• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিয়ের ক্ষেত্রে ‘কুফু’ মিলানো কি জরুরি?

  মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

৩০ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:১৬
বিয়ে
ছবি : প্রতীকী

বিয়ের ক্ষেত্রে ‘কুফু’ মিলানোটা খুব জরুরি বলে আমরা শুনে থাকি। বংশ ও বিত্ত মিলানোটাকে খুব বেশি জোর দেয়া হয়। উচ্চবিত্তের সাথে নিম্নবিত্তের, উচ্চ বংশের সাথে নিম্ন বংশের ছেলে-মেয়ের বিয়েকে সমাজ কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি না। এভাবে সমাজে বংশীয় ও বিত্তীয় একটা পার্থক্যরেখা দাঁড় হয়ে গেছে। অনেকে আবার এই পার্থক্যরেখা টিকিয়ে রাখতে ইসলামকে ব্যবহার করেন। ইসলামই নাকি এই প্রাচীর গড়ে দিয়েছে! যে জাত-পাতপ্রথার বিরুদ্ধে ইসলাম সংগ্রাম ঘোষণা করেছে, সেটাকেই আবার ইসলাম কী করে প্রতিষ্ঠা করতে পারে? 
চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ইসলাম এ ব্যাপারে কী বলে।  

প্রথমত : ইমাম মালিকসহ আরও অনেকে বংশ, বিত্ত ইত্যাদি ক্ষেত্রে কুফুর ব্যাপারটা স্বীকারই করেননি। তাদের পক্ষে শক্ত দলিলও আছে। যেমন আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের নিকট এমন ব্যক্তি যখন বিয়ের প্রস্তাব দেয়, যার দীনদারিত্ব ও চরিত্রকে তোমরা পছন্দ কর, তাহলে তার নিকট মেয়ে বিয়ে দিয়ে দাও। যদি তা না কর, তাহলে পৃথিবীতে অশান্তি ও ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেবে। [সুনানুত তিরমিযি]

ইমাম মালিক দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, ‘কুফুর ব্যাপারটি কেবলমাত্র দীনের ক্ষেত্রেই বিবেচ্য।’ অর্থাৎ কনে যদি দীনদার ও পবিত্র চরিত্রের হয় আর বর হয় বেদীন-চরিত্রহীন, তাহলে অন্যান্য সব দিকে মিল হলেও সেটা কুফু হিসেবে গণ্য হবে না। হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব, ইবনু মাসউদ, ইবনু সিরিন ও উমর ইবনু আবদিল আযিয প্রমুখ হতেও এ মত বর্ণিত হয়েছে।

আর পবিত্র কুরআনও এ কথাই প্রমাণ করে :

إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ

‘নিঃসন্দেহে তোমাদের মধ্যকার সেই লোকই আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত, যে লোক তোমাদের মধ্যে অধিক আল্লাহভীরু।’ [সুরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৩]

ইমাশ শাওকানি বলেছেন, ‘বংশের দিক দিয়ে কুফু বিবেচনা করতে হবে এমন কথা কোন সহিহ হাদিসই প্রমাণ করে না।’
ইমাম আসকালানি বলেছেন, ‘দীনের দিক থেকে কুফু হওয়াটাই সর্বসম্মত। অর্থাৎ বর-কনে উভয়কে মুসলিম-দীনদার হতে হবে। কোনো কাফিরের সাথে মুসলিমের বিয়ে বৈধ নয়।’

দ্বিতীয়ত : যারা বংশ বা বিত্তের ক্ষেত্রে কুফু রক্ষার কথা বলেছেন, তারাও এটাকে ফরজ, ওয়াজিব বলেননি। সামাজিক মাসলাহার দিকে লক্ষ্য রেখে এটাকে উত্তম বলেছেন। ইমাম শাফিয়ি বলেছেন, ‘কুফু না মিললেও বিয়ে হারাম হবে না।’

তৃতীয়ত : বর্তমানে বংশীয় বা বিত্তীয় যে পার্থক্য আমরা দেখি, সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানবসৃষ্ট। বংশীয় পার্থক্যটা ইংরেজরা করেছে, আর বিত্তীয় পার্থক্যরেখাটা সৃষ্টি করেছে পূঁজিবাদ। এর ফলে একসময়কার সম্ভ্রান্ত বংশগুলো যেমন নিম্ন বংশে পরিণত হয়েছে, আবার পূঁজিবাদের ভয়াল ছোবলে বহু বিত্তবান পরিবার বিত্তহীন পরিবারে পরিণত হয়েছে।

মূলত স্বামী-স্ত্রীর মাঝে গভীর মিল-মিশ ও সুখময় দাম্পত্য জীবন লাভই কুফুর উদ্দেশ্য। আর দীন ও আকিদার ক্ষেত্রে, চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রে যদি বর-কনের মিল থাকে তাহলে অন্য কোনো ব্যাপার খুব একটা ম্যাটার না। সুতরাং যে ছেলে বা মেয়ের দীনদারিতার ব্যাপারে আপনি সন্তুষ্ট তার বংশ, বিত্ত কী করে বিয়ের ক্ষেত্রে আপনার সামনে বাধা হতে পারে?

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড