• শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

আসলেই কি অশুভ ও বালা-মুসিবত এর মাস সফর?

  অধিকার ডেস্ক    ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:৪১

আরবী হিজরী সনের দ্বিতীয় মাস হল সফর মাস। এ মাসকে কেন্দ্র করে অনেক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা মুসলিম সমাজে প্রচলিত রয়েছে। সফর মাসের জন্য কোনো বিশেষ নামাজ নেই এবং রোজাও নেই। এ মাসের কোনো দিনে বা রাত্রে কোনো প্রকার নামায আদায়ে বিশেষ কোনো নেকি বা ফজিলত কোনো হাদিসে বর্ণিত হয়নি। অনুরূপভাবে এ মাসের কোনো দিনে রোজা রাখারও বিশেষ ফজিলতের সহীহ হাদীসও বর্ণিত হয়নি। 
    
এই বিষয়গুলোকে আমরা তিন ভাগে বিভক্ত করব। যথা- 

১- সফর মাসের অশুভ ও বালা-মুসিবত বিষয়ক
২- সফর মাসের নামাজ বিষয়ক
৩- আখেরি চাহার শাম্বাহ বা শেষ বুধবার বিষয়ক

স্থান, সময়, বস্তু বা কর্মকে অশুভ, অযাত্রা, অমঙ্গল বলা বা মনে করা ইসলামী বিশ্বাসেরা ঘোর পরিপন্থী একটি কুসংস্কার। আরবের মানুষেরা জাহিলী যুগ থেকে ‘সফর মাস’ কে অশুভ ও বালা-মুসিবতের মাস বলে বিশ্বাস করত। আল্লাহ তাআলা ও রসূল (সা.) এ কুসংস্কারের প্রতিবাদ করেন। 

আল্লাহ তাআলা বলেন, “মনে রেখো, আল্লাহর কাছে রয়েছে তাদের অশুভ আলামতসমূহের চাবিকাঠি। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই তা বুঝে না। (সূরা আ’রাফ- ১৩১)

অর্থাৎ তাদের কাছে কল্যাণকর এবং ক্ষতিকর ভাল-মন্দ যা কিছুই ঘটে তার সবকিছুই তাকদীর বা ভাগ্যের কারণে। যা আল্লাহর কাছে শিরধার্য। অশুভ বা কুসংস্কারের ধারণা পৌত্তলিকদের বা কাফের মুশরিকদের অন্যতম গুণাবলি। ফলে এটা অবশ্যই নিন্দনীয়। সাহাবী আবু হুরাইরা রাঃ. বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, “ইসলাম ধর্মে ছোঁয়াচে বলতে কোনো রোগ নেই। সফর মাস ও প্যাঁচার ডাকের মধ্যে অশুভ বা অমঙ্গল বলতে কিছু নেই।” (সহীহ বুখারী, হা- ৫৭৫৭, সহীহ মুসলিম, হা- ২২২০)

সাহাবী আনাস রাঃ. বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ইমলামে সংক্রামক ব্যাধি আর অশুভ আলামত বলতে কিছুই নেই। (সহীহ বুখারী, হা- ৫৭৭৬, সহীহ মুসলিম, হা- ২২২৪)

সাহাবী ফযল ইবনে আব্বাস রাঃ. বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, “অশুভ বা কুসংস্কার হচ্ছে এমন জিনিস যা তোমাকে কোনো অন্যায় কাজের দিকে ধাবিত করে অথবা কোনো ন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।” (মুসনাদে আহমদ, হা- ২২/১৭২৭)

সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাঃ. বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, “অশুভ আলামত বা দূর্ভাগ্যের ধারণা যে ব্যক্তিকে তার স্বীয় প্রয়োজনীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে দূরে রাখলো সে মূলত শিরক করল। (মুসনাদে আহমদ, হা- ২৭/২৫৩৪)

অথচ এর পরেও মুসলিম সমাজের অধিকাংশ মুসলমানদের মধ্যে পূববর্তী যুগের এ সকল কুসংস্কার থেকে যায়। এসব কুসংস্কারকে উস্কে দেওয়ার জন্য অনেক বানোয়াট কথা হাদিসের নামে বানিয়ে জালিয়াতগণ প্রচার করেছে। যেমন- সফর মাস আগমনে রাসূল (সা.) ব্যথিত হতেন, সফর মাস চলে গেলে খুশি হতেন। রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আমাকে সফর মাস অতিক্রান্ত হবার সুসংবাদ দিবে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করার সুসংবাদ দিবো। 

এ হাদীস সম্পর্কে হাদীস বিশারদগণ একমত যে, সফর মাসের অশুভত্ব বা কুসংস্কার ও বালা-মুসিবত বিষয়ক সকল হাদীস বানোয়াট, ভিত্তিহীন,ও মিথ্যা। (ইমাম শাওকানী, আল-ফাওয়াইদ-২/৫৩৯, নিযামউদ্দীন আওলিয়া, রাহাতুল মুহিব্বীন- ১০১ পৃ, রাহাতুল কুলূব- ১৩৮ পৃ)

কিন্তু অনেক সরল প্রাণ মুসলমান ও বুযুর্গ তাদের এ সকল জালিয়াতিতে বিশ্বাস করেছিলেন ও প্রচার করেছিলেন।

লেখক : মাওলানা আখতারুজ্জামান খালেদ, সাবেক ইমাম ও খতীব, দুপ্তারা, কুমারপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ। 
 

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড