• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

বাগেরহাট-৩ (মোংলা ও রামপাল)

দুই শেখের লড়াই: কে পাচ্ছেন ধানের শীষ 

  আকাশ ইসলাম, বাগেরহাট ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:১৮

বাগের হাট ৩ আসন
ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম-মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ

ওলিতে, গলিতে চায়ের দোকানে রোজই উঠে আলোচনার ঝড়, ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম নাকি মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ।

কে পাচ্ছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক। এনিয়ে এলাকায় চলছে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আলাপ আলোচনা এবং চুলছেড়া বিশ্লেষণ। 

সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বিএনপি। এরপর থেকে মোংলা ও রামপাল উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আর বিএনপি দলীয় ভাবে প্রার্থী দেয়নি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতা করে আসছিল জামায়াত। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের দাবি ছিল এই আসনে তাদের দলীয় প্রার্থী দেওয়ার। অবশেষে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অন্যদিকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর আবদুল ওয়াদুদকে ২০-দলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। 

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচনেই এই আসনে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত। সব কটি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন জামায়াতের প্রার্থী প্রায়ত মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক ও মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ। 

১৯৯১ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপি ও জামায়াত আলাদাভাবে নির্বাচন করেছিল। বিএনপির প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছিলেন ১৭ হাজার ৮১২ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী গাজী আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছিলেন ৩২ হাজার ২০৫ ভোট। 

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ও বিএনপি ও জামায়াত আলাদা নির্বাচন করেছিল। জামায়াতের প্রার্থী গাজী আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছিলেন ৩৪ হাজার ৩২১ ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী এ.ইউ আহমেদ পান ২১ হাজার ৫৫০ ভোট। ২০০১ সাল থেকে জোটবদ্ধ নির্বাচনে এই আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। 
২০০১ ও ২০০৮ সালের দুটি নির্বাচনেই জামায়াতের প্রার্থী বিপুল ভোটে পরাজিত হন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রার্থীর সঙ্গে। 

এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেগম হাবিবুন নাহার প্রায় ৩১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থী আইনজীবী মাওলানা আবদুল ওয়াদুদকে পরাজিত করে সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রামপাল সদর উপজেলার বাসিন্দা লায়ন ড.শেখ ফরিদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই আসনে বিএনপির ১১ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্র করেছিলেন। 

ড.শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, গত দুটি নির্বাচনে এই আসন থেকে অনেক ভোটের ব্যাবধানে জামায়াতের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। মোংলা ও রামপালে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ভোট রয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থী এই ভোটব্যাংক থেকে কোনো ভোট পাননি। 

জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি জোটগতভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বিগত বছরগুলোতে মামলা খেয়েছেন, বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেছেন। তারপরও নেতা-কর্মীদের পাশে সব সময় ছিলেন। ভবিষ্যতে ও থাকবেন। তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে নতুন প্রার্থী ছিলাম। সে কারনে তখনকার হিসাব এখন করলে চলবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আমরা। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড