• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নারীর প্রতি সহিংসতা থেমে নেই

  বিথী আক্তার

২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৩৩
নারী
ছবি : প্রতীকী

মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে চিরকালই পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সমাজের উন্নয়নে পুরুষের ভূমিকা যেমন অতুলনীয় তেমনি নারীর ভূমিকাও অনস্বীকার্য। সমাজে নারী পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলছে পৃথিবী। তাই সমাজে অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা যদি বলতেই হয় তাহলে মানবাধিকার (নারী, পুরুষ নির্বিশেষে মানব পরিবারের সকল সদস্যের জন্য সার্বজনীন, সহজাত, অহস্তানতরযোগ্য এবং অলঙ্ঘনীয় অধিকার) নিয়ে আলোচনা করাই যথোপযুক্ত বিষয়।

কিন্তু সব মানুষের সম অধিকারের কথা থাকলেও নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে বিস্তর পার্থক্য লক্ষণীয়। দুঃখজনকভাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় যুগ যুগ ধরে নারীদের অধিকার খর্ব হওয়ায় 'নারী অধিকার' বিষয়টির অবতারণা করতে হয়েছে।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই নারীরা পরিবার, সমাজ, শিক্ষা-সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের এসব কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পথ কখনই মসৃণ ছিল না। ছিল না অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি। নারীদের প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে লড়াই করতে হয়েছে প্রাতকাল থেকেই। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, বিকৃত মানসিকতা নারীদের বৈষম্যের মুখে ঠেলে দিয়েছে বার বার।

জাহানারা ইমাম, সুফিয়া কামাল, বেগম রোকেয়া, আয়েশা খানম, বুলা আহমেদ, রাখী দাসের নারী অধিকার আন্দোলনের ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে। কেননা নারীরা যোগ্যতা ও কঠোর পরিশ্রমে সম্মুখে অগ্রবর্তী হলেও অসামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, নারী পাচার, গৃহ নির্যাতন, এসিড সন্ত্রাস, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, হত্যাসহ নানা প্রতিবন্ধকতা এখনও সমাজে বিদ্যমান। এসব সহিংসতা নির্মূলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আইন কানুন প্রণয়ন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নারী অধিকার রক্ষায় গৃহীত হয়েছে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডিও)। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসহ বাংলাদেশও এ সনদ সাক্ষর করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশে নারী ও শিশু দমন আইন ২০০০, এসিড সন্ত্রাস দমন আইন ২০০২, যৌতুক নিষিদ্ধকরণ আইন ১৯৮০ গৃহীত হয়েছে। এসবের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো মানববন্ধন, সভা-সেমিনার, ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে।

এতকিছুর পরও নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। কাগজে কলমে বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবে সেসবের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়নি। সভা সেমিনারগুলোতে নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরও সমভাবে উপস্থিতি লক্ষণীয় নয়। এমনকি কুসংস্কারাচ্ছন্ন নারীরা নিজেরাই নিজেদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে উদাসীন।

০৫ জানুয়ারি ২০২২ প্রকাশিত এক জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী পীরের ফতোয়ার কারণে চাঁদপুরের রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে এ বছর ভোট প্রদান করেছেন মাত্র দুজন নারী। স্বাধীনতার পর থেকে কখনোই ভোট প্রদান করেননি এই ইউনিয়নের নারীরা। নানা প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন সংগ্রামী নারীরা। তাদের অগ্রগতিকে আরও তরান্বিত করতে হলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। নারী অধিকার আন্দোলন শুধু নারীদের একার আন্দোলন নয়। সমাজের ভারসাম্য রক্ষায় এ আন্দোলনকে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা ও বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি নির্মূলে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই।

একই সঙ্গে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও কুসংস্কার মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। নারী যে কেবল অবলা, সরলা গৃহকোণের ঘরণী নয় বরং বিচক্ষণতার সঙ্গে উন্নয়নশীল সকল কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এ সত্যকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সর্বোপরি এমন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে নারীদের প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া ও নেওয়ার মানসিকতা থাকবে শুধু নারীদের নয়, প্রতিটি মানুষের।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড