• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র নিলেন খালেদা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ মে ২০১৯, ১৮:২৭
খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (ফাইল ফটো)

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ ছাড়াও এ উপনির্বাচনের জন্য আরও চারজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

বুধবার (২২ মে) বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে চারজন ও খালেদা জিয়ার পক্ষে এক নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ আমরা পাঁচজনের প্রত্যেকে ৩০ হাজার টাকায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি।’

বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মঙ্গলবার (২১ মে) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লন্ডল থেকে বৈঠক করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেসময় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে তিনি সবাইকে নির্দেশ দেন।

বিএনপির চেয়ারপাসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, খালেদা জিয়া ছাড়া মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী অন্যরা হলেন- বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জি এম সিরাজ, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ও পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির চেয়ারপারসনের পক্ষে তিনটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছিল, পরে কোর্টে আবেদন করা হলে বিভক্ত আদেশ আসে।

এ ব্যাপারে খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাড. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করলে আমরা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেছিলাম। ওই রিট পিটিশন হাইকোর্ট ডিভিশন নামঞ্জুর করেছিলেন। এর বিরুদ্ধে আমরা সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছি। সে আবেদন এখনও পেন্ডিং আছে। বিষয়টা হচ্ছে, হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ আছে।’

উদাহরণ দিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এরআগে হাইকোর্টে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহিউদ্দিন খান আলমগীরসহ অনেকেই কনভিক্টেড হওয়ার পরও নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। হাইকোর্ট ডিভিশন তাদের অ্যালাউ করেছেন। এমনকি লুৎফুজ্জামান বাবরও কনভিক্টেড হয়েছিলেন, তিনিও নির্বাচন করেছেন।’

অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ইস্যু যেহেতু একই, তাই আপিল বিভাগে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আদালতের আদেশ লাগবে।

এদিকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রার্থী বগুড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টি জামান নিকেতা।

রবিবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড দলীয় বৈঠকে প্রার্থী হিসেবে নিকেতাকে চূড়ান্ত করে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

গেল ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নির্বাচিত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আসনটি ধানের শীষের দুর্গ হিসেবে খ্যাত।

মির্জা ফখরুল শপথ না নেওয়ায় শূন্য ঘোষণা করা বগুড়া-৬ আসনে ২৪ জুন উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন গত ৮ মে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

এর আগে ৩০ এপ্রিল মির্জা ফখরুল শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন স্পিকার। সংবিধান অনুযায়ী শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে।

উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৩ মে। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৭ মে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩ জুন। এ আসনে ভোটগ্রহণ হবে ইভিএম মেশিনে। ভোট হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে নির্বাচন করে একটিতে জয়লাভ করেন। বগুড়া-৬ আসনে ২ লাখ ৫ হাজার ৯৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোটের জাতীয় পার্টির প্রার্থী নূরুল ইসলাম ওমর পান ৩৮ হাজার ৯৬১ ভোট। বগুড়া-৬ আসন থেকে এর আগে খালেদা জিয়া নির্বাচনে দাঁড়াতেন। তিনি জেলে থাকায় মির্জা ফখরুল ওই আসনে নির্বাচন করেন।

তবে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে হেরে যান তিনি। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পান ১ লাখ ২৭ হাজার ১০৭ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রমেশ চন্দ্র সেন নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ২৫ হাজার ৭৯৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

ওডি/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড