• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না : মির্জা ফখরুল

  জে রাসেল, ফরিদপুর

১৩ নভেম্বর ২০২২, ১০:১৪
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না : মির্জা ফখরুল
বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে বক্তব্য রাখছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ছবি : অধিকার)

ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না যতক্ষণ না নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন এদেশের মানুষের মনের দাবি, কারণ বিগত ২টা নির্বাচনে আপনারা মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে, ভুল বুঝিয়ে নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে ক্ষমতায় এসেছেন। এই বার আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি, মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এইবার আর কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, আমরা চাই শেখ হাসিনার পদত্যাগ, আমরা চাই এই সংসদকে বিলুপ্ত করতে, আমাদের দাবি অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সেই সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। সেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে, নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হবে।

তার দাবি, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন- সেই নির্বাচনে আমরা জয়ী হলে, একটা জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। জাতীয় সরকার গঠন করে আমরা রাষ্ট্রের মেরামত করতে চাই। নতুন করে বিচার বিভাগকে সাজাতে চাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে, আমরা নতুন করে প্রশাসনকে সাজাতে চাই সুশাসনের জন্যে। আমরা দুর্নীতি বন্ধ করতে চাই। দুর্নীতিতে দেশটা ছেয়ে গেছে। আর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে? মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে আমেরিকা র্যাবকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তারপরও তো লজ্জা হয় না, দেশবাসীকে লজ্জায় ফেললো, তাদের লজ্জা হয় না।

মির্জা ফখরুলের ভাষায়, আপনারা সংবিধানের কথা বলেন, বলে সংবিধানে যেমনটি আছে তেমনটি হবে। কি আছে সংবিধানে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো সংবিধানে ছিল। ১৯৯০ সালের পরে ৪/৫টি নির্বাচন হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। তখন সবাই ভোট দিতে পেরেছিল। সংবিধানকে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করেছে। একবার করেছিল ৭৫ সালে। সবগুলো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে দিয়ে, সবগুলো পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে বাকশাল চালু করেছিল।

বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, আজ আওয়ামী লীগ চোরের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে আছে। দেশের সম্পদ তারা লুট করে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। গত ১ যুগে দেশ থেকে ১০ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। সব জায়গায় চুরি। কোথায় চুরি করে নাই। মেগা প্রজেক্ট থেকে শুরু করে বেকার ভাতা, দুঃস্থ ভাতা, বৃদ্ধ ভাতাও চুরি করছে। আজ কোথাও টাকা নাই, রিজার্ভে টাকা নাই, সব খেয়ে ফেলছে। বড় বড় গলায় আবার তাদের নেতা বলেন, টাকা কি আমর চিবিয়ে খেয়ে ফেলেছি। আমরা বলেছি টাকা চিবিয়ে খান নাই, আপনারা রিজার্ভের টাকা গিলে খেয়ে ফেলেছেন। এই সরকার এমন একটা খাত বাকী রাখে নাই যেখানে তারা চুরি করে নাই, দুর্নীতি করে নাই।

ফখরুল আরও বলেন, আমাদের দেশে ৪২ শতাংশ মানুষ আজও দারিদ্র সীমার নিচে, আর তারা বলে আমরা না কি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। সেই সব মানুষের আয় বেড়েছে, যারা চুরি করেছে, দুর্নীতি করেছে।

শনিবার (১২ নভেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সমাবেশের প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ মঞ্চে আসলেও মূলত নেতাদের বক্তব্য দেয়া শুরু হয় বেলা ১১টা থেকেই। এর আগেই সমাবেশের মাঠ কানায় কানায় ভরে উঠে। এদিন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন- ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ এফ এম কাইউম জঙ্গি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড