• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রক্তে মিশে আছে একুশের চেতনা

  মো. আশিকুর রহমান

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৫৩
গবি
মতামত প্রদানকারী শিক্ষার্থীরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, আমরা তোমাদের ভুলবো না’- জনপ্রিয় এই গানটি শুনলেই মনে পড়ে যায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা। রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন তরুণরা। আজও যেন তরুণদের রক্তে মিশে আছে একুশের চেতনা। ফেব্রুয়ারি মাস আসলেই তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জানান দেয় বাঙালির ঐক্যবোধ ও দেশপ্রেমের কথা। রাষ্ট্র ভাষা বাংলাকে নিয়ে তরুণদের ভাবনা জানাচ্ছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান-

একুশের মধ্যে আমরা বাঙালি সত্ত্বাকে খুঁজে পাই। ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির পরিচয় বহন করে। রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা এই মাতৃভাষা। যে মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে প্রাণ দিয়েছিল এ দেশের সূর্যসন্তানরা। সেই ভাষার মৃত্যু ঘটছে একটু একটু করে। প্রযুক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমের প্রভাব পড়ছে বাংলা ভাষার ওপর। ভিন্ন সংস্কৃতির ভাষার ব্যবহার বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ভুল ব্যবহার এবং ভুল উচ্চারণে প্রতিনিয়ত দূষণ ঘটছে আমাদের প্রাণের ভাষার। অনেক অভিভাবক শিশুদের ইংরেজি শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, যেখানে বাংলা ভাষার চর্চা নেই বললেই চলে। আয়ত্ত করছে ভিনদেশী ভাষা। ভাষা মিশ্রণ, উচ্চারণ বিকৃতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছরে দাঁড়িয়েও হচ্ছে না বাংলা ভাষার সঠিক চর্চা। তবুও যেন আমাদের রক্তে মিশে আছে বাংলা ভাষা। আর এই ভাষাকে বাঁচাতে জানতে হবে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার। রক্ত দিয়ে কেনা এই ভাষার মর্যাদা রক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

কথা সাহা, ফার্মেসি বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেরুয়ারি মাস আসলেই আমাদের মাতৃভাষার কথা মনে পড়ে যায়। আরও মনে পড়ে যায় ভাষা শহীদদের সংগ্রামের কথা। যাদের ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি রাষ্ট্রভাষা বাংলা। ছেলেবেলা খালি পায়ে ফুল দিতে যাওয়াটা অনেক মিস করি। এতো কষ্টে অর্জিত বাংলা ভাষা পেয়েও আমরা তা সঠিকভাবে ব্যবহার করছি না। আমাদের সকলের উচিত রাষ্ট্র ভাষাকে সম্মান জানানো। এই একুশে ফেব্রুয়ারি মহান মাতৃভাষা দিবস সত্যিই আমাদের জন্য গর্বের। একুশের চেতনা যেন এখনও তরুণদের মাঝে দেখা যায়। হাজার বছর অটুট থাকুক রাজ ভাষা বাংলা সকল বাঙালির প্রাণে।

মো. নাজমুল হাসান, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশসহ পশ্চিমবঙ্গ তথা সমস্ত বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পরিচিত। বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্ম ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি বিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে অনেক তরুণ শহীদ হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউল, সালামসহ অনেকেই। তাই এই দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত আছে। আমরা তরুণরা এই দিনটি কোনোদিন ভুলবো না।

শারমিন শাহিদা, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

আমরা আজ যে ভাষায় কথা বলছি, লিখছি, সে ভাষা আমরা পেয়েছি রক্তের বিনিময়ে। পৃথিবীতে একমাত্র ভাষা যার জন্য প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিল বাঙালি জাতি। বাংলার দামাল সন্তানদের আত্মত্যাগে এ ভাষা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। এদিন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে এখন বিশ্বের দেশে দেশে পালিত হয়। প্রতিটা বাঙালিরই উচিত বাংলা ভাষার এই মান রক্ষার্থে ভাষার প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়া। আমাদের উচিত মাতৃভাষা বাংলাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে শুদ্ধ বাংলায় কথা বলা। ভাষার মাসে একটাই প্রত্যাশা মাতৃভাষাকে যথার্থ সম্মান দিয়ে বিশ্বের বুকে বাংলা ভাষাকে আরো সমৃদ্ধ করব।

মো. মশিউর রহমান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড