• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

পরিবর্তন আসছে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে!   

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:০০
ছাত্রলীগের নেতৃত্ব পরিবর্তন
ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন বামে, সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী ডানে (ছবি : সংগৃহীত)

আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষুব্ধ দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শোভন-রাব্বানীর নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই জিরো টলারেন্স মনোভাব প্রকাশ করেছেন তিনি। তাই সম্মেলনের পূর্বেই শোভন-রাব্বানীর পরিবর্তে আসতে পারে ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব এমনই গুঞ্জন এখন শোনা যাচ্ছে। 

এ দিকে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের কাছে ঘুরছেন ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের দেখা করার অনুমতিও স্থগিত করা হয়েছে। ফলে দুই নেতার প্রতি ক্ষোভ কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক কাউকে কার্যকরী সভাপতি করে দায়িত্বভার অর্পণ- তিন প্রক্রিয়ার কথা মাথায় রেখেই এগোচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এর যে কোনো একটি প্রক্রিয়ায় নতুন নেতা বাছাই হতে পারে। এরই মধ্যে দলের চারজনকে ছাত্রলীগের বিষয়টি দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিষয়টি দেখছেন। 

তবে আগামী শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক রয়েছে। বৈঠকে ছাত্রলীগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচনায় স্থান পাবে বলেই জানা গেছে। এ বৈঠকের পর সব বিষয়ে চূড়ান্ত একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। 

আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, শোভন-রাব্বানীর কিছু কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হলেও পুরো ৩০০ সদস্যের কমিটির সবার ওপর তিনি ক্ষুব্ধ নন। শোভন-রাব্বানীর দায় পুরো ছাত্রলীগের ওপর তিনি দিতে চান না। এ জন্য দক্ষ ও সাংগঠনিক দেখে দুজনকে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যারা আগামী সম্মেলন পর্যন্ত রুটিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবে। এ রকম কিছু হলে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগেই ছাত্রলীগের বিশেষ সম্মেলন হতে পারে।

গত শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের ওপর নিজের ক্ষোভের কথা জানান। তাদের বেশ কিছু অপকর্মের কথা দলীয় নেতাদের সামনে তুলে ধরেন। ওইদিনই প্রধানমন্ত্রী তাদের গণভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন। সেদিন ছাত্রলীগের দুই নেতাও গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই তারা গণভবন ত্যাগ করেন। পরদিন রবিবার সন্ধ্যা ও সোমবার সকালেও তারা গণভবনে যান। পরে গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে গণভবনে তাদের নিষেধাজ্ঞা।

প্রধানমন্ত্রী গণভবনে থাকলে পরিবারের সদস্য, নিকটাত্মীয়, ঢাকা মহানগর ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাসহ নির্দিষ্ট একটি তালিকা রয়েছে যারা যেকোনো সময় গণভবনে প্রবেশ করতে পারেন। সেখান থেকেই নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে শোভন-রাব্বানীর। প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী নির্দেশ না দিলে তারা গণভবনে প্রবেশ করতে পারবে না। এ নিষেধাজ্ঞার খবর গণভবনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ দিকে ছাত্রলীগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি দেখছেন বলে বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে পরিবর্তন আনার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নিজের। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী দেখছেন। ছাত্রলীগে কোনো সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন, সংশোধনের প্রশ্ন এলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই করবেন। 

তবে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সিদ্ধান্ত আকারে কোনো কিছু না এলে আমি কিছু বলতে পারি না।

ছাত্রলীগের আগাম সম্মেলনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আগাম সম্মেলনের কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। পুরোপুরিভাবে নেত্রী নিজেই দেখেছেন। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, দলের চারজনকে ছাত্রলীগের বিষয়টি দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছেন।

২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিতে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ছাত্রলীগের কমিটি করা হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ ১ বছর না পেরোতেই তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে নানা ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথা ওঠে আসে।

এর মধ্যে স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতা, নেতাকর্মীদের প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না করা অন্যতম। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপেক্ষা, ফোন রিসিভ না করার অভিযোগও আছে।

এর বাইরে রাতজাগা ও দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, কর্মসূচিতে বিলম্বে যাওয়া, প্রধান অতিথিদের বসিয়ে রাখা, জেলা সম্মেলন করতে না পারা, বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ও এ তালিকায় রয়েছে।

আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকালে ছাত্রলীগের চলমান বিষয়টি জানতে ও শোভন-রাব্বানীর জন্য সুপারিশ করতে গণভবনে যান আওয়ামী লীগের তিন শীর্ষ নেতা। তারা হলেন- দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আবদুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সামনে বিষয়টি নিয়ে কেউ কথা বলার সাহস করেননি।

উপরন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজেই উপস্থিত নেতাদের ছাত্রলীগ বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে বলেন। একই সঙ্গে বিষয়টি তিনি নিজেই দেখছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রলীগের জন্য সুপারিশ করতে গিয়ে তাদেরও খালি হাতে ফিরে আসতে হয় গণভবন থেকে।

তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টিকে গুঞ্জন বলেই দাবি করছেন ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র। তারা বলছেন, যেহেতু নেত্রী নিজেই নেতৃত্ব বাছাই করেছেন, কাজেই নেতৃত্ব পরিবর্তনটা এতটা সহজ নয়। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের গণমাধ্যম শাখার ফেরদৌস আল মাহমুদ দৈনিক অধিকারকে বলেন, নেত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছেন, অন্যকিছু না।   

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে একাধিকবার দৈনিক অধিকার থেকে ফোন করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। 

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড