• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনাকালে প্রবাসীদের নিরানন্দ ইদ

  অধিকার ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২০, ১৬:২৫
অধিকার
ছবি : সংগৃহীত

প্রবাস জীবন মানে নিষ্ঠুর, নিঃসঙ্গ জীবনযাপন এবং প্রিয়জনের সান্নিধ্য থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে দেয়ালহীন কারাগারে এতিমের মতো বসবাস। কিন্তু ইদ প্রবাসে আসে, থাকে আনন্দ, প্রবাসীরা কিছুক্ষণের জন্য হলেও নতুন জামা পড়ে মিলিত হন ইদের জামাতে। কিন্তু এমন বিবর্ণ ইদ আগে দেখেনি তারা।

প্রবাসীরা ইদ ভাবনার প্রায় সবটাই থাকে দেশে থাকা স্বজনদের ঘিরে। ইদ উপলক্ষে স্বজনদের উপহার দেওিয়া, বেশি টাকা পাঠানো। অনেকের বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও সেটা সম্ভব হয়নি। কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ায় অনেককেই ফিরতে হয়েছে বিমানবন্দর থেকেই। ভেঙে যায় স্বজনের সঙ্গে ইদ উদযাপনের স্বপ্ন।

প্রবাসে ইদুল আযহা মানে অন্য এক বাস্তবতা। যাওয়া হয় না চিরচেনা গরুর হাটে। হাঁকানো হয় না দামদর। নেই গোশত কাটার আনন্দ। হয় না বাড়িতে বাড়িতে গোশত বিতরণের সুযোগ। প্রবাসীদের কাছে ঈদ মানেই মন খারাপের একটা দিন।

মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে ইদের একটা আমেজ থাকলেও অমুসলিম দেশগুলোতে নেই সেই সুযোগ। মুসলিম দেশগুলোতে ইদের দিন সরকারি ছুটি থাকলেও অধিকাংশ অমুসলিম দেশে নেই সরকারি ছুটি। ইদের ছুটি না থাকায় নামাজের পরই অনেক প্রবাসীদের ছুটতে হয় কর্মস্থলে। দেশে পরিবার আর আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করলেও প্রবাসীদের ক্ষেত্রে তার চিত্র একেবারেই বিপরীত।

ইদের দিন সরকারি ছুটি ছিলো না ইতালিতে। বিষয়টি নিয়ে বড় দুঃখ প্রকাশ করেন দেশটির পুলিশ বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা বাংলাদেশি প্রবাসী তাহমিনা ইয়াসমিন শশী।

তিনি বলেন, দেশের মতো এখানে ঈদের তিলমাত্র আমেজ নেই। ঈদের দিনও আফিস করতে হয়েছে। এখানে ঈদে সরকারি কোন ছুটি নেই। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ পালন দূরে থাক, তাদের সঙ্গে ফোনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগও কম।

শশী বলেন, ইতালিতে মসজিদ নাই বললেই চলে। বিষয়টা খুবই কষ্টদায়ক ও দুঃখজনক। হলরুম ভাড়া করে ঈদের নামায পড়তে হয়েছে আমাদের মুসলিম ভাইদের। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাযের ব্যবস্থা থাকায় অনেকেই যেতে পারেনি ঈদের জামাতে। অনেকে আবার করোনা আতঙ্কে বাসাতেই সেরেছেন নামায।

যু্ক্তরাজ্যের গার্ডেন কোর্ট চ্যাম্বার্সের আইনজীবী বাংলাদেশি প্রবাসী মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রবাসে আর দেশে ঈদ উদযাপনে অনেক তফাত। স্ত্রী ও সন্তান কাছে থাকায় ঈদ একবারে বাজে যায়নি। তবে যাদের আত্মীয়-স্বজন এখানে নেই, তাদের মধ্যে ঈদের কোন আমেজ ছিল না।

তিনি বলেন, ইদের নামাজ শেষে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসরত বন্ধুর বাসায় সপরিবারে বেড়াতে যাই। দিনটি উপভোগ করি। বেশকিছু দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও করোনার কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

পরিবারের সঙ্গে ইদ উদযাপনে বাড়ি ফেরার কথা ছিলো জাপানের ইনো মেক্কি ইন্ডাস্ট্রির প্রকৌশল বিভাগে কর্মরত প্রবাসী জুয়েল রানার। দেশের করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বলেন, বছরখানেক জাপানে আছি। এবারই এখানে প্রথম কোরবানির ইদ। এখানে আসলে ইদ বলতে কিছু নেই। নেই কোনো আমেজ, নেই কোনো উৎসব। দিনটি সাধারণ দিনের মতই ছিল। নামাজ শেষে কর্মস্থলে ছুটতে হয়েছে। ইদের দিন পরিবার আত্মীয় স্বজনের কথা ভাবতেই কষ্টে বুক ফেঁটে যায়।

প্রবাস জীবন, আকাঙ্খা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ সবই লিখুন দৈনিক অধিকারকে [email protected] আপনার প্রবাস জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র অনুভূতিও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড