• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আর্থ-সামাজিক বৈষম্য ও আমাদের ভাবনা

  জয়নুল হক

০৬ আগস্ট ২০১৯, ১১:২৩
আর্থ-সামাজিক বৈষম্য
ছবি : প্রতীকী (ইনসেটে লেখক জয়নুল হক)

মানুষ জন্মগতভাবেই সামাজিক জীব, সমাজই তাদের আবাসস্থল। আর এ সমাজে বাস করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। যেখানে কেউ শ্রমিক, কেউ দিনমজুর, শিক্ষক, ডাক্তার, ব্যবসায়ী আর কেউ বা সাংসদ। আর এসব ভিন্ন মানুষের জীবনযাত্রার মানও ভিন্ন। কেউ নিম্ন, কেউ মধ্য আর কেউ বা উচ্চ পর্যায়ের। প্রতিটি সমাজেই বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠে। যারা প্রভাবশালী তারা সর্বদা নিরীহদের দমিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে তৎপর থাকে।

আমাদের সমাজব্যবস্থায় সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ সর্বক্ষেত্রেই বৈষম্য বিদ্যমান। সমাজের উচ্চ পর্যায়ের লোকেরা সবসময়ই নিচু স্তরের লোকদের শাসন করে আসছে। আবার যারা নিচু স্তরের তারা দিন দিন শোষিতই হয়ে যাচ্ছে। এর কোনো পরিবর্তনই লক্ষ করা যায় না। নিচু স্তরের লোকদের শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মতো শক্তিও নেই, সাহসও নেই! কেননা প্রতিবাদ করলেই হতে হবে নির্যাতনের শিকার! চলবে অত্যাচার নিপীড়ন! এর চেয়ে নিরবে সহে যাওয়াকেই তারা ভালো মনে করে।

সাধারণত দেখা যায়, যাদের টাকার গরম আর ক্ষমতার গরম আছে, তারাই সর্বেসর্বা হয়ে যায়। তারা যা বলে তাই সাধারণের মেনে নিতে হয়। তাদের কোনো ভুল কখনো ভুল হয় না! এমনকি তারা স্বার্থের জন্য অন্যের সত্যকে ভুল, আর ভুলকে সত্য বলতেও দ্বিধাবোধ করে না।

আমরা যদি স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা এবং সমাধানের কথা বলি- তাহলে দেখা যায়, যখন কোনো গ্রামে বসবাসকারী মানুষের কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়। তখন গ্রামের যারা উচ্চবিত্ত তারা সমাধানের পথ খুঁজে। কিন্তু কখনো ঐ সমস্যার সমাধানের জন্য সমস্যাগ্রস্থ লোকের কোনো কথা শোনা হয় না। গ্রাম্য মোড়লরা বসে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। এখানে, যে সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তি তার সমস্যার আদ্যোপান্ত না শুনেই সমাধান বের করার চেষ্টা করা হয়। এতে কোনো লাভই হয় না! কারণ সমাধানকারীরা কখনো ঐ সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তির অনুরূপ অনুভূতি লাভ করতে পারবে না। এখানেও নিচু স্তরের লোকজন শোষিত ও বৈষম্যের শিকার।

আমাদের চাওয়ার কোনো শেষ নেই। যত আছে ততই চাই! নিজের ঝুলি ভারী করার জন্য সব ধরনের পন্থাই অবলম্বন করতে থাকি। এর জন্য অন্য কারো ক্ষতি হয়ে গেলেও আমাদের তাতে কিছু যায় আসে না! সব সময়ই আত্মকেন্দ্রিক চিন্তায় নিমগ্ন থাকি। আমাদের এমন মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। সমাজের সবার কথা চিন্তা করতে হবে। আমরা এমন অনেকেই আছি যারা তিন বেলা ইচ্ছানুযায়ী খেতে পারি। অথচ আমার পাশের লোকজন একবেলাও যে খাবার পায় কী না তার খোঁজও নেই না। অথচ আমাদের আশেপাশেই কত মানুষ অভাবে-অনটনে জীবন যাপন করছে। এমনও মানুষ আছে যারা লজ্জায় নিজের অনাহারের কথা কখনো প্রকাশ করে না। এমন মানুষের দিকে আমাদের নজর দেওয়া উচিত। আমাদের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিমিত রেখে এমন মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসা উচিত অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা না করে, অন্যের জন্য নিজের বিলাসিতা উৎসর্গ করুন। এতেই সার্থকতা। বিলাসিতার মধ্যে কোনো আনন্দ নেই, প্রাপ্তিও নেই। মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই যত সার্থকতা আর প্রাপ্তি নিহিত।

আসুন, আমাদের আত্মকেন্দ্রিক চিন্তায় পরিবর্তন আনি। সমাজ ও দেশের কথা ভাবি, সমাজের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করি। আত্মকেন্দ্রিক চিন্তার পরিবর্তন ঘটিয়ে সার্বজনীন উন্নতির কথা চিন্তা করি। তাহলেই সমাজ এগিয়ে যাবে। দেশ এগিয়ে যাবে। আর সমাজের উন্নয়ন মানেই ত দেশের উন্নয়ন।

লেখক : শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড