• শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রণোদনা বাড়িয়েও মালয়েশিয়ায় বাড়ছে না প্রবাসীদের আয়

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি

০২ জুলাই ২০২২, ০০:৪৩
প্রণোদনা বাড়িয়েও মালয়েশিয়ায় বাড়ছে না প্রবাসীদের আয়
দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা (ছবি : অধিকার)

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত রেমিট্যান্স। চার বছর ধরেই টানা বাড়ছিল রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। গত অর্থ বছরে রেকর্ড পরিমাণ আয় আসলেও বাস্তবে আগের বছরের চেয়ে আয় কমে গেছে।

কারণ, বৈধ পথে আয় পাঠাতে খরচ আছে। আর অনানুষ্ঠানিক বা হুন্ডিতে (অবৈধ লেনদেন) আয় পাঠালে প্রতি ডলারে ৫ থেকে ৬ টাকা বেশি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে অনেকে হুন্ডির পথে ঝুঁকছেন প্রবাসীরা।

এ ছাড়া চলমান ডলারে ভিন্নতার কারণে বেড়েছে হুন্ডির দাপট। আর এ দাপটে প্রণোদনা বাড়িয়েও বাড়ছে না প্রবাসীদের আয়।

২০২০–২১ অর্থবছরে দেশে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। চলতি ২০২১-–২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমতে পারে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার।

বিশ্বের শীর্ষ ৩০ টি দেশ থেকে রেমিটেন্স আসা দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া ছিল ৫ম স্থানে। মালয়েশিয়া থেকে বৈধপথে ২০২০-২১ অর্থ বছরে দেশে এসেছে ২ হাজার ২ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে ৭মে নেমে এসেছে মালয়েশিয়া। চলতি অর্থ বছরের জুলাই মাসে ১১০.৭০ মিলিয়ন, আগষ্টে ৯৬.২৪ মিলিয়ন, সেপ্টেম্বরে ৮৩.৮৪ মিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থ বছরে গড়ে পাঠানো রেমিটেন্সের তুলনায় ৪২ শতাংশ কমেছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, মহামারি শুরুর পর উড়োজাহাজ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বাণিজ্যের লেনদেন কমতে থাকে। বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনানুষ্ঠানিক লেনদেন। প্রবাসীরা বাধ্য হয়ে ব্যাংকে টাকা পাঠানো শুরু করেন। যার ফলে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে।

এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হয়েছে, কর্মী যাওয়া বাড়ছে। ডলার আর আগের মতো সীমান্ত অতিক্রম করছে না। তাই দেশের রিজার্ভও বাড়ছে না।

ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো প্রবাসী আয়ে সরকার আগে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিত। গত ১ জানুয়ারি থেকে প্রণোদনার হার বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়। যদিও এটি ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব ছিল প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের।

এ দিকে সরকারি প্রণোদনা বাড়িয়েও প্রবাসী আয় বাড়ানো যাচ্ছে না। এতে দেশে তৈরি হয়েছে ডলার–সংকট। ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম ৮৬ থেকে বেড়ে ৯৩ টাকা ৫০, ৯৯ টাকা ৫০ পয়সায় উঠেছে। এর ফলে বেড়ে গেছে আমদানি পণ্যের দাম।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অগ্রণী রেমিটেন্স হাইজের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে অর্থ প্রেরণ করেছে ১৬৮.২০ কোটি টাকা।

অগ্রণী রেমিটেন্স হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালক খালেদ মোর্শেদ রিজভী বলেন, বতর্মানে ডলারের বিনিময় হারের ব্যাপক তারতম্যের কারনে আমরা গ্রাহকদেরকে উপযুক্ত বিনিময় রেইট প্রদান করতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া থেকে গত অর্থ বছরের তুলনায় বর্তমান অর্থ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৪৯.২৮% রেমিট্যান্স কমে গেছে। রেমিট্যানস প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য মালয়েশিয়া থেকে অগ্রণী ব্যাংকের হিসাবে টাকা পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫ % এর অতিরিক্ত আরও ০.৫০% অর্থাৎ সর্বমোট ৩% বোনাস প্রদান করা হচ্ছে।

প্রবাসী আয় কমার অন্যান্য কারণগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এর পাশাপাশি বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ানোর দিকেই জোর তৎপরতা চলছে। শিগগিরই প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়তে শুরু করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্লাসিড মানি এক্সচেন্জ এর মাধ্যমে ২০২১ সালে ৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন টাকা প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠালেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঠিয়েছেন মাত্র, ১.৭৫ বিলিয়ন টাকা যা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

প্লাসিড মানি এক্সচেন্জ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ডলার সংকটের কারনে রেমিট্যান্স খাতে যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, সেটা কাটিয়ে উঠতে প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে। তবে এই মুহুর্তে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিও পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ চ্যানেলে প্রেরিত রেমিটেন্সের বিপরীতে নগদ সহায়তা বাড়ানো উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

চলমান ডলার সংকটের কারনে রেমিটেন্স প্রেরণ কমে আসছে বলে জানালেন, এন বি এল মানি ট্রান্সফার মালয়েশিয়ার সিস্টেম এ্যানালিষ্ট ম্যানেজার, এম.ডি. শামছুদ্দিন এনাম।

তিনি জানান, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এনবি এল মানি ট্রান্সফার থেকে ৪৫২ কোটি টাকা প্রবাসীরা দেশে রেমিটেন্স প্রেরন করেছেন। যা গত বছরের তুলনায় ৩৭ ভাগ কম।

শামছুদ্দিন এনামের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ ডলারের বিপরীতে টাকার রেট বিভিন্ন ব্যাংক ভেদে ৯৩.৫০ থেকে ৯৯.৫০ এক্সচেঞ্জ রেট প্রদান করা হচ্ছে। যাহা প্রতি লাখ ডলারে ব্যাংক ভেদে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ব্যাবধান আছে। ডলারের রেটের অনেক ভিন্নতার কারণে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো প্রবাসীদের প্রত্যাশিত রেট প্রধান করতে পারছে না।

ডলারের এই ব্যাবধান যদি কমিয়ে আনা যায় তাহলে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো প্রবাসীদের প্রত্যাশিত টাকার রেট প্রধান করতে পারবে এবং প্রবাসীরা হুন্ডির মাধ্যমে না পাঠিয়ে বৈধ চ্যানেলের মাধমে টাকা পাঠাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলছেন, প্রণোদনার চেয়েও বেশি টাকা পাওয়া যায় হুন্ডির মাধ্যমে। করোনার প্রভাবে টাকা লেনদেনের অনানুষ্ঠানিক সব খাত প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রবাসী আয় অনেক বেড়েছিল। ভিসা–বাণিজ্য, আন্ডার–ইনভয়েসের (প্রকৃত মূল্য কম দেখানো) মতো অবৈধ পথ আবার চালু হয়ে গেছে। এতে এখন বেড়েছে হুন্ডি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে হলে বিদেশে অবৈধ উপায়ে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা।

ওডি/কেএইচআর

প্রবাস জীবন, আকাঙ্খা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ সবই লিখুন দৈনিক অধিকারকে [email protected] আপনার প্রবাস জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র অনুভূতিও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড