• বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সংকট পেরিয়ে বর্তমান, নিরবচ্ছিন্ন সেবার ২ বছর

সমালোচক থেকে বোদ্ধা, প্রশংসিত 'জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা'

  সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার

২৯ অক্টোবর ২০২২, ১৭:৩৪
ছাত্রলীগ

'একটি নতুন ভোরের প্রতীক্ষা' এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশে ধাপেধাপে চালু হয় ছাত্রলীগের বিনামূল্যে জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা। ২০২০ সালের ২৫ জুন ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’ নিয়ে আসেন ছাত্রলীগের তিন নেতা। তিন ছাত্রলীগ নেতা হলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, উপ-বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ। তখন থেকে এভাবেই রাতদিন করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিয়ে আসছেন তারা। তারা ‘অক্সিজেন ফেরিওয়ালা’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। ফোন করলেই বাসায় পৌঁছে দেয়া হয় সিলিন্ডার। বিনিময়ে কোনো টাকা নেয়া হয় না। শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সুশীল সমাজের কাছে জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়। এ বছর জুনের ২৫ তারিখ সেবাটি দুবছর অতিক্রম করেছে। এখনো মানুষের পাশে থেকে প্রশংসা কুড়িয়ে চলেছে জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা।

কেন শুরু এই উদ্যোগ? এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জয় বাংলা অক্সিজেন সেবার অন্যতম উদ্যোক্তা সাদ বিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘ ২০২০ সালে মার্চ মাসে করোনা শুরু হয়। জুন, জুলাইয়ে প্রকট আকার ধারণ করলে বাজার থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার উধাও হয়ে যায়। পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, এক শ্রেণির মানুষ অক্সিজেনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিভিন্ন হাসপাতালে ২০ মিনিটের অক্সিজেন সেবার দাম ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির শুরু থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। নেত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরণের জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে মানুষের পাশে থেকেছে। সে ধারাবাহিকতায় মানুষের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা চালু করি বিনামূল্যে জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা।

এখন পর্যন্ত জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা পেয়েছে ১০৫৬৭ জন রুগি। বিভাগীয় শহর ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী এর পাশাপাশি জেলা শহর ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, কক্সবাজার, বগুড়া,যশোর সিরাজগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর এ সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যেসব জেলা শহরে সরাসরি সেবা নেই সেখানে কুরিয়ার যোগে বা কোন এম্বুলেন্স ওই জেলা গেলে সেখানে সিলিন্ডার পাঠিয়ে সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। সেবা কার্যক্রমে সক্রিয় ১৬০ জন এর মত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। শুরুতে ১২ টি সিলিন্ডার দিয়ে কাজ শুরু করলেও বর্তমানে প্রায় ২১৩ টি সিলিন্ডার রয়েছে।

সাদ বিন কাদের চৌধুরী আরও বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত পারিবারিক উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণী পেশা মানুষের সহযোগিতা রয়েছে। আমরা আর্থিক লেনদেন করি না। কেউ কোন পণ্য দিলে আমরা শুধু সেটি গ্রহণ করি। কেউ অক্সিজেন রিফিলে সহযোগিতা করতে চাইলে আমরা রিফিল সেন্টারের সাথে কানেক্ট করিয়ে দেই। আমরা আর্থিক লেনদেন কে নিরুৎসাহিত করে থাকি। আমরা প্রতিমাসে একবার করে অক্সিজেন সেবার সামগ্রিক বিবরণী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রদান করে থাকি। আমরা বিশ্বাস করি কাজের স্বচ্ছতা কাজকে গতিশীল করে।

জয় বাংলা অক্সিজেন সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত ও উদ্যোক্তা ডাকসুর সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, এত দীর্ঘসময় মানুষের ভালবাসা ছাড়া এধরণের একটি সেব পরিচালনা করা অসম্ভব। ভালবাসার কোন বিনিময় হয় না। মানুষের ভালবাসায় জন্যই আমরা দীর্ঘ সময় এই কাজটি পরিচালনা করতে সম্ভব হয়েছি। মানুষ যখন বলে আমাদের অক্সিজেন সিলিন্ডার এর উসিলায় উনি বেঁচে গেছেন, পুনরায় জীবন ফিরে পেয়েছেন তখন এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর হতে পারে না। যদিও হায়াতের মালিক সৃষ্টিকর্তা। সংকট যতদিন ততদিন আমরা এই সেবা নিয়ে মানুষের থাকবো ইনশাল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, মানুষের ভালবাসার জন্যই এই সংগ্রামের পথ আমরা পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছি। আনন্দ যেমন দেখেছি, ঠিক তেমনি আর্তনাদের সাক্ষী হয়েছি। অন্যের প্রিয়জন হারানোর বেদনা আমাদের ব্যথিত করেছে। অনেক সময় রোগির চাপ এতো বেশি থাকে যে সবাইকে আমরা অক্সিজেন সিলিন্ডার দিতে পারিনা। এই সময় আমরা দোকান থেকে ভাড়া নিয়ে এবং ভাড়ার মূল্য পরিশোধ করে সেবা দিয়ে থাকি। কিন্তু কিছু সময় থাকে যখন তাদের কাছেও সিলিন্ডার থাকে না। তখন আমরা অতিরিক্ত এই রোগিদের আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে পারিনা। তখন আমরা ব্যথিত হই। এই বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। সংকট শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ সেবা থাকবে ইনশাল্লাহ।

জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা গ্রহীতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম জানান, জয় বাংলা অক্সিজেন সেবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমি অক্সিজেন সিলিন্ডার এর জন্য কল করার মাত্র ৫ মিনিট এর মধ্যে আমার দাদার জন্য অক্সিজেন নিয়ে হাজির হওয়ায় আমি আসলেই এই সেবা দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার শারমীন জাহান নিজের ফেসবুকে লিখেন, ‘জরুরি একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন। কোনো সহৃদয় ব্যক্তির সহযোগিতা চাচ্ছি। এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পেয়ে রাত দুইটায় তার বাসাতেও পৌঁছে দেয়া হয় বিনামূল্যের অক্সিজেন সিলিন্ডার। এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

ডাকসুর সাবেক স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী সেবা কার্যক্রম নিয়ে আরও বলেন, 'একটি নতুন ভোরের প্রতীক্ষা' এই স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা সারাদেশে ধাপেধাপে চালু করি বিনামূল্যে জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা। আমার বিশ্বাস করি করোনামুক্ত যে নতুন ভোরের স্বপ্ন আমরা দেখি সে ভোর খুব বেশি দূরে নয়। দুঃখের অমানিশা ভেদ করে সুখের সোনালী সূর্য আবার ফিরে আসুক সেই প্রত্যাশয়। এই অন্ধকারে আলো হয়ে মানুষের পাশে থাকবে জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড