• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দুনিয়ার জীবনের বাস্তবতা

  মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

১৬ মার্চ ২০২০, ১৯:২২
ইসলাম
ছবি : প্রতীকী

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

﴿وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَاۤ اِلَّا لَعِبٌ وَّلَهْوٌؕ وَلَلدَّارُ الْاٰخِرَةُ خَيْرٌ لِّلَّذِيْنَ يَتَّقُوْنَؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ﴾

পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতীত আর কিছুই নয়। সুতরাং যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম; তোমরা কি তা অনুধাবন কর না? [সুরা আনয়াম : ৩২]

﴿وَمَا هٰذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَاۤ اِلَّا لَهْوٌ وَّلَعِبٌؕ وَاِنَّ الدَّارَ الْاٰخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوَانُۘ لَوْ كَانُوْا يَعْلَمُوْنَ﴾

এ পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। নিশ্চয় পরকালের জীবনই প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত! [সুরা আনকাবুত : ৬৪]

পরকালের চিরন্তন জীবনের তুলনায় দুনিয়ার এ জীবন ঠিক তেমনি, যেমন কোন ব্যক্তি কিছুক্ষণ খেলাধুলা করে আনন্দ লাভ করে; তারপর তার আসল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোনিবেশ করে। তাছাড়া একে খেলাধুলার সাথে তুলনা করার কারণ হচ্ছে, এখানে প্রকৃত সত্য গোপন থাকার ফলে যারা ভেতরে দৃষ্টি না দিয়ে শুধুমাত্র বাইরের অংশটুকু দেখতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য বিভ্রান্তির শিকার হওয়ার বহু কারণ বিদ্যমান রয়েছে। এসব বিভ্রান্তির শিকার হয়ে মানুষ প্রকৃত সত্যের বিরুদ্ধে এমনসব অদ্ভূত কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করে, যার ফলে তাদের জীবন নিছক একটি খেলা ও তামাশার বস্তুতে পরিণত হয়। যে ব্যক্তি এ পৃথিবীতে রাজার আসনে বসে তার মর্যাদা আসলে নাট্যমঞ্চের সেই কৃত্রিম রাজার চেয়ে মোটেই ভিন্নতর নয়, যে সোনার মুকুট মাথায় দিয়ে সিংহাসনে বসে এবং এমনভাবে হুকুম চালাতে থাকে, যেন সে সত্যিকারের একজন বাদশাহ। অথচ প্রকৃত বাদশাহির সামান্যতম নামগন্ধও তার মধ্যে নেই। দুনিয়ার মাত্র কয়েকদিনের জীবনেই এসব অভিনয় চলছে। মৃত্যুর মুহূর্ত আসার সাথে সাথে এক নিমিষে এ অভিনয় বন্ধ হয়ে যাবে। এ জীবনের সীমান্ত পার হওয়ার সাথে সাথেই মানুষ এমন এক জগতে পৌঁছে যাবে, যেখানে এ দুনিয়ার জীবনের আবরণ খুলে দিয়ে মানুষকে দেখিয়ে দেয়া হবে যে, সে কী নিয়ে এসেছে। অতঃপর সত্যের মানদণ্ডে পরিমাপ করে তার মান নির্ধারণ করা হবে। যদি তারা এ কথা জানতে পারত যে, এ দুনিয়ার জীবন একটি পরীক্ষার অবকাশ মাত্র। মানুষের জন্য আসল জীবন হচ্ছে পরকালের জীবন, যা চিরস্থায়ী হবে। তাহলে তারা এ পরীক্ষার সময়কালকে খেল-তামাশায় নষ্ট না করে এমনসব কাজে ব্যবহার করত, যা তাদের পরকালের স্থায়ী জীবনকে সুখময় করে তুলত।

দুনিয়া হচ্ছে ধোঁকা

﴿وَذَرِ الَّذِيْنَ اتَّخَذُوْا دِيْنَهُمْ لَعِبًا وَّلَهْوًا وَّغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا﴾

যারা তাদের দীনকে খেল-তামাশা হিসেবে গ্রহণ করে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে প্রতারিত করে, তুমি তাদের সঙ্গ বর্জন করো। [সুরা আনয়াম : ৭০]

اَلْغَرُوْرُ (আল গারুর) অর্থ প্রতারক। এখানে اَلْغَرُوْرُ বলতে শয়তানও হতে পারে, আবার একদল মানুষও হতে পারে, মানুষের মন ও প্রবৃত্তিও হতে পারে এবং অন্য কোন জিনিসও হতে পারে। কোন বিশেষ ব্যক্তি বা বিশেষ বস্তু নির্ধারণ না করে বহুমুখী অর্থের অধিকারী এ শব্দটিকে ব্যবহার করার কারণ হচ্ছে, বিভিন্ন প্রকার লোকের কাছে প্রতারিত হওয়ার কারণ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি যে উপায়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে তা-ই তার জন্য ‘গারুর’ বা প্রতারক। কাউকে তার প্রতারক এ নিশ্চয়তা দেয় যে, আল্লাহ বলতে কিছুই নেই। আবার কাউকে এ ভুল ধারণা দেয় যে, আল্লাহর এমন কিছু প্রিয় ব্যক্তি আছে, যাদের নৈকট্য অর্জন করলে তুমি যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারবে। তুমি নিশ্চিতভাবেই ক্ষমার অধিকারী হবে। কাউকে এভাবে প্রতারণা দেয় যে, আল্লাহ তো ক্ষমাশীল ও করুণাময়। সুতরাং তুমি পাপ করতে থাকো, তিনি ক্ষমা করে যেতেই থাকবেন। আবার কারো মনে এ ভুল ধারণা সৃষ্টি করে দেয় যে, তুমি যত খারাপ কাজ কর সব আল্লাহই করান। ভালো কাজ করার তাওফিক তিনি তোমাদেরকে দেন না। যদি বিশ্লেষণ করে দেখা হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকটি গোনাহ ও অপরাধের মূল কারণ হিসেবে দেখা যাবে যে, মানুষ আল্লাহর ব্যাপারে কোন না কোনভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এর ফলেই তার বিশ্বাসে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে এবং সে নৈতিক চরিত্রহীনতার শিকার হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেন,

﴿وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا﴾

বস্তুত পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছিল। [সুরা আনয়াম : ১৩০]

দুনিয়ার জীবন স্থূলদর্শী লোকদেরকে নানা রকম ভুল ধারণায় নিমজ্জিত করে। কেউ মনে করে, বাঁচা-মরা শুধুমাত্র এ দুনিয়ায় সীমাবদ্ধ, এরপর দ্বিতীয় কোন জীবন নেই। কেউ ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও প্রাচুর্যের নেশায় মত্ত হয়ে নিজের মৃত্যুর কথা ভুলে যায় এবং এ ভুল ধারণা পোষণ করে যে, তার আরাম-আয়েশ ও কর্তৃত্ব চিরস্থায়ী, এর কোন ক্ষয় নেই। কেউ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে কেবলমাত্র বৈষয়িক লাভ ও স্বাদকে জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য মনে করে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যকে গুরুত্বই দেয় না। কেউ মনে করে বৈষয়িক সমৃদ্ধিই ন্যায়-অন্যায় ও সত্য-মিথ্যার আসল মানদণ্ড। এ সমৃদ্ধি যে পথেই অর্জিত হবে তা-ই সত্য এবং এর বিপরীত সবকিছুই মিথ্যা। কেউ এ সমৃদ্ধিকেই আল্লাহর নিকট অনুগ্রহভাজন হওয়ার আলামত হিসেবে মনে করে। এর ফলে সে সাধারণভাবে মনে করতে থাকে, যে কোন উপায়েই হোক একজন লোক বিপুল সম্পদের অধিকারী হতে পারলেই সে আল্লাহর প্রিয়পাত্র। এ ধরনের যত প্রকার ভুল ধারণা আছে সবগুলোই আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার জীবনের প্রতারণা বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড