• রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল

স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং ত্যাগের মানদণ্ডে তার তুলনা তিনিই

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১২:১০
আড়াইহাজারের (নারায়ণগঞ্জ-২) জননন্দিত এমপি নজরুল ইসলাম বাবু
আড়াইহাজারের (নারায়ণগঞ্জ-২) জননন্দিত এমপি নজরুল ইসলাম বাবু (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আসন্ন ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে বেশ সরগরম রাজনৈতিক মাঠ। সম্প্রতি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার চালানো শুদ্ধি অভিযানের কবলে বাদ পড়েছে প্রথম সারির বড় বড় নাম। তবুও শুদ্ধিকরণের ব্রত থেকে একটুও পিছ পা হননি প্রধানমন্ত্রী।

তবে আওয়ামী লীগের পোড়খাওয়া নেতাকর্মীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত এই কাউন্সিলকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। নেতৃত্বে কারা আসছেন তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। যেমন দলের অন্দরমহলে, তেমন বাইরেও। এমনকি সাধারণ মানুষও করছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ দুই পদে আসীন হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকেই। 

যুবলীগের দায়িত্বশীলদের মুখ থেকে ঘুরে-ফিরে অল্প কয়েকটি নাম পাওয়া গেলেও এবারের কাউন্সিলে ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজের তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ায় নজরুল ইসলাম বাবু এগিয়ে থাকবেন বলে সর্বমহলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৬৭ সালে আড়াইহাজার উপজেলার বাজবী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া বাবু দুপ্তারা সেন্ট্রাল করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে এসএসসি, ১৯৮৪ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক এবং সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেন।

ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বিভিন্ন সময় আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণ করতে হয় তাকে। ১৯৯৪ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৯৮ সালে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম বাবু।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-২ অর্থাৎ আড়াইহাজারের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু এক সময় ছিলেন তুখোর ছাত্রনেতা। মানুষ, তথা তার নির্বাচনি এলাকার প্রতি দায়বোধ থেকেই তিনি এগিয়ে এসেছেন মানুষের পাশে। ছাত্রাবস্থায় রাজপথ কাঁপানো এ নেতা টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হয়ে আড়াইহাজারবাসীর কল্যাণের ব্রত নিয়ে অবিরাম কাজ করে হয়েছেন গণমানুষের নেতা। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, শুধু প্রাপ্তিই নয়, দলের প্রয়োজনে যে কোনো সংকটে সর্বস্ব ত্যাগী এ নেতা দাঁড়িয়েছেন দলের পাশেও। তার বড় উদাহরণ হয়ে আছে ২১শে আগস্টে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা। এ হামলার সময় তিনি আহত হন। সেই দিনের নৃশংস গ্রেনেড হামলার স্প্রিন্টার এখনো শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

সর্বদা মানুষের পাশে থেকে সরকারের উন্নয়নের যাত্রায় আড়াইহাজারের উন্নয়নের চিত্র শুধু নারায়ণগঞ্জ নয় তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোটা দেশবাসীকে। আড়াইহাজারে অর্থনৈতিক জোনের জমি অধিগ্রহণ, কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, হেলথ্ কমপ্লেক্সকে পঞ্চাশ শয্যায় উন্নীতকরণ, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও তথ্য প্রযুক্তি, অডিটরিয়াম ও কমিউনিটি সেন্টার, শিক্ষাক্ষেত্রে নানা কর্মসূচি, বাঁধ নির্মাণ ও গ্রামীণ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপন, বহু প্রতীক্ষিত বিশনন্দী মেঘনা নদীর ওপর স্বপ্নের মেঘনা সেতু, বিদ্যুৎ সেক্টরে আমূল পরিবর্তন, সামাজিক বনায়ন, উপজেলা সদরে নবগঠিত বিচারালয়সহ নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার সিদ্ধহস্তের কথা জেনে গেছে দেশবাসী। আর এর পুরস্কারস্বরূপ সম্প্রতি ত্যাগী ও সংগ্রামী এই নেতা আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন এই নেতা এবার কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটিতে সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদে আসছেন বলে গুঞ্জন চলছে। দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটিতে আসার জন্য দলটির হাইকমান্ডের গ্রিনবুকেও আছে এমপি বাবুর নাম।

এ দিকে দায়িত্ব পেলে তার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু।

এ বিষয়ে এমপি বাবু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাকে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। আমি শতভাগ নিশ্চিত যে, দায়িত্ব পেলে আমি তরুণদের জন্য কিছু করতে পারব। নেত্রী যেভাবে চান আমি সেভাবে দায়িত্ব পালন করব।’

তিনি গণমাধ্যমকে আরও বলেন, ‘আমি নিজেকে একজন ভালো সংগঠক বলেই মনে করি। যদি দল আমাকে যোগ্য মনে করে তাহলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লড়াইয়ে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করতে আমি জীবন বাজি রেখে সঠিক ও সৎ উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করব।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণে সবথেকে বেশি কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে যুবলীগের নেতা কর্মীদের। চেয়ারম্যানসহ বেশকিছু বড় নেতা ছিটকে পড়ায় এক সংকটের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে যুবলীগ। এ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বাবু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কেবল নিজের কথা বলব না, আসলে যাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো তারা কমিটিতে আসলে এই বিষয়টির উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। নেত্রী আসলে কেমন বাংলাদেশ চান? তিনি চান বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ। এই বিশ্বাস যদি কারোর মধ্যে থাকে সে এই বিষয়গুলো কাটিয়ে আসতে পারবে।’

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার রাজনৈতিক পথ এত মসৃণ নয়। সত্য ও আদর্শের রাজনীতি করায় বারবার তাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। জনবান্ধব নেতা হবার কারণে কখনো বিরোধী পক্ষের রোষানলে আবার কখনো নিজ দলের সুবিধাভোগী চক্রের দ্বারা মানসিক চাপে পড়তে হয়েছে বলেও অনুসন্ধানে এসেছে। বিএনপি জোট সরকারের আমলে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন এবং ডান্ডাবেড়ি অবস্থায় কারারুদ্ধ ছিলেন। জীবন বাজি রেখে সে সময় আওয়ামী লীগের ঝান্ডা হাতে বেরিয়ে পড়তেন রাজপথে। বুকে বয়ে বেড়াচ্ছেন ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার স্প্রিন্টার।

ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার কাছে বৃহত্তরের স্বার্থচিন্তা মুখ থুবড়ে পড়েছে, এমনটাই বর্তমান সময়ে লক্ষ করা যায়। কিন্তু এমপি বাবুর মতে, আইন, মানবিকবোধ, প্রকৃত শিক্ষা, নৈতিকতা, ধর্মবোধ এই সবগুলো যদি, কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না পৌঁছে তাহলে কোনোভাবেই বৃহত্তর উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা চান, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সম্পন্ন এবং কোনো অনৈতিক কাজে জড়িত না থাকার নেতৃত্ব। আর বাবু এখানেই অনন্য উচ্চতায় আসীন বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

ওডি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড