• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রজব মাসের করণীয় ও বর্জনীয়

রজব মাসের বিশেষ নামাজ : সুন্নাত নাকি বিদয়াত?

  মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

১৬ মার্চ ২০২০, ১৭:০৭
ইসলাম
ছবি : প্রতীকী

রজব মাসকেন্দ্রিক উদযাপিত বিদয়াতসমূহ

রজব মাসকে কেন্দ্র করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অথবা সাহাবা আজমাইন থেকে নির্দিষ্ট কোন আমল প্রমাণিত না থাকা সত্ত্বেও আমাদের সমাজে নানা ধরনের আমল প্রচলন রয়েছে। যেমন, সালাতুর রাগায়েব নামে বিশেষ পদ্ধতির সালাত আদায়, শবে মেরাজের রোজা পালন, মিলাদ মাহফিলের আয়োজন, রাত্রি জাগরণ, আনন্দোৎসব পালন, শিরনি বিতরণ, ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন, খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন, মসজিদ সজ্জিতকরণ ইত্যাদি।

যেহেতু এ মাসকে কেন্দ্র করে ইসলামে বিশেষ কোন আমলের উল্লেখ নেই, সুতরাং এসবই বিদয়াতি আমল হিসেবে গণ্য হবে। নিম্নে এ মাসে উদযাপিত কিছু আমলের পর্যালোচনা উপস্থাপন করা হলো :

সালাতুর রাগায়েব রজব মাসের প্রথম জুমার রাতকে আমাদের সমাজে লাইলাতুর রাগায়েব নামে নামকরণ করা হয়েছে। এ রাতে অন্যান্য রুসমের সাথে সাথে বিশেষ পদ্ধতির ‘সালাতুর রাগায়েব’ও আদায় করা হয়ে থাকে। সাধারণত রজব মাসের প্রথম জুমার রাতে, মাগরিব ও ইশার মাঝামাঝি, ১২ রাকাত করে এটি আদায় করা হয়। এটি সর্বপ্রথম চালু হয়েছিল ৪৮০ হিজরি সনে, ফিলিস্তিনে।

অথচ ইসলামে এ রাতের বিশেষ কোনো ফজিলত কিংবা আমল-ইবাদতের কথা বর্ণিত হয়নি। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, শ্রেষ্ঠ তিনপ্রজন্ম কিংবা পরবর্তী ইমামগণ কেউই এটি করেছেন মর্মে কোন বর্ণনা নেই। আর এমনিতেই যেখানে জুমার রাতকে বিশেষভাবে নফল নামাজের নির্ধারণ করা মাকরুহ, সেখানে রজব মাসের প্রথম জুমার রাতে এধরনের বিশেষ কোন নামাজের বৈধতার তো প্রশ্নই আসে না। ইমাম ইবনু মুফলিহ (রহ.) বলেন,

النهي عن تخصيص ليلة الجمعة بصلاة، وهو متفق على كراهته، قال: واحتج به العلماء على كراهة صلاة الرغائب

‘জুমার রাতকে বিশেষভাবে নফল নামাজের জন্য নির্ধারণ করা সমস্ত আলেমদের নিকটই মাকরুহ। আর এখান থেকেই আলেমরা ‘সালাতুর রাগায়েব’ মাকরুহ হবার ব্যাপারে দলিল পেশ করেছেন।’ [আল-ফুরু, পৃ. ১২২-১২৩]

ইমাম মুসলিম (রহ.) বলেছেন,

الصلاة المعروفة بصلاة الرغائب وهي ثنتا عشرة ركعة تصلى بين المغرب والعشاء ليلة أول جمعة في رجب , وصلاة ليلة نصف شعبان مائة ركعة وهاتان الصلاتان بدعتان ومنكران قبيحتان ولا يغتر بذكرهما في كتاب قوت القلوب , وإحياء علوم الدين ولا بالحديث المذكور فيهما فإن كل ذلك باطل ، ولا يغتر ببعض من اشتبه عليه حكمهما من الأئمة فصنف ورقات في استحبابهما فإنه غالط في ذلك , وقد صنف الشيخ الإمام أبو محمد عبد الرحمن بن إسماعيل المقدسي كتابا نفيسا في إبطالهما فأحسن فيه وأجاد رحمه الله

‘সালাতুর রাগায়েব নামে পরিচিত রজব মাসের প্রথম জুমার রাতে মাগরিব ও ইশার মাঝে আদায়কৃত ১২ রাকাত নামাজ এবং অর্ধ শাবানে আদায়কৃত ১০০ রাকাত নামাজ এ দু’টোই নিকৃষ্ট, জঘন্য বিদয়াত। ‘কুতুল কুলুব’ কিংবা ‘ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন’ কিতাবে এসব নামাজের উল্লেখ থাকা কিংবা উপরোক্ত কিতাবদ্বয়ে উল্লেখিত এ সম্পর্কিত হাদিস দ্বারা কেউ যেন বিভ্রান্ত না হয়। কারণ এ সংক্রান্ত সমস্ত বর্ণনায় বাতিল। অনুরূপভাবে কোন কোন আলেমের কাছে এ নামাজের বিধান অস্পষ্ট থাকার কারণে এ নামাজ মুস্তাহাব মর্মে কয়েকপাতার যে কিতাব লিখেছেন সেটা দ্বারাও কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। কারণ তিনি তাতে ভুল করেছেন। ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসি এ নামাজকে বাতিল সাব্যস্ত করে একটি মূল্যবান কিতাব লিখেছেন। তাতে তিনি এ ব্যাপারে খুব সুন্দর ও বিস্তারিত লিখেছেন।’ [আল-মাজমু : ৩/৫৪৮]

ইমাম ইবনু আবিদিন শামি (রহ.) লিখেছেন,

ومن هنا يعلم كراهة الاجتماع على صلاة الرغائب التي تفعل في رجب في أولى جمعة منه وأنها بدعة

‘উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে জানা যায় যে, রজব মাসের প্রথম জুমাবার পালনকৃত সালাতুর রাগায়েব আদায় করার জন্য একত্রিত হওয়া গর্হিত বিদয়াত।’ [আল-হাশিয়া : ২/২৬]

মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ (২২/২৬২) গ্রন্থে এসেছে, ‘হানাফি ও শাফিয়ি মাজহাবের আলেমগণ দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেছেন যে, রজব মাসের প্রথম জুমাবার সালাতুর রাগায়েব পড়া ও অর্ধ শাবানের রাতে বিশেষ পদ্ধতিতে ও বিশেষ সংখ্যক রাকাতে নামাজ আদায় করা গর্হিত বিদাত…।’

২৭ রজব তথা শবে মেরাজের রাত্রিতেও (যদিও এ রাতে মেরাজ হওয়ার মতটি বিশুদ্ধ নয়) এটি বিশেষভাবে আদায় করা হয়ে থাকে। অথচ ইসলামে এর কোন ভিত্তি নেই। কিছু জাল হাদিসের ভিত্তিতে একদল বিদয়াতি লোক এসব পালন করে থাকে। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন,

صَلَاةُ الرَّغَائِبِ بِدْعَةٌ بِإِتِّفَاقِ اَئِمَّةِ الدِّيْنِ لَمْ يُسَنَّهَا رَسُوْلُ اللهِ وَلَا أَحَدٌ مِّنْ خُلَفَائِه وَلَا أسْتَحَبَّهَا أَحَدٌ مِّنْ أَئِمَّةِ الدِّيْنِ كَمَالِكٍ وَالشَّافِعِيْ وَأَحْمَدَ وَأَبِيْ حَنِيْفَةَ وَالثَّوْرِىِّ وَالْأَوْزَاعِىْ وَاللَّيْثِ وَغَيْرِهِمْ وَالْحَدِيْثُ الْمَرْوِيُّ فِيْهَا كَذِبٌ بِإِجْمَاعِ أَهْلِ الْمَعْرِفَةِ بِالْحَدِيْثِ

‘সমস্ত ইমামের ঐকমত্যে সালাতুর রাগায়েব বিদয়াত। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা তার কোন খলিফার মধ্যে কেউই এটা চালু করেননি। ইমামদের মধ্য হতে কোন ইমাম যেমন ইমাম মালিক, শাফিয়ি, আহমাদ, আবু হানিফা, সাওরি, আওযায়ি, লাইস কেউই এটা পছন্দ করেননি। আর এ সম্পর্কিত যে হাদিসগুলো বর্ণনা করা হয় সেগুলো মুহাদ্দিসগণের ঐক্যমতে মিথ্যা ও বানোয়াট। [মাজমুয়ুল ফাতাওয়া : ২৩/১৩৪]

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড