• বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধর্ষণ বন্ধে চাই ইসলামি আইন

  মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

১৩ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৩০
ইসলাম
ছবি : প্রতীকী

মহামারির মতো বেড়ে চলেছে ধর্ষণ। পত্রিকার পাতা উল্টালেই ভেসে ওঠছে ধর্ষিতার নির্মম ছবি। যুবতীর পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন পৌঢ় বৃদ্ধা, এমনকি ২ বছর বয়সী ফুটফুটে শিশু পর্যন্ত। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এক হাজার ৪১৩জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন৷ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ৭৩২জন৷ অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে দ্বিগুণ৷ আবার ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭৬জনকে৷ আর আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ১০জন নারী৷[১]

মনে রাখতে হবে যে, এই পরিসংখ্যানের ভিত্তি হলো সেইসব ঘটনার উপর, যা পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে, কিংবা গ্রাম আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ধর্ষণের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা বর্তমানে প্রায় অসম্ভবই বলা চলে। যা দেশ-জাতির জন্য সত্যিই লজ্জাজনক ব্যাপার। এ কারণেই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাহলে কি আমাদের প্রিয় জন্মভূমি ধর্ষণের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হতে যাচ্ছে?

অনেকে অনেক সমাধানের কথা বলছেন। অনেক তত্ত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু বরাবরই এসব তত্ত্বকথা তত্ত্বেই আটকে আছে। বাস্তবতার মুখ দেখছে না। সফলতা বয়ে আনতে পারছে না। আর আদৌ এসব তত্ত্ব কোনো স্থায়ী সমাধান পেশ করতে পারেও না। একমাত্র বিশ্বজগতের রব, মানুষের স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালাই পারেন মানবজীবনের সকল সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান দিতে। আল্লাহর নাজিলকৃত আইনেই রয়েছে মানবতার মুক্তি, শান্তি ও সমৃদ্ধি।

ধর্ষণ প্রতিরোধে ইসলামি শরিয়াহ প্রথমত ধর্ষণে উৎসাহিত করে সমাজে এমনসব উপায়-উপকরণ হারাম তথা অবৈধ ঘোষণা করেছে। ধর্ষণ বন্ধে সহায়ক (যেমন, বিয়ে, বৈধভাবে সংসারযাপন) পন্থাগুলোর বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَلاَ تَقْرَبُواْ الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاء سَبِيلاً ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’[২]

এ আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ইসলাম শুধু ধর্ষণ, ব্যভিচারকেই নিষিদ্ধ করেনি, বরং এগুলোতে উৎসাহ প্রদান করে এমন সমস্ত চোরাপথ ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের সমাজের বুদ্ধিজীবীগণ ধর্ষণ বন্ধের নানান ফর্মুলা দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ধর্ষণের রাস্তাগুলো বন্ধ করার পরিবর্তে সেগুলো আরও উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন। এভাবে আদৌ কোনদিন ধর্ষণ বন্ধ হতে পারে না। আর ধর্ষণ হয়ে গেলে সে ব্যাপারেও ইসলাম কঠোর বিধান রেখেছে। নিতান্তই অজ্ঞতাবশত: অভিজিৎ রায় গংরা ইসলামে ধর্ষণের কোনো শাস্তি নেই বলে প্রচার করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এসব তাদের প্রথাগত ইসলামবিদ্বেষ ছাড়া আর কিছুই না। আসুন আমরা ধর্ষণের শাস্তির ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা জেনে নিই—

ইসলামে ধর্ষণকে একটি গুরুতর যৌন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। মুসলিম-অধ্যুষিত অনেক দেশেও ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আছে। যেহেতু ধর্ষণও একপ্রকার ব্যভিচার, তাই ব্যভিচারের শাস্তিই ধর্ষণের শাস্তি। তবে পার্থক্য হলো, ব্যভিচারের ক্ষেত্রে উভয়ের উপর শাস্তি প্রয়োগ করা হয়, আর ধর্ষণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ধর্ষকের উপর শাস্তি প্রয়োগ করা হয়।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর যুগে এক মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে রাসুল (সা.) মহিলাকে কোনরূপ শাস্তি দেননি, কিন্তু ধর্ষণকারীর উপর হদ (ব্যভিচারের শাস্তি) প্রয়োগ করেন।[৩]

একবার জনৈক ব্যক্তি এক কুমারী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং এর ফলে মহিলাটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। লোকজন ধর্ষণকারীকে আবু বকর (রা.) এর খিদমাতে উপস্থিত করলে সে ব্যভিচারের কথা অকপটে স্বীকার করে। লোকটি বিবাহিত ছিল না। তাই আবু বকর (রা.) লোকটিকে ১০০ বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেন। এরপর তাকে মদিনা থেকে ফাদাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়।[৪]

সুতরাং ধর্ষণকারীর শাস্তি ব্যভিচারকারীর শাস্তির অনুরূপ। আর তা হচ্ছে—অবিবাহিত ধর্ষকের জন্য ১০০ বেত্রাঘাত এবং নির্বাসন, আর বিবাহিত ধর্ষকের জন্য ‘রজম’ তথা পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু। তবে মনে রাখতে হবে, ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণের জন্য ৪ জন সাক্ষী আবশ্যক। তা না হলে অনেক সময় নিরাপরাধ ব্যক্তি শাস্তি পেতে পারে। যদি সাক্ষী না পাওয়া যায়, তাহলে ডিএনএ টেস্টসহ আধুনিক বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে ধর্ষককে শাস্তি দেয়া যেতে পারে।[৫]

এক্ষেত্রে ধর্ষিতাকে মোটেও দোষী করা হবে না এবং তাকে কোন প্রকার শাস্তি দেয়া হবে না। বরং একজন নারীকে যদি কোনো লম্পট ধর্ষণের চেষ্টা চালায় তবে তার পূর্ণ অধিকার আছে নিজেকে রক্ষা করার। এই আত্মরক্ষা তার জন্য ফরজ। এমনকি এ জন্য যদি কোন নারী ধর্ষণে উদ্যত ব্যক্তিকে হত্যাও করেন, তবুও এ জন্য তিনি দোষী গণ্য হবেন না। ইমাম ইবনু কুদামা (রহ.) বলেছেন, যে নারীকে কোন পুরুষ ভোগ করতে উদ্যত হয়েছে ইমাম আহমাদ (রহ.) এমন নারীর ব্যাপারে বলেন, ‘আত্মরক্ষা করতে গিয়ে সে নারী যদি তাকে মেরে ফেলে... যদি সে নারী জানতে পারেন যে, এ ব্যক্তি তাকে ভোগ করতে চাচ্ছে এবং আত্মরক্ষার্থে তিনি তাকে মেরে ফেলেন তাহলে সে নারীর উপর কোন দায় বর্তাবে না।’[৬]

তথ্যসূত্র

[১] ডয়চে ভেলে (বাংলা) – ০৪.০১.২০২০ ইং [২] সুরা বনি-ইসরাঈল, ১৭ : ৩২ [৩] ইবনু মাজাহ, আসসুনান, হাদিস নং ২৫৯৮ [৪] মালিক, আলমুওয়াত্তা, হাদিস নং ১৩০০ [৫] সালিহ আলমুনাজ্জিদ, ইসলামকিউএ.ইনফো, ফাতাওয়া নং ১৫৮২৮২ [৬] ইবনু কুদামা, আল মুগনি, ৮/৩৩১

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
jachai
nite
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
jachai

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড