• বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ছাত্রলীগের ৩০ তম সম্মেলনে প্রাধান্য পাচ্ছে উত্তরাঞ্চল

এগিয়ে মানবিক ও সৃজনশীল নেতৃত্ব 

  সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার

২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৬:১৪
ছাত্রলীগ

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বহুল প্রতীক্ষিত ৩০ তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর। ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের পর ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ শেষ করার আগেই ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তারা পদত্যাগ করেন। এরপর সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান যথাক্রমে আল নাহিয়ান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য। তিন মাস ভারপ্রাপ্ত থাকার পর ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের ভারমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মেয়াদকাল দুই বছর। আর মেয়াদকালের মধ্যে সম্মেলন আয়োজন করার নিয়ম থাকলেও তা করতে পারেনি জয়-লেখক। পরে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড ৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনের আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছে।

সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উচ্ছ্বাস, ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। নতুন নেতৃত্বে আসার জন্য দলের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে লবিং-তদবিরে তৎপর ছাত্র নেতারা। আগামীর নেতৃত্বে কারা আসছেন তারই প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন কর্মীরা। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরপরই মধুর ক্যান্টিনের বাইরে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ও পদপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, এতদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল ছাত্রলীগ নেতাদের। এখন পদপ্রত্যাশীদের চলাফেরা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে বেশি দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ভালো, রয়েছে ক্লিন ইমেজ এবং যাদের পরিবারের সঙ্গে জামায়াত-বিএনপির কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই, তারাই আগামীর নেতৃত্বে আসবে।

ছাত্রলীগের বিগত কমিটিগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভাগ ভিক্তিক রাজনৈতিক মেরুকরণের জন্য এক-এক সময় এক-এক বিভাগ থেকে নেতৃত্ব নিয়ে আসা হয়। তবে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতা, চারিত্রিক মাধুর্যতা, শিক্ষার্থীবান্ধব ও আওয়ামী পরিবারের মধ্য থেকেই নেতৃত্বে আনার কথা জানান দলের নীতি নির্ধারক ফোরাম। বিগত কয়েক বছরে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চল থেকে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে বৃহত্তর ফরিদপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম, উত্তরবঙ্গ, খুলনা, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগ। তবে এবারের নেতৃত্বে অঞ্চল বিবেচনার পাশাপাশি করোনাকালীন সময়ে মানবিক কাজ করে আলোচিত ছাত্রনেতা ও সৃজনশীল কাজ করে আলোচনায় রয়েছেন এমন নেতৃত্ব প্রাধান্য পাবে। যারা শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় এবং মানবিক ও সৃজনশীল কাজে করে আলোচনায় আসতে পেরেছেন, এমন ছাত্রনেতারাও এগিয়ে থাকবেন।ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এমনটি গুরুত্ব পাবে। এছাড়া দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা ভাবছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পদের শীর্ষ একটি পদ আসছে উত্তরাঞ্চল থেকে। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এর বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়।সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারের সম্মেলনেও শীর্ষ নেতৃত্বে উত্তরাঞ্চল থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

নানান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন নেতৃত্বে এগিয়ে রয়েছে উত্তরাঞ্চল। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুর বাড়ি উত্তরাঞ্চল হওয়ায় তিনি এবারো রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে রাখবেন উত্তরাঞ্চল। পিছিয়ে পড়া জনপদে নতুন নেতৃত্ব তুলে আনার চিন্তা থেকে এমন পরিকল্পনা রয়েছে বলে আওয়ামীলীগের নীতিনির্ধারণীর অনেকেই এমনটি নিশ্চিত করেছেন।এছাড়া জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান থাকায় এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর বাড়ি উত্তরাঞ্চল হওয়ায় রাজনৈতিক মেরুকরণে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে এবারো উত্তরাঞ্চল থেকে আসবে শীর্ষ একটি পদ।

উত্তরাঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হায়দার মুহাম্মদ জিতু, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আবুল হাসনাত হিমেল এবং উপ- পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ সোহাগ। তবে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন স্থান পেতে পারেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সেক্ষেত্রে অনেকটা বলা যায় অন্য তিনজন থেকে একজন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসছে। তবে এক্ষেত্রে তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য, সৃজনশীল ও মানবিক নেতৃত্ব এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাকে বিবেচনা করে নির্বাচন করা হবে নেতৃত্ব।

এছাড়া উত্তরাঞ্চল এর বাইরে থেকে ছাত্রলীগের বিগত কয়েকটি কমিটি শীর্ষ নেতৃত্বের নির্বাচনের প্রক্রিয়া, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা এবং গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী যেসব পদপ্রত্যাশী এগিয়ে আছেন তাদের মধ্যে মানিবিক কাজ করে আলোচনায় রয়েছেন জয় বাংলা অক্সিজেন সেবার উদ্যোক্তা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স ও সৃজনশীল কাজ করে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক রায়হান রনি। তাদের মধ্য থেকে যে কেউ আসতে পারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এমনটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কারণে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচনা করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড