• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি?  

  নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:১৭

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি (ছবি : প্রতীকী)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা এই বিষয়ে শনিবার (১০ নভেম্বর) বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।   

শুক্রবার (৯ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, সরকার আবার একটি একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। সে লক্ষ্যে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে একতরফা তফসিল ঘোষণা করিয়েছে। সমান সুযোগ ছাড়া কোনো নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না। এ পরিস্থিতিতে আজ বিএনপি দলীয় ফোরাম, ২০ দল এবং সর্বোপরি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে নির্বাচনে অংশ নেবে কি নেবে না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। 

এদিকে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, সরকারের সঙ্গে সংলাপ ফলপ্রসূ না হলেও দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনের অংশ হিসেবেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যেতে পারে বিএনপি। আজ বা কাল দল ও জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি এবং ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও বেশিরভাগ নেতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে মত দিয়েছেন। দলের কারাবন্দি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে প্রাথমিকভাবে 'ইতিবাচক বার্তা' পাঠিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দল ও ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

দলীয় সূত্র জানায়, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে অনেক আগে থেকে বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দল থেকে মাঠপর্যায়ের নেতাদের আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলের চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিশেষ বার্তাও পাঠানো হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আর ভুল করতে রাজি নয় তারা। দলের সিনিয়র নেতারা এরই মধ্যে 'খালি মাঠে গোল' দিতে দেওয়া হবে না বলে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। বিনা চ্যালেঞ্জে মাঠ ছেড়ে দেবেন বলে না সরকারি দলকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আসছেন।

সূত্র আরও জানায়, এরই মধ্যে বিএনপি ৩০০ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে একাধিক জরিপও চালিয়েছে। জরিপে প্রতি আসনে ত্যাগী, যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের ক্রমানুসারে তিনজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০ দলীয় জোট এবং সম্প্রতি গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের জন্য প্রায় একশ' আসনের খসড়া তালিকা তৈরি করে রেখেছেন। দলের থিঙ্কট্যাঙ্ক ও সিনিয়র নেতারা নির্বাচনী মেনিফেস্টোর খসড়াও তৈরি করে রেখেছেন। কেন্দ্রের নির্দেশে গোপনে সারাদেশে প্রতিটি ওয়ার্ডকেন্দ্রিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও গঠন করে রেখেছেন। ওই কমিটি ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট হিসেবে একাধিক সৎ ও সাহসী কর্মীর নাম তালিকাভুক্ত করে রেখেছে।  

এদিকে জামায়াতসহ নিবন্ধন না থাকা দলগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন নিয়েও জটিলতা রয়েছে বিএনপির। জামায়াতে ইসলামী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছে না বলে সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে, নতুন ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে আসন জটিলতা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেও নিজ দল, ২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আসন বণ্টন নিয়ে নতুন সংকটে পড়বে দলটি। আশানুরূপ আসন না পেলে শেষ মুহূর্তে জোটে ভাঙন ধরার আশঙ্কাও রয়েছে।

এখন নির্বাচনে যেতে হলে আজ শনিবার বা আগামীকাল রবিবারের মধ্যে 'চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত' নিতেই হবে বিএনপিকে। কারণ, আগামীকালের মধ্যে কোন দল কোন জোটের সঙ্গে 'নির্বাচনী মোর্চা' করবে- তা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লিখিতভাবে জানাতে হবে। এমনকি দলীয় 'প্রতীক' কার স্বাক্ষরে বরাদ্দ করা হবে, তার নাম ও নমুনা স্বাক্ষরসহ ইসিকে জানাতে হবে। ইসির পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।  

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড