• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রজব মাসের করণীয় ও বর্জনীয়

শবে মেরাজের রোজা কতটুকু শরিয়তসম্মত?

  মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

১৭ মার্চ ২০২০, ১৭:২৯
ইসলাম
ছবি : প্রতীকী

রজব মাসকেন্দ্রিক প্রচলিত আমলসমূহের অন্যতম হলো ‘রজব মাসের বিশেষ রোজা’। বিশেষ করে শবে মেরাজের রোজা। সাধারণভাবে রমজান মাসের প্রস্তুতি হিসেবে রজব ও শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা পালন করার ব্যাপারে সালাফদের থেকে অসংখ্য বর্ণনা পাওয়া যায়। আর পবিত্র মাসগুলোতে রোজা রাখার ব্যাপারে আমভাবে নবিজি (সা.) বলেছেন, ‘পবিত্র মাসগুলোতে নফল রোজা রাখো এবং পরিত্যাগও করো।’ [আবু দাউদ : ২৪২০]

যেহেতু রজব মাসও পবিত্র মাসগুলোর অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং এ মাসে আমভাবে নফল রোজা রাখাতে দোষের কিছু নেই, বরং মুস্তাহাব একটি আমল। কিন্তু এ মাসে কোনো নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ নির্ধারণ করে রোজা পালন করার ব্যাপারে সালাফদের থেকে কোনো কিছু বর্ণিত হয়নি। বরং এ ব্যাপারে বর্ণিত সমস্ত হাদিসই দুর্বল ও মনগড়া।

ইমাম ইবনু হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন,

لَمْ يَرِدْ فِىْ فَضْلِ شَهْرِ رَجَبَ ، وَلَا فِىْ صِيَامِه، وَلَا فِىْ صِيَامِ شَيْئٍ مِنْهُ مُعَيَّنٌ ، وَلَا فِىْ قِيَامِ لَيْلَةٍ مَخْصُوْصَةٍ فِيْهِ حَدِيْثٌ صَحِيْحٌ يُصْلِحُ لِلْحُجَّةِ

‘রজব মাসের ফজিলত এবং সে মাসে রোজা রাখার ফজিলত বর্ণনায় অথবা এ মাসের কোনো নির্দিষ্ট দিনে রোজা রাখা বা রাত্রি জাগরণ সম্পর্কে দলিল উপস্থাপনের উপযুক্ত কোনো সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়নি।’ [তাবয়িনুল উজব, পৃ. ১১]

ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন,

كل حديث في ذكر صيام رجب وصلاة بعض الليالي فيه فهو كذب مفترى

‘রজব মাসে রোজা রাখা ও নফল নামাজ পড়ার ব্যাপারে যে ক’টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে তার সব ক’টি মিথ্যা।’ [আল-মানারুল মুনিফ, পৃ. ৯৬]

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন,

وأما صوم رجب بخصوصه فأحاديثه كلها ضعيفة ، بل موضوعة ، لا يعتمد أهل العلم على شيء منها ، وليست من الضعيف الذي يروى في الفضائل ، بل عامتها من الموضوعات المكذوبات …وفي المسند وغيره حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أمر بصوم الأشهر الحرم : وهي رجب وذو القعدة وذو الحجة والمحرم . فهذا في صوم الأربعة جميعا لا من يخصص رجبا

‘রজব মাসে রোজা রাখা সংক্রান্ত সবগুলো হাদিস দুর্বল; বরঞ্চ বানোয়াট। আলেমগণ এর কোনোটির ওপর নির্ভর করেন না। ফজিলতের ক্ষেত্রে যে মানের দুর্বল হাদিস বর্ণনা করা যায় এগুলো সে মানেরও নয়। বরং এ সংক্রান্ত সবগুলো হাদিস বানোয়াট ও মিথ্যা। মুসনাদে আহমাদ ও অন্যান্য হাদিসগ্রন্থে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হারাম মাসসমূহে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। হারাম মাসগুলো হচ্ছে- রজব, জিলকদ, জিলহজ, মুহাররম। এ চারটি মাসের ব্যাপারেই ব্যাপকার্থে হাদিস এসেছে। বিশেষভাবে শুধু রজব মাসের ব্যাপারে নয়।’ [মাজমুয়ুল ফাতাওয়া : ২৫/২৯০; সংক্ষেপিত]

সাইয়েদ সাবেক (রহ.) বলেন, ‘অন্য মাসগুলোর উপর রজব মাসের বিশেষ কোনো ফজিলত নেই। তবে এটি হারাম মাসসমূহের একটি। এ মাসে রোজা রাখার বিশেষ কোনো ফজিলত কোনো সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়নি। বিশেষ যে ক’টি বর্ণনা রয়েছে এর কোনোটিই দলিল হিসেবে গ্রহণ করার উপযুক্ত নয়।’ [ফিকহুস সুন্নাহ : ১/৩৮৩]

শাইখ উসাইমিনকে ২৭ শে রজব রাত্রি জাগরণ ও পরদিন সিয়াম পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে জবাবে তিনি বলেন, ‘বিশেষ মর্যাদা সহকারে ২৭ শে রজব সিয়াম ও কিয়াম পালন করা বিদয়াত। আর প্রত্যেক বিদয়াতই পথভ্রষ্টতা।’ [মাজমুয়ু ফাতাওয়াশ শাইখ উসাইমিন : ২০/৪৪০]

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড