• শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

জমিন বুসি বা কদম বুসি সম্পর্কে ইসলাম যা বলে (১ম পর্ব)

  অধিকার ডেস্ক    ০৯ মার্চ ২০১৯, ১৩:১৫

হ্যান্ডশেক
ছবি : প্রতীকী

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ২৩ বছরের নবুয়াতি জীবনে তাঁর লক্ষাধিক সাহাবীর কেউ কেউ দু-একবার তাঁর কাছে এসেছেন। কেউ কেউ হাজারবার এসেছেন। এ সকল ক্ষেত্রে তাঁদের সুন্নত বা নিয়ম ছিল সালাম প্রদান করা, মুসাফাহা করা। দু’একটি ক্ষেত্রে তাঁরা একজন আরেকজনের হাতে বা কপালে চুমু খেয়েছেন, বা কোলাকুলি করেছেন। 

এ সকল ঘটনায় কোনো সুপরিচিত সাহাবী নবী (সা.) এর পা চুম্বন বা কদম বুসি করেননি। আবু বকর, উমার, উসমান, আলী, ফাতিমা, বিলাল রা. ও তাঁদের মতো প্রথম সারির শত শত সাহাবী প্রত্যেকে ২৩ বছরে কমপক্ষে ১০ হাজার বার তাঁর কাছে গিয়েছেন। কিন্তু কেউ কখনো একবারও তাঁর কদম মুবারকে চুমু খান নি বা সেখানে হাত রেখে সে হাতে চুমু খান নি। তাঁর সামনে মাটিতে চুমু খাওয়া তো অনেক দূরের কথা।

বর্তমানকালে আমাদের সমাজে পীর, আলিম, উস্তাদ এবং সমাজের ও পরিবারের মুরুব্বীদেরকে কদম বুসি বা পায়ে হাত রেখে চুমু করার মাধ্যমে শ্রদ্ধা সম্মান করার রীতি দেখা যায়। আর কদম বুসি না করলে বেয়াদব বলে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং দলিল হিসেবে বলা হয়, কুরআনে আছে যে, “বেয়াদব লোক আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত থেকে যায়”।

কদম বুসি না করলে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হতে হয় কি না হয়, কিন্তু প্রশ্ন হলো এ কদম বুসি করা কি শরিয়ত সম্মত কাজ? এ কদম বুসি মুসলিম সমাজে কোথায় থেকে আসলো। এর ফলাফলই বা কী?

তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনদের যুগেও মুসলিম সমাজে এর কোনো রীতি হতে দেখা যায়নি। এ কদম বুসির নাম-নিশানাই সেই যুগে পাওয়া যায় না। বস্তুত কুরআন-হাদিসে জমিন বুসি বা কদম বুসির কোনো উল্লেখ নেই। ইসলামী সংস্কৃতিতে এর কোন স্থান নেই। এর পরিবর্তে কুরআন-হাদীসে সালাম দেওয়া ও মুসাফাহা করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদেরকে যখন কোন প্রকার সম্ভাষণে সম্ভাষিত (সালাম প্রদান) করা হবে তখন তোমরা তার চেয়েও উত্তম সম্ভাষণে সম্ভাষিত (সালাম প্রদান) করো, অথবা অতটুকুই ফিরিয়ে দিবে। মনে রেখো আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী। (সূরা নিসা- ৮৬)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা ঈমান গ্রহণ করবে, আর তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা পরস্পরকে ভালবাসবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন কথা বলে দিব না, যা করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রদানের প্রচলন করো। (সহীহ মুসলিম, মিশকাত- ৪৬৩১)

আনাস রা. বলেন, এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমাদের কেউ যখন তাঁর কোন ভাইয়ের সাথে কিংবা বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করে তখন কি তার জন্য মাথা নত করবে? নবী করীম (সা.) বললেন, না। সে আবার জিজ্ঞেস করলো, তাকে কি আলিঙ্গন করবে এবং চুম্বন করবে? নবী কারীম (সা.) বললেন, না। সে পুনরায় জিজ্ঞাস করলো, সে কি তার হাত ধরে তার সাথে মুসাফাহা করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (সুনানে তিরমিযী, মিশকাত- ৪৬৮০)

আনাস রা. বলেন, সাহাবীগণ পরস্পর সাক্ষাৎ করলে মুসাফাহা করতেন এবং কোন সাহাবী প্রবাস (সফর) থেকে আসলে কাঁধে কাঁধ মিলাতেন, আলিঙ্গন/গলাগলি করতেন। (সিলসিলায়ে সহীহাহ- ২৬৪৭)

এ আলোচনা থেকে জানা গেল যে, ইসলামে সুন্নত হচ্ছে যে, দুজন মুসলমান যখন পরস্পর সাক্ষাৎ করবে তখন সালাম প্রদান করবে, মুসাফাহা করবে এবং আলিঙ্গন বা গলাগলি করবে। বিশেষ করে প্রবাস থেকে (সফর) আগত ব্যক্তির সাথে আলিঙ্গন বা গলাগলি করবে।

এ সব কথা সুস্পষ্ট হাদীস থেকে প্রমাণিত। রাসূল করীম (সা.) তাই করেছেন। সাহাবীগণের সমাজে এই ছিল স্থায়ী রীতি। বস্তুত এই হচ্ছে রাসূল (সা.) এর সুন্নত। 

(চলবে...) 

লেখক : শাইখ আখতারুজ্জামান খালেদ, ইমাম ও খতীব। 
 

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড