• বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সিলেট জেলা ও মহানগর আ. লীগের সম্মেলন আজ

  ফয়ছল আহমদ, সিলেট

০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৩৬
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা
সিলেট আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আজ ৫ ডিসেম্বের বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। ক্ষমতাসীন দলের এই সম্মেলনকে ঘিরে সিলেটের রাস্তাঘাট ছেয়ে গেছে ব্যানার, পোস্টার আর তোরণে। ইতোমধ্যে সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনা। নগরী জুড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। কারা হচ্ছেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি- এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। 

রাত পোহালেই সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত সম্মেলন। ইতোমধ্যে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রস্তুত হয়েছে। কারা হচ্ছেন সিলেট আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি? এ নিয়ে সবার মাঝে জিজ্ঞাসা যেমন, তেমনি ভেতরে ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করেছে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। তবে পদ প্রত্যাশী নেতারা সবাই তাকিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার দিকে। কারণ তিনি যাদের মনোনীত করবেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাদেরই বরণ করে নেবেন।

এ দিকে, নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন? এ নিয়ে শোনা যাচ্ছে নানা কথা। পুরনোদের পাশাপাশি নতুনদের নামও আলোচনায় আসছে। জেলা ও মহানগরের শীর্ষ চারটি পদের জন্য পুরনোদের পাশাপাশি অন্তত ১২ জন দৌড়ঝাঁপ করছেন। 

পুরনোদের পাশাপাশি নতুনরা দৌড়ঝাঁপ করলেও সবকিছুর নির্ভর করছে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর- এমনটাই জানালেন পদ প্রত্যাশীরা। ভোট নয় বরং সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি হবে বলে তারা জানিয়েছেন। তবে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির পদটি নিয়ে। 

আব্দুজজ জহুর চৌধুরী সুফিয়ান মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লুৎফুর রহমান। দলের কার্যক্রমে ততটা সক্রিয় নন বলে অভিযোগ রয়েছে এই বয়োবৃদ্ধ নেতার বিরুদ্ধে। তিনি এবার সভাপতি পদে প্রার্থী হবেন বলে মনে করেছিলেন অনেকে। তবে তার সা¤প্রতিক কর্মকাÐ বলছে, তিনি ভারমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালনের আশা করছেন। 

প্রবীণ লুৎফুর রহমানের ওপর দলীয় প্রধান ভরসা রাখলে সভাপতি পদের জন্য আলোচিত বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীকে আবারও দেখা যেতে পারে সাধারণ সম্পাদক পদে। এই পদে তিনি বেশ সফল বলেই মনে করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। সার্বক্ষণিক রাজনীতিবিদ হিসেবে খ্যাতি আছে শফিকের। সেই সঙ্গে দলের জন্য বারবার আত্মত্যাগ করে নেত্রীর গুড লিস্টেও রয়েছেন তিনি।

তবে এ পদের জন্য আরো আলোচনায় রয়েছেন- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ ও সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। দলের হাইকমান্ডের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ইমরান আহমদ চৌধুরীর শেষ মুহূর্তে জোরেশোরে প্রচারণায় নামাও ভাবিয়ে তুলেছে তাদের। 
আরেক সহ-সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদও এবার সভাপতি পদে প্রার্থী।  

শফিকুর রহমান চৌধুরী আবার সাধারণ সম্পাদক হলে আশার ফানুস চুপসে যাবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী বর্তমান সহ-সভাপতি শাহ ফরিদ আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, নিজাম উদ্দিন ও সুজাত আলী রফিক, কোষাধ্যক্ষ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মোশাহিদ আলী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রণজিৎ সরকার, উপ-দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরীর।

অন্যদিকে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদে পুরনো দুই জনের কথাই বেশি আলোচিত হচ্ছে। গত সিটি নির্বাচনে ব্যর্থতার দায় থাকলেও কামরান-আসাদকেই আবারও দেখা যেতে পারে মহানগরীর নেতৃত্বে। তবে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে আগামীতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। সেটি সত্য হলে এই পদে নতুন কেউ আসতে পারেন। এছাড়াও আলোচনায় আছেন সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মফুর আলী, অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিন আহমদ ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালিক এবং যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ার।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ও বিজিত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল ও এটিএম হাসান জেবুল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র এবং বন ও পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাসের নামে আলোচনা আছে। 

এ বিষয়ে এটিএম হাসান জেবুল বলেন, সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আমি প্রস্তুত আছি। যদি নেত্রী দেন, কাউন্সিলররা চায়, তবে আমি অবশ্যই দায়িত্ব নেব।

এদিকে সিলেট আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলের কাছে চারটি দাবি তুলেছেন সিলেটের মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে- ১. এদেশে রাজনীতি করার অধিকার শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ ব্যক্তির রয়েছে। এদেশে রাজনীতি করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কোনো পরিবারের সন্তান হওয়া চলবে না। ২. সরকারি বা বিরোধীদল কোথাও ৭১ এর রাজাকার, আলবদর, আল শামস বা বর্তমান জামায়াত-শিবির পরিবারের কোনো সদস্যের রাজনীতি করার অধিকার থাকতে পারে না। ৩. আওয়ামী লীগ সভপাতিসহ সকল আওয়ামী লীগ নেতবৃন্দ ও কাউন্সিলরদের কাছে মুক্তিযোদ্ধারা আহ্বান জানান তারা যেন ’৭১ এর রাজাকার, আলবদর, আল শামস, শান্তি কমিটির সদস্যদের সন্তান এবং অধুনা বিএনপি-জামাত থেকে অনুপ্রবেশকারী কাউকে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলীয় কোন পদে নির্বাচিত বা মনোনয়ন না দেন। ৪. সিলেটের কোনো কোনো উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজাকার-শান্তি কমিটির সদস্যদের সন্তানদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা এ সকল কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এ সকল পদে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ ব্যক্তিদের মনোনয়ন বা পুনঃনির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বুধবার দুপুরে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো তুলে ধরেন সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সর্বশেষ নির্বাচিত কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্ত্তী জুয়েল।

ওডি/ এফইউ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড