• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাজেটোত্তর শিক্ষার্থীদের ভাবনা

  মোহাম্মদ রায়হান

১৫ জুন ২০২২, ১৬:২৭
বাজেটোত্তর শিক্ষার্থীদের ভাবনা
ছবি : অধিকার

বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গেল বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বাজেট ২০২২-২৩ সংসদে উত্থাপন করেন। বাংলাদেশের ৫১তম প্রস্তাবিত এই ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার মোটা দাগের বাজেটকে অর্থমন্ত্রী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়ক বাজেট হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেছেন, উত্থাপিত বাজেটে এদেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন, যারা কষ্ট করে জীবন যাপন করেন তারাও উপকৃত হবেন।

তবে, তবে সার্বিক বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে তরুণ প্রজন্মের মাঝে। বাজেটোত্তর সময়ে কি ভাবছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর সরকারী তিতুমীর কলেজে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাবনা জানাচ্ছেন মোহাম্মদ রায়হান-

সরকার আগামী অর্থবছর সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশর প্রেক্ষাপটে এটা আমাদের অনেক বড় একটা পাওনা। কারণ উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই পেনশন ব্যবস্থা জনমনে স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলে আমি মনে করি।

এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশের যে হারে ফ্রিল্যান্সার বৃদ্ধি পাচ্ছে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এটি একটি শক্তিশালী খাত হয়ে দাঁড়াবে। আর এই ফ্রিল্যান্সারদের প্রধান যন্ত্র হচ্ছে ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট। সরকার ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেটের উপরেই অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপ করেছে। অন্তত সরকার প্রণোদনা দিয়ে হলেও এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম কমিয়ে ফ্রিল্যান্সিং খাতকে আরও সম্ভাবনাময় করে গড়ে তুলতে পারতো।

চাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানোর বিষয়টি বাজেটে উল্লেখ থাকা দরকার। সব শ্রেণির মানুষ যেন তাদের আয় অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারে, সেদিক খেয়াল রেখে এই বাজেট ঘোষণা করা উচিত ছিল।

এই বাজেটে দেশের তারুণ্যকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে ফিরিয়ে আনতে সিগারেটের দাম বাড়ানোকে আমি একান্তভাবে সমর্থন করছি। তাই এই বাজেটে এই বিষয়টা সত্যিই দারুণ ছিল।

এবারের বাজেটে আগামী পাঁচ বছরে দেড় কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগের চেয়েও অনেক বেশি স্নাতক পাশ করে বের হচ্ছেন, সেই তুলনায় কাজের সুযোগ বাড়েনি। তাই কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে আরও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রত্যাশা ছিল আমার।

ইয়াসিন আরাফাত, দর্শন বিভাগ

২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার ৬ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। এত বড় বাজেট দেখে খুশিতে আত্মহারা হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না কেননা, বাজেটটি ঘাটতি বাজেট। শুধুমাত্র ঘাটতি বলব না ঘাটতির পাশাপাশি ঋণ নির্ভর বাজেট এটি। এ বাজেটে শিক্ষার জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে যেটিকে শিক্ষার্থীরা সাদরে গ্রহণ করেছে কিন্তু, শিক্ষার গুনগত মান আদৌ কি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা? সরকার চাইলে টেকসই মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য আরও কিছু বরাদ্দ বাড়াতে পারতো।

উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী খাতে সরকারের আরও বরাদ্দ বাড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি। সরকার যেহেতু, উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দিচ্ছে তাই উদ্যোক্তাদের কথা ভেবে ই–কর্মাসের উপর ভ্যাট কমানো উচিত। কেননা, উদ্যোক্তাদের আরেকটু সুযোগ দিলে অর্থনীতির চাকা আরও সচল হবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যতটা আশা দেখানো হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে আমি ততটা আশাবাদী না। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাজেটে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানে দেশে লক্ষ লক্ষ তরুণ অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে নিজেকে স্বাবলম্বী করছেন কিন্তু, এবারের বাজেটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের উপর ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। অতিরিক্ত, ভ্যাট আরোপের কারণে তরুণরা ফ্রিল্যান্সিং পেশায় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। বাজেটে প্রায় সবসময় দেখা যায় গবেষণায় বরাদ্দ অনেক কম থাকে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রচুর গবেষণার দরকার। গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশ অনেক লাভবান হবে।

মো. সাব্বির হোসেন, ইংরেজি বিভাগ

জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, যা দেশের এ পর্যন্ত সর্ববৃহৎ বাজেট। করোনা মহামারি কাটিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রগতিতে বাজেটের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই এ বাজেট নিয়ে জনমনে প্রবল আগ্রহ থাকবে এটা স্বাভাবিক।

বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সংশয় দেখা দিয়েছে বলা চলে ।২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে কিছু কিছু দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় মানুষের মাঝে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে । সাধারণ মানুষের আয় থামিয়ে রেখে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরকারের ভূমিকা কঠোর হওয়া উচিত।

বর্তমান সময়ে মুদ্রাস্ফীতি, আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি-রফতানি, বাণিজ্য, টাকার বিপরীতে ডলারের উত্থান-পতন, জনজীবন তীব্র অসংগতির মাঝে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বৃহৎ আকারের ঘাটতি বাজেট উত্থাপিত হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হ্রাসের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য দাম কমানোর বিষয়টি বাজেটে উল্লেখ থাকা দরকার যার মাধ্যমে মানুষ স্বস্তি পাবে। সরকারকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত হিসেবে বসবাস করা জনগোষ্ঠীর দিকে সবার আগে নজর দিতে হবে।

এবারের বাজেট সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন আগামী অর্থবছর থেকে দেশের ষাটোর্ধ সব মানুষকে পেনশনের আওতায় আনা হবে। তবে পেনশনকে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আয়কর ও পেনশনকে একীভূত করা প্রয়োজন। অর্থাৎ আয়কর ব্যবস্থার সঙ্গে পেনশন ব্যবস্থা যুক্ত করতে হবে।

দিনশেষে আমাদের একটাই চাওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট হোক জনবান্ধব।

মো. সেফায়েত উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

বাজেট হচ্ছে একটি দেশের সম্ভাব্য আয় ব্যয়ের হিসাব। বাজেট পরবর্তী তরুণদের ভাবনা প্রসঙ্গে ৩টি পয়েন্ট উপস্থাপন করতে পারি- দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণ, গবেষণা, শিক্ষা।

আমাদের যতটুকু সম্পদ আছে তা সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারলে সংকট আরও কমে আসবে। গবেষণা খাতের উন্নতির জন্য যদি একটু বেশি ব্যয় করা হয় তাহলে তা দেশের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে। শিক্ষকরা গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল পায় না। বলতে চাচ্ছি শিক্ষা খাতে বাজেটের যে অংশ বরাদ্দ থাকে তা ভাগ হওয়ার পর এর পরিমাণ দাঁড়ায় একেবারে সামান্য।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় অন্য দেশ শিক্ষিতদের সুযোগ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে সংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায় আমরা অনেক এগিয়ে কিন্তু মানের দিকে আমরা কোথায়? স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় অর্জিত শিক্ষা ছেলেমেয়েরা কর্মজীবনে প্রয়োগ করতে পারেনা এ থেকে বলতেই পারি আমরা মানের দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে। তবে এ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কোনো কারণ দেখিয়ে আমাদের দেশে জিনিস পত্রের দাম রাতারাতি বেড়েই চলছে, তার লাগাম টানা জরুরি।

আঞ্জুমান ইকরা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, এই দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য আসন্ন অর্থবছরে মোট ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষার মান ও কাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি ভালো খবর। তাছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিগুণের বেশি অনুদান বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সার্বজনীন পেনশনের ক্ষেত্রে, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি যুগোপযোগী হয়েছে বলে মনে করছি।

এবারের বাজেটে স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ভালো সুযোগ রয়েছে। স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের টার্নওভার করহার শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রণীত বাজেটকে আমি বেকার যুবকদের জন্য সুখবর বলে মনে করি। বাজেটে বেকার যুবকদের বিভিন্ন খাতে প্রশিক্ষণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে বিরাট ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছি।

দেশীয় পণ্যে ছাড়ের ক্ষেত্রে বলতে পারি দেশীয় পণ্য রফতানি করে আমাদের দেশের রফতানি আয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী আমি।

কিন্তু এত খুশির সংবাদের পরেও কষ্ট রয়ে যায়, যখন ফ্রিজ, রেলের টিকিট, মুঠোফোন, পানি বিশুদ্ধিকরণ যন্ত্র, ল্যাপটপ, গাড়িসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির খবর শুনতে পাই।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং জিনিসপত্রের দাম হাতের নাগালে রাখতে পারলে এবং প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদনের পর সঠিকভাবে ব্যবহার হলেই আমজনতা খুশি থাকবে, অন্যথায় নয়।

সিয়াম মাহমুদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

ওডি/ইমা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড