• রোববার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আড়াই মাস পর দেশের মাটিতে মালয়েশিয়া প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি

০৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:১৫
আড়াই মাস পর দেশের মাটিতে মালয়েশিয়া প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন
মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. জহিরুল ইসলাম জবুর জানাজার নামাজ আদায় করা হচ্ছে (ছবি : অধিকার)

রোগাক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানোর পর মালয়েশিয়ার একটি হসপিটালের মর্গে পড়ে থাকা প্রবাসী মো. জহিরুল ইসলাম জবুর (৫৫) মরদেহ দীর্ঘ আড়াই মাস পর গাইবান্ধার নিজ গ্রামের মাটিতে দাফন হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর রাত ৯ টার দিকে একটি ফ্লাইটে করে জহিরের লাশ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এ সময় লাশটি গ্রহণ করেন জহিরুল ইসলামের ভাতিজি মোছা. রোমানা আক্তার।

এর পরের দিন ১ জানুয়ারি জহিরের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে দাফন হয় তার। জহিরুল ইসলাম জবু গাইবান্ধা সদর বিষ্ণুপুর গ্রামের কবির পাড়ার মৃত হোসেন আলী মুন্সির ছেলে। জহির ২৭ বছর আগে চাকুরি নিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। দেশে বিয়ে সাদি না করায় তার কোনো স্ত্রী-সন্তান ছিল না। পিতা মাতা অনেক আগেই মারা গেছেন।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর জন্ডিস ও লিভারের রোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ার ইপুহ এলাকার রাজা হসপিটালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এরপর তার লাশ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার মতো পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় হসপিটালের মর্গে পড়েছিল ১৭ দিন।

এই সময় অর্থের অভাবে হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে প্রবাসীর মরদেহ। এই শিরোনামে জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টোলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল গেল ২ নভেম্বর। মরদেহ দেশে ফেরত পাঠাতে মালয়েশিয়ার কোনো কমিউনিটি বা সংগঠন এগিয়ে না আসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মালয়েশিয়ায় দাফন করার জন্য সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল।

সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর মুহূর্তে মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসল মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ চেম্বার'স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, লন্ডনস্থ ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশি সংগঠন এবং জন হিতৈষী প্রবাসীরা। জহিরের মরদেহ দেশে পাঠাতে অর্থের যোগানসহ অন্যান্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন মালয়েশিয়া বাংলাদেশ চেম্বার'স এন্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জনাব মাহবুব আলম শাহ। জহিরের তথ্য ও উপাত্তসহ বাংলাদেশের মন্ত্রণালয় থেকে ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করেন কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন : মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে মালয়েশিয়ার মানবাধিকার কমিশন

লাশটি দেশে পাঠাতে নানা জটিলতায় পড়তে হয়েছে প্রবাসী নেতৃবৃন্দদের। প্রবাসীদের লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়ে বলেন, শুধুমাত্র বাংলাদেশেরের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতেই দুই মাস সময় লেগে গেছে। আর এ দিকে জহির মরদেহ মর্গে থাকার পরও পচে-গলে গেছে। দেশের বাড়িতে নিয়ে দাফনের আগে লাশের মুখ দেখতে পারেনি স্বজনরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাফন সম্পন্ন করতে হয়েছে।

মরদেহ দেশে প্রেরণ বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জহিরের কোনো বৈধ বা ভ্যালিড পাসপোর্ট ও ভিসা ছিল না। এমনকি মৃত্যুর সময় তার সঙ্গে যে পাসপোর্টের ফটোকপি পাওয়া গিয়েছিল সেটা ছিল নরসিংদী জেলার অন্য এক ব্যক্তির নামে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানা গেল জহিরের আসল ঠিকানা গাইবান্ধা জেলার সদরে।

তিনি আরও বলেন, তার যথাযথ ডকুমেন্টস না থাকার কারণে বাংলাদেশের সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স নিতে এতদিন সময় লেগেছে।

আরও পড়ুন : খেলাধুলো করতে পারবে না নারীরা

এ দিকে লন্ডনস্থ ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশি সংগঠন জহিরের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ভার্চুয়ালি আলোচনাও করেছেন।

ওডি/কেএইচআর

প্রবাস জীবন, আকাঙ্খা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ সবই লিখুন দৈনিক অধিকারকে [email protected] আপনার প্রবাস জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র অনুভূতিও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড