• মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গ্রামীণ খেলাধুলার গল্প শহুরে শিশুদের কাছে রূপকথার গল্পের মতো

  কাজী ফিরোজ আহাম্মদ পারভেজ

১৬ নভেম্বর ২০২১, ১৫:২৭
খেলা
গ্রাম্য খেলা (ছবি : সংগৃহীত)

আমাদের ছেলেবেলার স্মৃতিগুলো কতই না মধুর ছিল। হৈ-হুল্লোড়, মজা-মাস্তি, গল্পে গল্পে, আনন্দে কেটেছে ছেলেবেলা। তখন এখনকার মতো এতো প্রযুক্তির ছড়াছড়ি ছিল না, আর আমরা যারা গ্রামে বড় হয়েছি তাদের কাছে প্রযুক্তি ব্যবহার করা ছিল বিরাট দুঃস্বপ্ন। সভ্যতার ক্রমবিকাশ আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা।

আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে অবসর সময় কাটাতাম। বিকাল হলেই খোলা মাঠে দল বেধে খেলতে যেতাম। দৌড়ঝাঁপ, কোলাহল আর দুরন্তপনা। দুরন্তপনা ছাড়া যেন শৈশব কল্পনাই করা যায় না। অথচ প্রযুক্তির এ বর্তমান যুগে শিশুদের মধ্যে, বিশেষ করে শহরের শিশুদের মধ্যে দুরন্তপনা যেন আর নেই বললেই চলে। ঘরে বসে কম্পিউটার, মোবাইলে গেমস খেলতেই তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এদের কাছে বর্তমান যুগে খেলাধুলা, আনন্দ মানেই যেন প্রি-ফায়ার, পাবজিই সবকিছু। এরা কখনো জানতেই পারবে না মাঠে গিয়ে খেলাধুলার মধ্যে কত সুখ, আনন্দ পাওয়া যেত।

আমাদের ছেলেবেলা যেসব খেলাধুলায় কাটতো তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ছেলেরা খেলত হা-ডু-ডু, ডাংগুলি, কাবাডি, সাতগুটি, ষোলগুটি, লাটিম ঘুরানো, ঘুড়ি উড়ানো, দড়ি লাফ, গাদন, মার্বেল, কপালটোকা, কানামাছি, মালাম খেলা, কুস্তি, ডুব সাঁতার, নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, হৈল বৈল, বস্তাদৌড়, ফুটবল, লুকোচুরিসহ এমন আরও অনেক খেলা। আর মেয়েরা খেলত গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা, এক্কাদোক্কা, চোর-পুলিশ, বৌছি, কুতকুত, কড়িখেলা, বালিশ বদল, ইচিং বিচিং, লুকোচুরি, পুতুল খেলা, ওপেন্টি বায়স্কোপ, এলাটিং বেলাটিং, চেয়ার খেলা, লুডু, রান্নাবাটিসহ বিভিন্ন খেলা। বর্তমানে শহরাঞ্চলে তো বটেই, গ্রামাঞ্চলেও খোলা জায়গা বা খেলার মাঠের স্বল্পতার কারণে এসব খেলা আর তেমন চোখে পড়ে না।

বর্তমানে ভিডিয়ো গেমস, টেলিভিশন, মোবাইলফোন ইত্যাদি গ্রামীণ খেলাধুলার সে স্থান দখল করে নিয়েছে। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার ফাঁক পেলেই টিভিতে কার্টুন দেখে, মোবাইলে গেমস খেলে। পড়াশোনা যেমন ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ ঘটায়, তেমনি শারীরিক বিকাশ ঘটাতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। গ্রামে বা শহরে আপনি হাঁটার সময় হরহামেশাই দেখবেন কিছু ছেলে জটলা বেধে কী যেন করছে, একটু ভালো করে খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন সেখানে হয়তো অনলাইন গেমস অথবা কোনো ডিজিটাল মাধ্যম নিয়ে আলোচনা বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যস্ত সবাই।

খেলার মাঠের স্বল্পতা, স্মার্টফোনে ভিডিয়ো গেমসের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কারণেই গ্রামীণ খেলাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। গ্রামীণ খেলাধুলা সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে এমন শহুরে শিশু-কিশোরদের খোঁজ মেলা মুশকিল। গ্রামীণ খেলাধুলার গল্প শহুরে শিশুদের কাছে রূপকথার গল্পের মতো। আমার ছেলেবেলা সীমাবদ্ধ ছিল মাঠে ক্রিকেট বা ঘুড়ি উড়ানোর মধ্যে। বর্তমান শিশুদের স্বপ্ন থাকে গেমসে কখন একটা অ্যাট্যাক দিবে। আমাদের সমবয়সীদের মাঠে বেশী খেলাধুলার জন্য অনেকসময় হয়তো মায়ের বকুনি খেতে হতো, আর এখনকার শিশু বা ছেলেমেয়েরা মাঠের ধারেকাছেও যায় না। রুমের চার দেয়াল অথবা কোনো গলির মধ্যে জটলা বেধে মোবাইল হাতে সময় কাটানোই যেন সবকিছু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেখক- শিক্ষার্থী, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড