• রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ : মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে বিপুল পরিমাণ বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ১ জনকে আটক করেছে র‍্যাব

হায়াত বৃদ্ধিকারী আমলসমূহ (২য় পর্ব)

  অধিকার ডেস্ক    ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:১৫

নামাজ
ছবি : প্রতীকী

হায়াত বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য আমল হলো নফল নামাজ। 

চাশতের নামাজ- 

মানুষের দেহে তিনশত ষাটটি জোড়া আছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে আল্লাহর শোকর আদায় করার জন্য এই জোড়াগুলোর প্রত্যেকটির জন্য প্রতিদিন সদকাহ করার নির্দেশ করেছেন।

সাহাবী ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আদম সন্তানের দেহে তিনশত ষাটটি জোড়া রয়েছে। প্রত্যেক জোড়ার জ্ন্যই প্রতিদিন সদকাহ আদায় করা ওয়াজিব। উত্তম কথা বলা সদকাহ, কোন ভাইকে কোন বিষয়ে সহযোগিতা করা সদকাহ, কাউকে যদি সামান্য পানিও পান করানো হয় এতে সদকাহ করার নেকী রয়েছে। রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু বা মানুষ আঘাত পাবে এমন সবকিছু সরিয়ে ফেললেও সদকাহ করার নেকী পাবে (মু’জামুল কাবীর- ১১০২৭)।

এমন অসংখ্য দান-খয়রাত সদকাহর নেকী প্রতিদিন কতইনা অল্প সময়ে লাভ করতে পারা যায়। আর এই তিনশ ষাটটি জোড়ার জন্য প্রতিদিন যে সদকাহ আদায় করতে হয়, যদি প্রতিদিন দুই রাকআত চাশতের সকাল-৮- ১০টায়) নামাজ পড়ে, তবে তা প্রতিদিনের সদকাহ আদায়ের জন্য যথেষ্ট হবে। এজন্য শুধু দুই রাকাত নামাজ পড়া ব্যতীত কিছুই করতে হবে না।

সাহাবী আবু যার আল-গিফারী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের শরীরে প্রতিটি জোড়ার জন্য প্রতিদিন সদকাহ করতে হবে। “সুবহানাল্লাহ” বলা দ্বারা সদকাহর নেকী পাওয়া যায়, “আলহামদুলিল্লাহ” বললেও সদকাহর নেকী পাওয়া যায়। প্রতিবার “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার দ্বারাও সদকাহর নেকী পাওয়া যায়। “আল্লাহ আকবার” বলার দ্বারাও নেকী পাওয় যায়, ভালো কাজের নিদের্শ দেওয়া ও অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করা দ্বারাও সদকাহর নেকী পাওয়া যায়। 

আর উপরোল্লেখিত শারীরিক জোড়াসমূহের জন্য সদকাহর নেকী প্রদানের ক্ষেত্রে শুধু দুই রাকাত “চাশতে”র নামাজ আদায় করলেই সদকাহর নেকী লিখা হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম- ৭২০)

অতএব ঐ ব্যক্তির জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ, যিনি সময় নিয়ে এ নামাজটি আদায় করে নিতে পারেন। এ নামাজ দ্বারা অসংখ্য নেকী অর্জন করতে সক্ষম হবে, আর মহিলারা ঘরেই বেশীর ভাগ সম কাটায়, তাই তারাও এ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে অসংখ্য নেকী লাভ করতে পারে।

ইশরাকের নামাজ- 

খুব কমসংখ্যক মসজিদেই আজকাল এ সুন্নতটির আমল করা হয়। এর কারণ মসজিদের কিছু ইমাম, মুয়ায্যিন ও খাদিম এমন রয়েছেন, যারা চান না কেউ নামাজের পর মসজিদে অবশিষ্ট থাকুক। এই ভয়ে যে, মসজিদে বাজে আড্ডা বা অনর্থক কোন কাজ হতে পারে। এ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে হজ ও উমরাহর পূর্ণ নেকী লাভ করা যায়।

আগের পর্ব পড়তে : হায়াত বৃদ্ধিকারী আমলসমূহ (১ম পর্ব)

সাহাবী আনাস বিন মালিক রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ফজরের নামাজ আদাযের পর সূর্যোদয় পযর্ন্ত বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকবে। অতঃপর সূর্যোদয়ের পর দুই রাকআত নামাজ পড়বে, তার জন্য একটি হজ ও একটি উমরাহর নেকী রয়েছে। যে হজ ও উমরাহ হবে পরিপূর্ণ পরিপূর্ণ পরিপূর্ণ। (সুনানে তিরমিযী- ৩/৬৮, সিলসিলায়ে সহীহাহ্- ৭৪৭)

আপনি যদি খুবই ব্যস্ত থাকেন তাহলে সাপ্তাতিক ছুটির দিনে এ আমলটি করতে পারেন। এভাবে আপনি সপ্তাহে একটি হজ ও উমরাহর নেকী লাভ করতে পারেন। এভাবে মাসে চারটি হজ ও উমরাহ এবং বছরে বায়ান্নটি হজ ও উমরাহ করার সমপরিমাণ নেকী লাভ করতে পারবেন। মহিলারাও ফজরের নামাজের পর তাদের নামাজস্থলে সুর্যোদয় পর্যন্ত বসে জিকির দু’আ করার পর এই দুই রাকআত নামাজ আদায় করলে ঐ নেকী লাভ করতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

সালাতুল আউয়াবীন- 

হাদীসে একই নামাজকে তিনটি নামে উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ব আকাশে সূর্য উঠার সাথে সাথে যে নামাজ পড়া হয় তাকে “সালাতুল ইশরাক” বা ইশরাকের নামাজ বলা হয়। সূর্য আরেকটু উপরে উঠলে (সকাল ৮-১০টায়) যে নামাজ আদায় করা হয় তাকে “সালাতুয জোহা” চাশতের নামাজ বলা হয়। সূর্য আরও উপরে অবস্থানকালে (জোহর নামাজের আউয়াল ওয়াক্তের পূর্বে ১০-১১টায়) যে নামাজ আদায় করা হয় তাকে “সালাতুল আউয়াবীন” বা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনশীল বান্দাদের নামাজ বলা হয়। 

যেমন- সাহাবী যায়েদ ইবনু আরকাম রা. বলেন, তিনি কিছু লোককে চাশতের নামাজ আদায় করতে দেখেন। অতঃপর বলেন, তাদের জানা আছে যে, এই সময়ের চেয়ে অন্য সময়ে পড়া অধিক উত্তম, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সালাতুল আউয়াবীন” তখন পড়বে যখন উটের বাচ্চা রৌদ্রের তাপে ছটপট করবে। (সহীহ মুসলিম- ১৭৮১, মিশকাত- ১৩১২)

অতএব মাগরিবের নামাযের পর “সালাতুল আউয়াবীন” পড়ার প্রমাণে কোন সহীহ দলীল নেই। উক্ত মর্মে যে সকল হাদীস পাওয়া যায় তার সবই জাল হাদিস। সুতরাং জাল ও যঈফ হাদিসের উপর আমল করা পরিত্যাগ করে সহীহ হাদীসের উপর আমল করা একজন নামাজীর কর্তব্য। 

লেখক : মাওলানা আখতারুজ্জামান খালেদ, ইমাম ও খতীব।
 

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড