• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ড. কামাল কেন আ.লীগ ছেড়েছিলেন

  অধিকার ডেস্ক ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:১৭

ড. কামাল ও শেখ হাসিনা
এক মঞ্চে শেখ হাসিনা এবং ড. কামাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশ তখন উত্তাল আন্দোলনের মধ্যদিয়ে স্বৈরাচারপতন দেখেছে। এরপর দেশের দায়ভার কাঁধে নিয়েছেন বিচারপ্রতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। তারই তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছে সরকার বদলের একটি নির্বাচন। আর এটি অনুষ্ঠিত হয় ২৭শে ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালে। 
নির্বাচনে দুটি প্রধান দল, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের বিপরীতে ৪২৪জন সতন্ত্র প্রার্থীসহ ৭৫টি দল থেকে মোট ২৭৮৭ জন প্রার্থী অংশ নেয়। 

নির্বাচনে খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি জয় লাভ করে। তারা ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৪০টি আসন লাভ করে।

সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৮৮ আসন। জামায়াত পেয়েছিল ১৮টি আসন। পরে বিএনপি জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ হয় বিরোধী দল। 

ওই নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। ঢাকার মিরপুর আসনে কামাল হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। নির্বাচনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনও নিজের আসনে পরাজিত হন। এ পরাজয় থেকেই কামাল হোসেনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব শুরু হয়।

নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে 'সূক্ষ্ম কারচুপির' অভিযোগ আনা হয় । কিন্তু ভিন্নমত দেন ড. কামাল। নিজের পরাজয়ের পরেও তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

ড. কামালের এ বক্তব্যের পর থেকেই মূলত দলীয় প্রধানের সঙ্গে দূরত্বের শুরু। ওই বক্তব্যের পর কামাল হোসেনের গাড়িতে হামলা হয়।
১৯৯১ সলের নির্বাচনের পর ড. কামাল হোসেন শেখ হাসিনাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। দলীয় পরাজয়ের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। ওই চিঠির পর দু'জনের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে এবং তা প্রকাশ্য রূপ নেয়। পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আকস্মিকভাবে সব জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দেন।

শেখ হাসিনার সেই চিঠিতে  লিখা ছিল, ‘একটি মুখোশধারী চক্র দলে ফাটল ধরাবার চেষ্টা করছে।... নানা কৌশলে, সস্তা, সেন্টিমেন্টমূলক বক্তব্য দিয়ে প্রকাশ্যে -অপ্রকাশ্যে আজ আমার ও আওয়ামী লীগের ইমেজকে খাটো করা হচ্ছে।’

ওই চিঠিতে কারও নাম উল্লেখ না করা হলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ধরে নিয়েছিলেন যে ড. কামাল হোসেন সে চিঠির লক্ষ্যবস্তু। ১৯৯২ সাল ওই বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ড. কামাল হোসেন।

এর কয়েক মাসের মধ্যেই ড. কামাল হোসেন একটি স্বতন্ত্র ফোরাম গঠন করেন। অরাজনৈতিক ফোরাম নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হবার পরও কেন ড. কামাল হোসেন গণতান্ত্রিক ফোরাম গঠন করলেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।
এ ঘটনার কয়েক মাস পর ১৯৯২ সালের ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আর প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদ থেকে বাদ পরেন ড. কামাল হোসেন। পরে তাকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়। কিন্তু তিনি তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না।

১৯৯৩ সালে ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক দল গড়ার উদ্যোগ সামনে আসে। অগাস্ট মাসের শেষ দিকে গণতান্ত্রিক ফোরামের তিন দিনব্যাপী জাতীয় মহাসম্মেলন আহ্বান করা হয়। এ সম্মেলনে ড. কামাল সভাপতি ও মোস্তফা মহসিন মন্টু মহাসচিব নির্বাচিত হন। 

ওই দিন সকালেই ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। তার পদত্যাগের চিঠি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়।
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড