• সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হাইকমিশনের সহায়তায় বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে প্রেরণ

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া

০৬ জুন ২০২১, ১২:৪১
হাইকমিশনের সহায়তায় বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে প্রেরণ
মালয়েশিয়া থেকে বিমানে দেশে ফিরছেন যাত্রীরা (ছবি : সংগৃহীত)

চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা ভ্রমণ যে কারণেই হোক না কেন প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় যান অসংখ্য মানুষ। কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপে মালয়েশিয়ার সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের এক নোটিশে মালয়েশিয়াসহ ১১টি দেশের সাথে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

চলমান উদ্ভট পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকরা রয়েছেন বিপাকে। ফ্লাইট বন্ধের আগে অনেকেই দেশে ফেরার জন্য বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটে রেখেছিলেন।

সাব্বির আহমেদ নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু চলমান মহামারির কারণে সংক্রমণ উত্তরণে মালয়েশিয়া সরকারের জারি করে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি (এসওপি)।

এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনা করা তার পক্ষে সম্ভবপর নয়। গুটিয়ে নিয়েছেন ব্যবসা। চলছে দেশে যাওয়ার প্রস্তুতিও। এক মাস আগে ৩ জুনের এয়ার এশিয়ার টিকিট কেটেছিলেন তিনি। এমনি সময় বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন বন্ধ করে দিল আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট। দুশ্চিন্তায় পড়লেন সাব্বির।

আরও পড়ুন : মালয়েশিয়ায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে শিশুরাও

ইউএস বাংলা, মালয়েশিয়া এয়ার লায়ন্সসহ কয়েকটি বিমানে যোগাযোগ করে ৪ জুনের আগের টিকিট মিলেনি। ৩ জুন পর্যন্ত ছিল তার ভিসার মেয়াদ। শেষমেশ সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের টিকেট করলেন ৩ জুনের। মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুর হয়ে দেশে ফিরবেন সাব্বির। ৩ জুন মালয়েশিয়া সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটের ফ্লাইটে গেলেন সিঙ্গাপুর। ৩২ ঘণ্টার ট্রানজিট, পরের দিন ৪ জুন সিঙ্গাপুর সময় ৭টা ৩৫ সন্ধ্যায় ফ্লাইট।

বিমানে উঠার আগে বোর্ডিং পাস নেয়ার সময় কর্তৃপক্ষ পাস দিতে অপারগতা। ট্রানজিট ফ্লাইট নেই হাইকমিশনের লেটার। বিমান বন্দরে অপেক্ষমাণ পরিবারের ৪ সদস্যদের নিয়ে চিন্তায় মগ্ন সাব্বির। এখন কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। মালয়েশিয়ায় থাকা তার ব্যবসায়ী বন্ধু কমিউনিটি নেতা ড. আরিফের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তাকে জানালেন।

ড. আরিফ যোগাযোগ করলেন মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কন্স্যুলার সেকশনের কাউন্সিলর জি এম রাসেল রানার সাথে। রাসেল রানা মান্যবর হাইকমিশনার মো. গোলাম সারওয়ারের সাথে বিষয়টি আলোচনা করেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেন। যেহেতু শুক্রবার বাংলাদেশে ছুটি। সেহেতু অনেক চেষ্টার পর রাসেল রানা হাইকমিশনারের অনুমতি সাপেক্ষে অফিস ছুটির পরেও অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে সাব্বিরের পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৫ জনের নামে ছাড়পত্র ইস্যু করেন। এরই মাঝে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ কাউন্সিলর রাসেল রানার সাথে যোগাযোগ করে।

উদ্ভট পরিস্থিতিতে হাইকমিশনের এমন সহায়তাকে স্বাগত জানায় এবং প্রশংসা করে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। সাব্বির তার পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে মোট পাঁচজন এখন বাংলাদেশে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।

আরও পড়ুন : করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য ডেল্টাই দায়ী

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে হাইকমিশনের সহায়তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীরা। তারা বলছেন হাইকমিশন প্রবাসীদের কল্যাণে সর্বক্ষেত্রে কাজ করবে এটাই প্রবাসীদের প্রত্যাশা।

ওডি/কেএইচআর

প্রবাস জীবন, আকাঙ্খা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ সবই লিখুন দৈনিক অধিকারকে [email protected] আপনার প্রবাস জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র অনুভূতিও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড