• শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনা : সতর্কতার পাশাপাশি যেসব আমল করা দরকার

  মুনশি আমিনুল ইসলাম

২২ মার্চ ২০২০, ১০:৫৭
ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও বিস্তার ঘটেছে এ ভাইরাসের। এ অবস্থায় করোনার সংক্রমণ এবং বিস্তার ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতা এবং সচেতনতার কথা বলা হচ্ছে। এ ভাইরাস থেকে বাঁচতে সতর্কতা-সচেতনতার পাশাপাশি কুরআন-হাদিসে বর্ণিত আমলগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পালনের জন্য আলেমদের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

১. সর্বপ্রথম নিজের ঈমান-আমলকে সংশোধন করা। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন-

وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهْلِكَ الْقُرَى بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا مُصْلِحُونَ

অর্থ : আর আপনার রব এমন নন যে, তিনি জনপদসমূহকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন অথচ তার অধিবাসীরা সৎকর্মে লিপ্ত রয়েছে। (সুরা হুদ :১১৭)

২. আকিদা সহিহ করা। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন-

قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ

অর্থ: হে নবি! আপনি বলে দিন, আল্লাহ আমাদের জন্য (তাকদিরে) যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া অন্য কোনো কষ্ট আমাদেরকে কিছুতেই স্পর্শ করবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক। আর আল্লাহর ওপর মুমিনদের ভরসা করা উচিত। (সুরা তওবা :৫১)

কাজেই যে কোনো বালা-মুসিবত ও মহামারিতে মুমিন বান্দার প্রথম কাজ হলো নিজের আকিদা-বিশ্বাস দৃঢ় করা যে, আল্লাহ যদি আমার তাকদিরে লিখে রাখেন তবে তা কোনোভাবেই আটকানো সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে আল্লাহই আমাকে সুস্থতা দান করবেন, মারা গেলে শহিদের মর্যাদা তথা বিনা হিসেবে জান্নাত দান করবেন। আর যদি আমার তাকদিরে এ রোগ না লিখে থাকেন, তবে এ রোগ আমার কখনো হবে না। এর পাশাপাশি এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, করোনা ভাইরাসসহ কোনো রোগ ছোঁয়াচে রোগ নয়। বরং মহান আল্লাহ তাকদিরে রেখেছেন- এ জন্য হয়েছে। সহিহ হাদিসে ইরশাদ হয়েছে-নবিজি (সা.) বলেন, ‘ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই!’ তখন এক সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন যে, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমরা একটি খুজলিযুক্ত বকরি অন্যান্য (সুস্থ) বকরির মাঝে রেখে দিলে সেগুলোও তো খুজলি রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়! নবিজি বললেন, ‘তাহলে প্রথম বকরিটি কী কারণে আক্রান্ত হলো?’ অর্থাৎ প্রথম বকরিটি যেভাবে আল্লাহর হুকুমে আক্রান্ত হয়েছে, তেমনি অন্যগুলোও আল্লাহর হুকুমে আক্রান্ত হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৩০৩১)

৩. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা তথা আল্লাহর কাছে নিজ গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন-

وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ

অর্থ : এবং (হে নবি!) আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে বর্তমান থাকা অবস্থায় তাদের শাস্তি দেবেন এবং তিনি এমনও নন যে, তারা ইস্তিগফারে রত থাকা অবস্থায় তাদের শাস্তি দেবেন। (সুরা আনফাল :৩৩)

৪. এ দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা-

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

অর্থ : (হে আল্লাহ!) আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আপনি সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অপরাধী। (সুরা আম্বিয়া :৮৭)

৫. বাদ ফজর ও বাদ মাগরিব তিনবার নিম্নোক্ত দোয়া দুটি পড়া-

بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

অর্থ : আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে আসমান ও জমিনে কোনো বস্তু ক্ষতিসাধন করতে পারে না। আর তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী! (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৪৪৬)

أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق

অর্থ : আমি আল্লাহর কাছে তার পরিপূর্ণ ‘কালেমা’র মাধ্যমে সকল সৃষ্টিজীবের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৭৮৯৮)

৬. নিম্নোক্ত দোয়া বেশি বেশি পাঠ করা-

اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الْأَسْقَامِ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি শ্বেত রোগ, উম্মাদনা, কুষ্ঠ রোগ এবং সকল প্রকার দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১৩০০৪)

৭. দিনে যে কোনো সময়ে সুরা ফাতিহা তিনবার, সুরা ইখলাস তিনবার এবং নিম্নোক্ত দোয়া ৩১৩ বার পড়া-

حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

অর্থ : আল্লাহ তায়ালাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তিনি অতি উত্তম অভিভাবক। (সুরা আলে ইমরান :১৭৩)

৮. দিনে যে কোনো সময়ে নিজ পরিবারে সম্মিলিতভাবে সিরাতুন্নবির (সা.) নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবের তালিম করা। এটা খুব পরীক্ষিত আমল। নিকট অতীতে হিন্দুস্তানে একবার এক মহামারি দেখা দেয়। তখন হযরত আশরাফ আলী থানভি (রহ.) এ মহামারি থেকে বাঁচার জন্য ‘নাশরুত তীব’ নামে সিরাতগ্রন্থ লেখা শুরু করেন। এর বরকতে আল্লাহ তায়ালা মহামারি উঠিয়ে নেন!

নির্ভরযোগ্য সিরাতের কিতাব যেমন: সাইয়্যেদ আবুল হাসান নদবি (রহ.) রচিত ‘নবীয়ে রহমত’ (বাংলা), মুফতি শফি (রহ.) কৃত ‘সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া সা. (বাংলা)। তাই আসুন, আতঙ্ক নয় সতর্ক হই। সচেতন হই, গুনাহ বর্জন করি।

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড