• বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তীব্র সমালোচনা

নকল দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে সরকার : মঈন খান 

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ মে ২০১৯, ১৩:২১
মঈন খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান (ছবি : সংগৃহীত)

অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও নকল দিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

রবিবার (১৯ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।    

মঈন খান বলেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য সে জাতির শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়াই যথেষ্ট। আজ যদি কেউ বলে অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও নকল দিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সরকার দেশে এ কাজটিই করছে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে কি?

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এই কথাটি চিরন্তন সত্য বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বলা বাহুল্য, অনেকে মনে করেন, ইউরোপ-আমেরিকা-চীন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি হওয়ার পেছনে আছে তাদের সম্পদ ও সমরাস্ত্র। কথাটি সঠিক নয়। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান আমেরিকা, ইউরোপ ও চীনে। কাজেই একটি জাতির উন্নতির সোপান যে একমাত্র শিক্ষা, সেকথা অস্বীকার করার উপায় নেই।

সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশন পরিচালিত র‌্যাংকিং ব্যবস্থায় এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে সেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিতে পারেনি বলে হতাশা প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। 

তিনি বলেন, এ র‌্যাংকিংয়ের জরিপ করার সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠদান, গবেষণা, জ্ঞান আদান-প্রদান ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি- এ চারটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে এসেছে। দ্বিতীয়-তৃতীয় অবস্থানে আছে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর ও হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নাম। সার্বিকভাবে চীনের ৭২টি, ভারতের ৪৯টি, তাইওয়ানের ৩২টি, পাকিস্তানের ৯টি ও হংকংয়ের ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আছে। এমনকি নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিশ্ববিদ্যালয়ও আছে এ র‌্যাংকিংয়ের তালিকায়। 

তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই সেখানে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন বিএনপির সিনিয়র এই নেতা। এসময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও এর মান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন ড. আবদুল মঈন খান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে প্রশ্নও তুলেন বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা পদ্ধতির কথা কি বলব? এখন তো জিপিএ ফাইভের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ত্রিশজন, চল্লিশজন, পঞ্চাশজন না কি ফার্স্ট ক্লাস পায়। খাতায় কিছু লিখে পায়, কি পরীক্ষা দিয়ে পায়, কি শিক্ষককে তুষ্ট করে পায়-সে কথা আমি বলতে চাই না। এই হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র। করুণ চিত্র-কঠিন চিত্র।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এক নম্বরে আমরা করে ফেলেছি। বিশ্বের রোল মডেল বানিয়ে ফেলেছি, কথা তো শুনি প্রায়ই, বাংলাদেশ না কি আজকে বিশ্বের রোল মডেল।

তো এরকম রোল মডেল বানিয়ে ফেলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও নিশ্চয়ই সেই রোল মডেলেরই অংশ, তাই না বলে প্রশ্ন তুলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কী গবেষণা হচ্ছে, সেগুলো কোথায় প্রকাশ হচ্ছে।

তিনি বলেন, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একসময় আমরা গর্ব করতাম, যে বিশ্ববিদ্যালয়কে সারা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার দর্পণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তার নাম এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেও নেই। বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে হাজারের মধ্যেও কেন নেই- সেটা আজ জাতির কাছে বড় প্রশ্ন। 

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড