• মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৬  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

শিরোনাম :

থেরেসা মে : ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভোট জানুয়ারিতে||'নির্বাচনে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপ আহ্বান'||রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রস্তাব আলোচনা বর্জন করেছে চীন ও রাশিয়া||৩০০ কোটি টাকায় দুটি রুশ হেলিকপ্টার কিনছে বিজিবি||বরখাস্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ হোসে মরিনহো||সু চি’কে দেওয়া পুরস্কার প্রত্যাহার করল দক্ষিণ কোরিয়া||নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও বিদ্যমান : সিইসি||জামায়াতের ২২ নেতার ‘ধানের শীষ’ বাতিলে আদালতে রুল||যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিএনপি   ||প্রতিশোধের রাজনীতি বন্ধের অঙ্গীকার করল বিএনপি 

হাত নেই, চোখ নেই : তবে কি তারা ভোটার নন?

  তারিন ফাহিমা ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:১৪

ভোটাধিকার
প্রতিবন্ধীরা কীভাবে ভোট দেন?

নাম রহমান। বয়স আনুমানিক ৩৫। জন্মের পরই বাবা মাকে হারিয়েছেন। রাস্তায় বেড়ে ওঠা তার। ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ফুটওভার ব্রিজের কাছে নিচে পড়ে থাকা এই মানুষটিকে হয়তো অনেকেই দেখেছেন। কখনোবা তাকিয়েছেন অবহেলা বা করুণার দৃষ্টিতে।

অনেক সময়ই তাদের দিকে তাকানো হয় করুণার দৃষ্টিতে

অনেক সময়ই তাদের দিকে তাকানো হয় করুণার দৃষ্টিতে 

অথচ তারাও মানুষ। হ্যাঁ তবে এই মানুষটি আমার আপনার মতো স্বাভাবিক মানুষ নয়। তার হাত-পা অচল বললেই চলে। যাকে আমরা প্রতিবন্ধী বলে অভিহিত করি। 

২৫ বছর বয়সী মনির। বাড়ি ময়মনসিংহ। ছোট্ট বেলায় তার মা বিষ পান করে আত্মহত্যা করে। বাবা পরে আরেকটি বিয়ে করেন। কিন্তু সেই সংসারে ঠাঁই হয়নি মনিরের। কারণ মনিরের এক হাত আর এক পা অচল। তাই ভাগ্যের অন্বেষণে ঢাকায় পাড়ি জমায় মনির। কখনো হাই কোর্ট, কখনো গুলশান, কখনো বা  গুলিস্তানে ভিক্ষা করেন তিনি। ঢাকায় আছেন প্রায় এক যুগের উপরে। 

ভাগ্যের কাছে পরাজিত এক ব্যক্তি

ভাগ্যের কাছে পরাজিত এক ব্যক্তি  

এদের জীবনের গল্প আলাদা হলেও মনে হয় তাদের জীবন যেন একই সূত্রে গাঁথা। কেননা এদের কোনো না কোনোভাবে শারীরিক অক্ষমতা রয়েছে। 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫৪৩ জন। যা মোট সংখ্যার প্রায় এক শতাংশ। শারীরিক প্রতিবন্ধী ৬ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৩, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৫৪ জন। 

দেশে এই মানুষগুলোরও স্বাভাবিকভাবে বসবাসের অধিকার রয়েছে। রয়েছে সকল মৌলিক অধিকার, নাগরিক হিসেবে সকল সুযোগ সুবিধা পাওয়ার। তাদের ভোটদানেরও অধিকার রয়েছে। কেননা, সংবিধানে বলা হয়েছে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজস্ব প্রতিনিধি, অর্থাৎ গণপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার ক্ষমতা ভোগ করেন এবং নিজে গণপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার অধিকার রাখেন। 

এজন্য রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি সর্বোচ্চ সংস্থা বা জাতীয় পরিষদে ন্যস্ত থাকে। 

এজন্য বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮তে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দান করবেন। সংবিধানের ১১৮(১) (২) (৩) (৪) (৫) (৬) উপঅনুচ্ছেদগুলোতে নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ, নিয়ন্ত্রণ ও অপসারণের পদ্ধতি বর্ণিত আছে।  

বাংলাদেশ সরকার এই অধিকার বাস্তবায়নে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল সংস্করণ শুরু করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে স্মার্টকার্ড। এই স্মার্টকার্ডে দেশের নাগরিকদের ডিজিটাল তথ্য এবং নাগরিক সম্পর্কে সকল তথ্য জানা যাবে।  

 

নির্বাচন কমিশন

 নির্বাচন কমিশন

এই স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে ২২ ধরনের সেবা গ্রহণ করতে পারবে একজন নাগরিক। নির্বাচনে ভোটার শনাক্তকরণ, বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক হিসাব খোলা, ড্রাইভিং লাইসেন্স করা ও নবায়ন, পাসপোর্ট করা ও নবায়ন, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, চাকরির আবেদন, বিমা স্কিমে অংশগ্রহণ, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়সহ  নানা ধরনের সেবা পেতে এটি সহায়তা করবে।    

তবে সাধারণ ব্যক্তির জন্য এই স্মার্টকার্ড পেতে গেলে তাদের চোখের আইরিশ এবং হাতের ছাপের দরকার হবে। 

এখন প্রশ্ন হলো- যারা শারীরিক প্রতিবন্ধী তারা কীভাবে এই ২২ ধরনের সেবা পাবেন অথবা তারা যে দেশের নাগরিক, সেটি কিভাবে প্রতীয়মান হবে। কারণ যাদের এই ধরনের অক্ষমতা রয়েছে, তাদের অনেকেরই হাত নেই বা অনেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।    

সেই প্রশ্নের জবাব দেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক এস এম  আসাদুজ্জামান । 

তিনি দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকেরই রয়েছে। সে ক্ষেত্রে যারা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাদেরও এই পরিচয়পত্র পাবার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। কেননা তারাও এ দেশেরই নাগরিক’।   

তবে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেমন ধরেন যাদের হাত নেই, তাদের আইরিশের মাধ্যমে সনাক্তকরণ করা হয়। বা যারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, তাদের শুধু হাতের ছাপ বা ফিঙ্গার দিলেই হবে। তার মানে এই সকল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যার যে অঙ্গ সচল আছে, সেই অঙ্গটি তাদের সনাক্তকরণ চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হবে’।