• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধর্ম নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে মঙ্গলবার হেফাজতের বিক্ষোভ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:০৯
মহানবী (সা:) কে অবমাননা করে স্ট্যাটাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী (ছবি : ফাইল ফটো)

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মহানবী (সা:) কে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। 

সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজতের কার্যালয়ে সংগঠনের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। আমরা সেই আপত্তিকর স্ট্যাটাসদাতার শাস্তি দাবি করছি। ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস ও মেসেজ ছড়ানোর জেরে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদরে রণক্ষেত্র তৈরির ঘটনাটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক বলেও মনে করেন জুনায়েদ বাবুনগরী।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ও সেই আপত্তিকর স্ট্যাটাসদাতার শাস্তির দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়ে হেফাজতের এই নেতা বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা শহরে আগামীকাল জোহরের নামাজের পর শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ঘোষণার পর অধিকতর ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও জানান হেফাজত মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ওই ছেলের আইডি হ্যাকড হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কথা আমাদের মাথার ওপরে। এর পরও প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি যেন অধিকতর তদন্ত করা হয়।’

এদিকে মহানবীর (সা.) অবমাননাকারীর ফাঁসিসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ। দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন তারা।  সোমবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ভোলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবির কথা জানায় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ। 

ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখার স্বার্থে সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলমান থাকবে। 

তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকালে প্রতি উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি, বুধবার বেলা ১১টায় জেলা শহরে মানববন্ধন এবং বৃহস্পতিবার বিকালে নিহতদের জন্য দোয়া মুনাজাতের কর্মসূচি পালন করা হবে। যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৬ দফা মেনে না নেওয়া হয় তবে আরও কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, আল্লাহ এবং নবী রাসুলদের নিয়ে কটুক্তিকারীর বিরুদ্ধে যদি দেশে কঠিন শাস্তির আইন থাকতো তাহলে রবিবার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের গুলিতে নিহত ৪ মুসলিমকে নিহত হতে হতো না। 

মহানবী ও মাহন আল্লাহ তায়ালা এবং ইসলামের ব্যাঙ্গ ও কটুক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে। বিপ্লব চন্দ্র শুভ এর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে। সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসা দিতে হবে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। 

৬ দফা দাবিগুলো হলো:

১। অনতিবিলম্বে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিনের ওসিকে এবং তদন্ত সাপেক্ষে গুলির হুকুমদাতা ও গুলি বর্ষণকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।
২। মহানবী (সা.) ও মহান আল্লাহ তায়ালা এবং ইসলাম নিয়ে ব্যাঙ্গ ও কটুক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্ব্বেচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে।
৩। আমাদের মহানবী (সা.) ও মহান আল্লাহ তায়ালা এবং ইসলাম নিয়ে ব্যাঙ্গ ও কটুক্তিকারী বিপ্লব চন্দ্র শুভকে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে।
৪। ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় সংঘর্ষে শাহাদাত বরনকারী ব্যক্তিদের পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৫। সরকারি খরচে আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। 
৬। বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হয়রানিমূলক মামলা বা কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা ইয়াকুব আলী চৌধুরী, মাওলানা মো: ইউসুফ, মাওলানা মো: আতাহার আলী, মাওলানা তয়বুর রহমান, মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা মাহাবুবুর রহমান, সদস্য সচিব মাওলানা তাজুদ্দিন ফারুকী প্রমূখ। 

এসব প্রসঙ্গে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মামলা হয়েছে। তদন্ত কমটি গঠন করে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান যে দাবি গুলো যে সরকারি বিভাগ সম্পর্কিত তারা তা বিবেচনা করে দেখবে। 

এ দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বোরহানউদ্দিন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গতকাল সমাবেশ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ একটি মসজিদের দোতলায় আশ্রয় নিলেও তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়া হয়। এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ভোলার সহকারী পুলিশ সুপার শেখ সাব্বির হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ পুলিশ আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন চিকিৎসাধীন। পুলিশ এখনো পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার বিকালে বিপ্লব চন্দ্র শুভর নিজের ছবিসংবলিত ফেসবুক আইডি থেকে আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) গালাগাল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে মেসেজ পাঠানো হয়। যাদের ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তারা এর স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে দিলে লোকজন প্রতিবাদ জানানো শুরু করেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এ নিয়ে বিভিন্ন মসজিদ থেকে কয়েক দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়। 

শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিপ্লব চন্দ্র বোরহানউদ্দিন থানায় তার আইডি হ্যাক হয়েছে মর্মে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে আসেন। এ সময় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপ্লব চন্দ্রকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। 

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার প্রতিবাদে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মুসল্লিদের পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ সমাবেশে একত্রিত হন মুসল্লিরা।

এ সময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ বাধা দেয় ও তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে কাঁদুনে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে তাদের চারজন নিহত হন। এ ছাড়া তাদের শতাধিক লোক আহত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক ব্যক্তির বিচারের দাবিতে গতকাল ঈদগাহ মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে তৌহিদি জনতা। 

এ সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি দেওয়ার আগেই তারা মাইকিং করে। পরে সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি না দিলেও সকাল নয়টা থেকে লোকজন মাঠে জড়ো হতে থাকে। মিছিল করতে না পেরে সেখানেই অবস্থান শুরু করে তারা। পরে পুলিশ ‘বাটামারা পীর সাহেব’ মাওলানা মহিবুল্লাহকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে এবং তাকে ঈদগাহ জামে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যায়। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে, মাওলানা মহিবুল্লাহকে পুলিশ আটক করেছে। এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হন। পুলিশের দাবি, উত্তেজিত লোকজন পুলিশের ওপর হামলা করলে তারা গুলি করতে বাধ্য হয়। 

এ দিকে এই ঘটনায় গণভবনে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিন্দু ছেলের আইডি হ্যাক করে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিয়ে যারা সুযোগ নিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্যও জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড