• শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

মিডিয়ার তারেকের পদত্যাগ পরামর্শে ফখরুলের না 

‘২১ আগস্টের দায় বিএনপির হলে বিডিআর হত্যার দায় সরকারের’

  নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:৫৮

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম (ফাইল ফটো)

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার দায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির হলে বিডিআর হত্যার দায়ভার বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১২অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। 

ফখরুল বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে সংঘটিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের হয়, তাহলে বর্তমান সরকারের শাসনামলে পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, হলি আর্টিজানে হত্যাকাণ্ড এবং জঙ্গি হামলায় নিহত বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, এনজিও কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ইমাম-মোয়াজ্জিন, যাজক, পুরোহিত, ব্লগারসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ডের দায় ক্ষমতাসীনদের ওপরই বর্তায়। কিন্তু গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব বিষয়ের কোনো উল্লেখ নেই।    

এ সময় তিনি তারেক রহমানের পদত্যাগ নিয়ে কিছু মিডিয়ার পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে দলীয় তদন্তকারীর চক্রান্তে সাজানো মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এরপরও মিডিয়ার একাংশ থেকে তারেক রহমানের পদত্যাগের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনগণ ওইসব মিডিয়াকে প্রশ্ন করতে পারে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শত শত গুম, খুন করার জন্য দায়ী সরকারের পদত্যাগ কি তারা দাবি করেছেন? 

এ সময় মির্জা ফখরুল ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, জেলখানায় চার জাতীয় নেতার বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘৃণ্য অপরাধকে একসূত্রে গাঁথার যুক্তি সঠিক হলে বিএনপি কিংবা বিএনপি পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রকে কোন যুক্তিতে অপরাধী বলা হয় বলে প্রশ্ন ছুঁড়েন।       

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে বিএনপি’র জন্মও হয়নি এবং ১৫ আগস্ট কিংবা ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোনো আদালতই বিএনপি কিংবা বিএনপি’র কোনো নেতাকে অভিযুক্ত- এমনকি সম্পৃক্তও করেনি। 

মির্জা ফখরুল বলেন, আদালতের পর্যবেক্ষণে বিরোধী দলের প্রতি সরকার ও সরকারি দলের প্রত্যাশিত আচরণ সম্পর্কে যেসব বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে তা বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারি দলের আচরণের ঠিক বিপরিত। আমরা আশা করবো সরকার আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ মান্য করবে।

বিএনপি মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নেতা মুফতি হান্নান দৈহিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, তা তিনি প্রকাশ্য আদালতে লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নেয়ার পরেও তারই জবানবন্দিকে ভিত্তি করে তারেক রহমান এবং অন্যান্য বিএনপি নেতাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়াটা কতটা মানবিক ও যুক্তিযুক্ত কিংবা আইনসঙ্গত হয়েছে। তা উচ্চ আদালত বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি।

তিনি বলেন, প্রকাশ্য আদালতে মুফতি হান্নান যাতে তাকে দিয়ে জোর করে জবানবন্দি স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে এটা বলতে না পারেন সে জন্যই অন্য একটি মামলায় দ্রুততার সাথে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। 

আদালতের পর্যবেক্ষণে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির কোনো উল্লেখ না থাকাও বিস্ময়কর এবং সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেন ফখরুল। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আইনজীবী ফোরামের সহসভাপতি অ্যাড. আবেদ রেজা প্রমুখ। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড