• মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মুরাদ হফম্যান : এক শক্তিমান চিন্তকের বিদায়

  মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

১৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:৫৫
ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

ড. মুরাদ উইলফ্রেড হফম্যান। জন্মেছেন ১৯৩১ সালে, জার্মানির অ্যাশচাফেনবার্গে, এক ক্যাথলিক খ্রিস্টান পরিবারে। বেড়ে ওঠা জার্মানিতেই। পড়াশোনা করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন জার্মানির মিউনিখ ইউনিভার্সিটি থেকে, ১৯৫৭ সালে। 

মুরাদ হফম্যান ছিলেন একজন কূটনীতিক এবং শক্তিমান লেখক। ১৯৬১ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে জার্মানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ন্যাটোর তথ্য পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। 

১৯৮০ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। জার্মান সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার কারণে তার ইসলাম গ্রহণ বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলে। মূলত আলজেরিয়ায় জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সেখানকার মুসলিমদের বৈপ্লবিক জীবনাচারের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। একদিকে ইসলামের উন্নত আদর্শ তাকে বিমোহিত করে, অপর দিকে পৌলীয় খ্রিস্টবাদের অসঙ্গতি তার সামনে ফুটে ওঠে। ত্রিত্ববাদ, যীশুর ঈশ্বরত্ব, আদিপাপ, খ্রিস্টীয় পাপমুক্তির ধারণা সম্পর্কে তিনি আগেই অবিশ্বাসী ছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেন। তিনি মনে করেন, ইসলাম গ্রহণ করে তিনি যেন তার শেকড়েই ফিরে গেছেন। এখানেই জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন। 

ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ইসলাম সম্পর্কে গভীর অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন। একপর্যায়ে তিনি বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রচার, প্রসার ও ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানান প্রশ্নের যৌক্তিক ও তাত্ত্বিক উত্তর দিতে থাকেন। এ সময় তিনি বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই রচনা করেন। যার মধ্যে ‘ইসলাম : দ্য অল্টারনেটিভ (১৯৯২), ‘জার্নি টু মক্কা’ (১৯৯৬), ‘তৃতীয় সহস্রাব্দে ইসলাম’ (২০০০) অন্যতম। তার রচনার প্রধান দিক হলো পাশ্চাত্যের বাস্তবতায় ইসলামকে তোলে ধরা এবং ইসলামকেই নব্য এ জাহিলি সভ্যতার বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা।

বিংশ শতাব্দিতে যে কজন শক্তিমান চিন্তাবিদ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ইসলামকে বিশ্বসভায় উপস্থাপন করেছেন এবং পশ্চিমা জ্ঞানতাত্ত্বিক আগ্রাসনকে রুখে দাঁড়িয়েছেন মুরাদ হফম্যান তাদের অন্যতম। themuslim500.com তাকে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ জন মুসলিমের মধ্যে একজন বলে উল্লেখ করেছে। 

তবে ড. মুরাদ অমুসলিমদের সাথে আন্তঃধর্মীয় সম্মিলনে বিশ্বাসী ছিলেন। আদর্শিকভাবে খ্রিস্টানদের সঙ্গে ঐক্যের প্রস্তাবনা পেশ করেছিলেন তিনি। এ ব্যাপারটি তাকে ট্র্যাডিশনাল স্কলারদের কাছে কিছুটা বিতর্কিত করেছিল। এরপরও মুসলিম উম্মাহ গত তিনদশক ধরে তার রচনাবলি, লেকচার, টিভি সাক্ষাৎকার থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে এবং হচ্ছে। 

গতকাল মঙ্গলবার ৮৯ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এ মহামনীষী ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুতে মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বব্যাপী আলিম-উলামা, বুদ্ধিজীবী ও স্কলারগণ শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড