• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শোভন-রাব্বানীর পদত্যাগ

ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিয়ান খান, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২৫
আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টচার্য
আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য। তারা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে নাহিয়ান খান জয় সংগঠনের এক নম্বর সহসভাপতি এবং লেখক ভট্টাচার্য এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগ পত্র তুলে দেন শোভন ও রাব্বানী। বেশ কয়েকটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আগে থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন শোভন ও  রাব্বানী।

শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, নানা বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনটির অভিভাবক ও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই প্রেক্ষিতে তারা পদত্যাগ করলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ আগস্ট ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপাচার্যের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান মহাপরিকল্পনার ৪-৬ শতাংশ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে পরবর্তীতে উপাচার্যের পক্ষ থেকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংবাদ প্রকাশ হয়।

খবরে বলা হয়, উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার পেয়েছে- এমন কোম্পানির কাছ থেকে ভিসিকে টাকার ব্যবস্থা করে দিতে বলেন শোভন ও রাব্বানী। কিন্তু ভিসি তাতে রাজি না হওয়ায় তার সঙ্গে দুই নেতা শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করেন।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শোভন-রাব্বানীর ওপর প্রচণ্ড বিরক্ত হয়েছেন বলেও জানা যায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের পদ থেকে দুই শীর্ষ নেতাকে পদচ্যুত করতে পারেন বলেও সংবাদ প্রকাশ হয়।

এর প্রেক্ষিতে গোলাম রাব্বানী চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ঈদুল আজহার আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ খবর জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং এরই প্রেক্ষিতে উপাচার্য আমাদের স্মরণ করেন। আমরা দেখা করে আমাদের অজ্ঞাতসারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি বিব্রতবোধ করেন।

তবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গোলাম রাব্বানীর এমন বক্তব্যকে ‘অসত্য‘ ও ‘মিথ্যা’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ থেকে পৃথক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ বলেছে, জাবি ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়ার যে দাবি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী করেছেন, তা অসত্য। এছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশেই উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

সর্বশেষ আজ (১৪ সেপ্টেম্বর) সাভারের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, বহুদিন পর ভালো একটি গল্প পড়লাম। আমার আর কিছু বলার নেই। একেবারেই বানোয়াট গল্প। টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনো কথা তাদের সঙ্গে আমার হয়নি।

তিনি আরও বলেন, তারা (ছাত্রলীগ) তাদের মতো করে কাজ করে। কোথায় কাজ করে, কী কমিশন পায়, কী পায় না পায় সেগুলো জানতে চাওয়াতে আমি তাদের বলেছি, আমার সঙ্গে টাকা পয়সা নিয়ে কোনো আলাপ তোমরা করবে না। তোমরা যেটা করতে চাও তা তোমরা নিজেদের মতো করো, তোমাদের মতো চলো। আমার সঙ্গে এগুলো করো না। এটুকুই ছোট কথা। আর তারা একটা গল্প বানিয়েছে।

অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, আমার বিশ্বাস দেশের প্রধান জানেন, তারা গল্প বানিয়েছে, নাকি আমি বানিয়েছি। আর তদন্ত করলে, যে কোনো ধরনের অনুসন্ধান করলে আপনারাও জানতে পারবেন যে, এ ধরনের কিছু হয়েছে কি না। আমার আর এর বেশি কিছু বলার নেই।

ওডি/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড