• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

তৃতীয় লিঙ্গ এবং দেশে দেশে তাদের অধিকার

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:৫৪

তৃতীয় লিঙ্গ
বিভিন্ন দেশে রয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার

নারী নয়, নয় পুরুষও। তৃতীয় এক লিঙ্গের স্বীকৃতি দিতে অনেক দেশে করা হয়েছে আইন। তবে কিছু সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের উপস্থিতি বেশ পরিচিত ও স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। 

বাংলাদেশের কথাই ধরুন! সামাজিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ অনেক আগে থেকেই তৃতীয় এই লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। সুযোগ সুবিধা পাওয়া বা স্বাভাবিক জীবন যাপন করা হচ্ছে কতটুকু  এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। 

তবে এটা মানতেই হবে যে, আমরা খুব ছোটবেলা থেকে ‘হিজড়া’ নামে পরিচিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে চিনে এসেছি, দেখে এসেছি। পাশাপাশি, এক সমাজে আমরা সবাই বেড়ে উঠেছি। তবে সব দেশ কিন্তু এমন নয়। অনেক দেশে তৃতীয় এই লিঙ্গকে কোনোভাবেই সহজ কিছু বা মেনে নেওয়ার মত কিছু বলে মনে করা হয়নি কখনো। 

আইনি দিক থেকে না হলেও বছরের পর বছর ধরে তৃতীয় লিঙ্গকে মেনে নিয়ে এসেছে ওমান, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ইত্যাদি স্থানের সমাজগুলো। তবে সম্প্রতি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে বাকিদের মতোই সমান সুযোগ সুবিধা দেওয়া এবং তাদেরকে সামনে এগিয়ে আসার ব্যাপারে সাহায্য করার ব্যাপারে কাজ করছে দেশগুলো। এই সারিতে আছে বাংলাদেশও। 

২০১৪ সালে এই সারিতে আসে যুক্তরাষ্ট্র। সে বছরের ২০শে মার্চ নারী এবং পুরুষের বাইরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নাগরিক হিসেবে সুযোগ সুবিধা ও অধিকার প্রদান নিয়ে হোয়াইট হাউজে পিটিশন করা হয়। এতে বলা হয়, আমেরিকার আইন শুধু নারী ও পুরুষকে স্বীকৃতি দেয়। কেন সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের কথা জায়গা পাবে না? 

তবে যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে পিছিয়ে থাকলেও এর আগেই বেশকিছু দেশ তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি জানিয়েছে। চলুন জেনে আসি সেই দেশগুলোর ব্যাপারে-

১। নেপাল- 

নেপালকে পৃথিবীর প্রথম তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ মনে করা হয়। ২০১১ সালে নিজেদের আদমশুমারিতে নেপাল নারী ও পুরুষের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের স্থানটিও অন্তর্ভূক্ত করে। নেপালের পাসপোর্টেও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য আলাদা স্থান রাখা আছে।

২। ভারত- 

ভারতে ‘হিজড়া’ নামে প্রায় ৫ থেকে ৬ মিলিয়ন মানুষ থাকলেও তারা কখনোই দেশের দ্বারা স্বীকৃতি পায়নি, মেলেনি তাদের কোনো অধিকারও। অবশ্য, ২০০৯ সালে এই ব্যাপারটি পরিবর্তিত হয়। সেবার প্রথম নির্বাচনে নারী ও পুরুষ বাদেও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ভোট দেওয়ার আলাদা স্থান রাখা হয়। 

৩। পাকিস্তান- 

২০০৯ সালের কথা। পাকিস্তানে পুলিশের দ্বারা আটজন হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ) নির্যাতিত হন। ব্যাপারটি নিয়ে কাজ করেন উকিল মোহাম্মাদ আসলাম খাকি। তৃতীয় লিঙ্গের জন্য স্বীকৃতি চান তিনি। একটা সময় সে বছরের শেষের দিকে আদালত থেকে তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি জানানো হয় এবং তাদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়। 

৪। বাংলাদেশ-

বাংলাদেশে ২০০৯ সাল থেকে হিজড়াদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে দেশের সমস্ত কাগজ, পরিচয়পত্র, পাসপোর্টে ব্যাপারটি কার্যকর হয় ২০১৪ সালে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

৫। জার্মানি- 

ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে জার্মানি তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি প্রদান করে। শুরু থেকেই পরিচয়পত্রে ক্রস চিহ্ন দেখিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে নিজেকে পরিচিত করার সুযোগ পায় যেকোনো শিশু। প্রাপ্তবয়স্ক হলে তখন তার হাতে সুযোগ থাকে কোনো একটি লিঙ্গকে বেছে নেওয়ার। 

এছাড়াও এই তালিকায় আছে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা ও ডেনমার্কসহ আরও অনেক দেশ। আর্জেন্টিনায় এ ব্যাপারে সার্জারি করার অনুমতিও দেওয়া হয়। যে কেউ ইচ্ছে করলেই নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করতে পারবে আর্জেন্টিনা ও ডেনমার্কে। আর এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আছে জাতীয় পরিচয়পত্র পরিবর্তনের সুযোগও। 

তৃতীয় লিঙ্গের কেউ মানে এই নয় যে, তার কোনো অধিকার নেই, সে মানুষ না। আপনার কিংবা আমার মতো, নারী ও পুরুষের মতোই তৃতীয় লিঙ্গের সব মানুষের আছে প্রাপ্যটুকু পাওয়ার অধিকার। কেবল দেশ নয়, এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে দেশের মানুষকে, এই আমাদেরকেও। তাহলেই একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষও এগিয়ে যেতে পারবেন অনেক দূর।

সূত্র : লিস্টভার্স, সিএনএন, মিক ইত্যাদি  
 

মানুষের অধিকার নিয়ে লিখবে অধিকার; লিখুন আপনিও। আপনার চারপাশে অধিকার বাস্তবায়নে আপনিও সচেষ্ট হোন, জানান সরাসরি দৈনিক অধিকারকে [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড