবে অথবা শিক্ষা দিবে তবে সেই ব্যক্তি একটি পূর্ণ হজের নেকী লাভ করবে। (মাজমা’উয যাওয়ায়িদ- ১/১২৩, সহীহুত তারগীব- ১/২০)

অতএব সাধারণ শিক্ষা মোটেও নিষিদ্ধ নয়, তবে দ্বীনি ইলম শিক্ষার মধ্যে আপনার ও আপনার সন্তান সন্ততির জন্য অধিক মর্যাদা ও আখিরাতে মুক্তির নিশ্চয়তা রয়েছে। অবশ্যই তাদেরকে প্রয়োজনীয় দ্বীনি ইলম শিক্ষা দিতে হবে। কুরআন পাঠের পাশাপাশি বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ পাঠ করে রাসূল (সা.) এর সুন্নত জানতে ও মানতে হবে।

কুরআনের একটি আয়াত অর্থসহ পাঠ করলে ১০০ রাকআত এবং কুরআন হতে একটি বিষয়ে (পিতামাতা ও সন্তানের অধিকার, পরিবার, আত্বীয়তা সম্পর্ক ইত্যাদি) দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা ১০০০ রাকআত নফল নামাজ পড়ার সমপরিমান নেকী লাভের সুবর্ণ সুযোগ আমরা পাচ্ছি।

এমনকি মসজিদে প্রতি জুমআর দিনে কুরআন ও হাদীসের শিক্ষনীয় বৈঠকে (খুতবার আগে) উপস্থিত হয়ে দ্বীনি ইলম বা জ্ঞান অজর্ন করলে প্রতিটি বৈঠকের বিনিময়ে মাকবুল হজ বা পরিপূর্ণ হজের সমান নেকী অজর্ন করতে পারব।

অর্থাৎ একমাসে ৪/৫টি এক বছরে ৫২টি পরিপূর্ণ হজের সমপরিমাণ নেকী লাভ করতে পারব। আর এই জানা ও মানার মধ্যে রয়েছে আমাদের অল্প হায়াতকে বৃদ্ধি করে দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতে মুক্তি লাভের পাথেয়। ইনশাআল্লাহ।

লেখক : মাওলানা আখতারুজ্জামান খালেদ, ইমাম ও খতীব।

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড