• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৩:০৮
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে (ছবি : অধিকার)

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাই কমিশনার মো. গোলাম সারওয়ারের তত্ত্বাবধায়নে দিন ব্যাপী নানার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভাষা শহীদের স্মরণ করা হয়।

ভাষা শহীদদের সম্মানে এই দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতাদের সাথে নিয়ে হাই কমিশনার শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শহীদদের আত্মার মাগফেরাতে বিশেষ দোয় ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনার শুরুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিশেষ বার্তা পড়ে শোনানো হয়। এ সময়ে বঙ্গবন্ধু এন্ড ল্যাংগুয়েজ মুভমেন্ট নামের একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে হাইকমিশনার জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তাদের তিনি বিশেষ ভাবে স্মরণ করেন। তিনি আরও স্মরণ করেন- ত্রিশ লক্ষ জীবন আত্মদান করা শহীদদের দুই লক্ষ মা বোন যাদের ত্যাগ ও সাহসিকতার কারণে এ দেশ স্বাধীনতা পেয়েছে। তিনি বলেন ভাষা আন্দোলন দেশের স্বাধীনতার পথ সুগম করে দিয়েছে। তিনি দেশের সবাইকে সত্য ইতিহাস জানতে আগ্রহী হতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার চেষ্টা করে যেতে হবে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইউনাইটেড চাইনিজ স্কুল কমিটি ও এসোসিয়েশন অফ মালয়েশিয়া (ডং জং) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল কনফারেন্স এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার গুরুত্বের বিষয়ে জোর দেন। এতে করে সাংস্কৃতিক বিচিত্র রক্ষা পায়। সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়। বহুভাষা প্রচার ও প্রসার হয়। তিনি আয়োজকদেরকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন মানুষের সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভাষা।

২১ ফেব্রুয়ারি বিকালে ‘ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি’ শিরোনামে এক ভার্চুয়াল কনফারেন্স আয়োজন করে। সেন্টার ফর জেনসাইড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল অফ লিবারাল আর্টস, টেইলর ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া, মিনিস্ট্রি অফ টুরিস্ট এন্ড আর্টস এন্ড কালচার মালয়েশিয়া সেখানে অংশগ্রহণ করেন।

এই মাল্টি কালচারাল ইভেন্টে টেইলর ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়াসহ আর্জেন্টিনা, চায়না, ইন্ডিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, নাইজেরিয়ার মালয়েশিয়ান হাই কমিশনাররা এই অনলাইন ইভেন্টে যোগ দেন।

এই ইভেন্টটি শুরু হয় সাংবাদিক ও লেখক আব্দুল গাফফার চৌধুরী লেখা সেই বিখ্যাত গান ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি,’ মধ্য দিয়ে। ভাষা শহীদদের স্মরণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর এ কে আব্দুল মোমিন ভিডিয়ো বার্তায় জানান ঐক্য এবং বহির্বিশ্বর সাথে সম্পর্ক পৃথিবীতে শান্তি সংহতি বজায় রাখে এবং দেশের উন্নতিতে কাজে আসে। তিনি আরও বলেন- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সকল মাতৃভাষা সংরক্ষণের দুয়ার উন্মোচন করেছে।

ম্যানুয়াল বালাগুয়ের সিলাস মালয়েশিয়ান আর্জেন্টিনা হাই কমিশনার এক বার্তায় বলেন- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন- তারা বাংলাদেশে তাদের হাই কমিশন খোলার ব্যাপারে বেশ আগ্রহী। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তিনি এ বারের কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থকদের বিষয়ে উল্লেখ করেন। খেলাধুলার একটা নিজস্ব ভাষা আছে যা সার্বজনীন যা সবার মাঝে ঐক্য তৈরি করে।

বাংলাদেশ মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার উল্লেখ করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ২০২৩ সালের এই ইভেন্ট দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক ও ভাষার আদান প্রদানে ভূমিকা রাখবে।

মালদ্বীপ মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার আলি হুসাইন দিদি, ইউনেস্কো ডিরেক্টর মিস্টার শিগারু অয়াগি, স্কুল অফ আর্টস এন্ড সাইন্স, টেইলর ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানানো হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের পরিচালনায় "বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রচারে ভাষার ভূমিকা" বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনার প্যানেলিস্টরা ছিলেন- বাংলাদেশের গবেষণা উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, মালয়েশিয়ার টেলরস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আনাস জুবেদী এবং থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুরিচাই উন গাও।

প্যানেল আলোচনার পরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ অংশগ্রহণ করে যা নাটক, বাদ্যযন্ত্র এবং নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে নিজ নিজ ঐতিহ্যের চিত্রায়নের মাধ্যমে বহুসংস্কৃতি এবং বহুভাষিকতার সৌন্দর্য তুলে ধরে। ইভেন্টটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রকৃত সারমর্মকে প্রতিফলিত করে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং ভাষাকে একত্রিত করেছে।

প্রবাস জীবন, আকাঙ্খা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ সবই লিখুন দৈনিক অধিকারকে [email protected] আপনার প্রবাস জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র অনুভূতিও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড