• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

ঐক্যফ্রন্টে নেই ‘বিকল্পধারা’ : কারণ বললেন ফখরুল 

  অধিকার ডেস্ক    ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৪৩

ছবি : মির্জা ফখরুল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরপেক্ষ নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা দাবিতে শনিবার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও জেএসডির সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। তবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই জোট থেকে বাদ পড়েছে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্পধারা। এ বিষয় নিয়ে রবিবার (১৪ অক্টোবর) বিবিসি বাংলায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।     

জোট গড়ার বৈঠকগুলোতে ‘কিছু বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করে সমস্যা তৈরি করছিল’ বিকল্পধারা বলে সাক্ষাৎকারে বলেছেন মির্জা ফখরুল। তবে এখানে কোনো ষড়যন্ত্র নেই, নিজেদের সিদ্ধান্তেই তারা জোটে আসেনি বলেও জানান তিনি। 

শনিবার ৭টি দাবি ও ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এসব বিষয়কে সামনে রেখে এই জোটের নেতারা আগামীতে নানা কর্মসূচি দেওয়ারও কথা জানান।

এ দিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ঘোষণার দিন সংবাদ সম্মেলন করে বিকল্পধারা। সংবাদ সম্মেলনে বি চৌধুরী জাতীয় ঐক্যজোটে থাকতে দুই শর্ত দেন। এরমধ্যে স্বাধীনতা বিরোধী কোনো দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঐক্য গড়বে না বিকল্পধারা। এছাড়া ১৫০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিতে হবে।     

এমনকি জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তারা নানা রকম শর্ত দিচ্ছিলেন বলেই ষড়যন্ত্র করে তাদের বাইরে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করে বিকল্পধারা। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এটা একেবারেই অমূলক।

ফখরুল বলেন, ‘এর পেছনে কোনো যুক্তি বা সত্যতা নেই। তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা আসবেন না। আগের দিনও তাদের সাথে কথা হয়েছে, তাদের দাবি বা বক্তব্য আমাদের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে চলে এসেছে। তারা সবাই একমত ছিলেন। সেখানে কেন তারা নতুন ষড়যন্ত্র দেখতে পাচ্ছেন আমি জানি না।’  

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই লক্ষ্য করেছিলাম যে কতগুলো বিষয়ে অযথা চাপ তৈরি করে একটা সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। যাই হোক, আমরা এ বিষয়ে বেশি কথা বলতে চাই না। আমরা আশা করি, তারা ঐক্যে ফিরে আসবেন।’

তিনি বলেন, ‘তারা আসলে আমরা আরও বেশি উপকৃত হতাম, আমাদের ঐক্য এবং গণতন্ত্রের আন্দোলন আরও জোরদার হতো। আমরা আশা করি যে তারা এ লক্ষ্যের সাথে জড়িত হবেন।’

গতকাল দুপুর থেকে রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে দফায় দফায় বৈঠকে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ এর রূপরেখা চূড়ান্ত হয়। সেখানে ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য স্থির হয়। সেগুলো সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শোনান মাহমুদুর রহমান মান্না।   

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বি. চৌধুরীকে যে রাখা হচ্ছে না সেটা স্পষ্ট হয়েছিল আগেই। গতকাল সাড়ে ৩টার দিকে ড. কামাল হোসেনের আমন্ত্রণে তার বাসায় গিয়েছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তার ছেলে মাহি বি. চৌধুরী। ড. কামাল হোসেন তখন বাসায় ছিলেন না। দুপুর থেকেই তিনি নিজের চেম্বারে দফায় দফায় বৈঠক করছিলেন বিএনপি, নাগরিক ঐক্য ও জেএসডি’র নেতাদের সঙ্গে।  

ঐক্যফ্রন্টে আসতে ১৫০ আসনের প্রস্তাব বিকল্পধারার

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে আগে থেকেই তৎপর হয়ে ওঠেন বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরী। তবে তার আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোটে নানা সমালোচনাও হয়। বিএনপিকে দেওয়া বি. চৌধুরীর ১৫০ আসনের প্রস্তাবেও নাখোশ হয় দলটি। 

এমন পরিস্থিতির মুখে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বিকল্পধারার পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচনে ১৫০ আসন চেয়ে ঐক্যফ্রন্টকে প্রস্তাব দেয় দলটির প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরী। ১৫০ আসন দিলে ঐক্যফ্রন্টে যেতে আগ্রহী বিকল্পধারা।    

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড