• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনায় অনলাইন শিক্ষা ও ডিআইইউ শিক্ষার্থীদের ভাবনা

  শাহীন আহমেদ

২০ জুলাই ২০২০, ২১:৩৯
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
ছবি : সম্পাদিত

বৈশ্বিক মহামারি করোনা প্রভাব বিস্তার করেছে গোটা পৃথিবী জুড়েই। আক্রান্ত করেছে লাখ লাখ মানুষকে। কেড়ে নিয়েছে অজস্র প্রাণ। বাংলাদেশেও এই মহামারি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হয়ে কয়েক দফা বাড়ানো হয়। যদিও মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। দিন দিন বাড়ছে আক্রান্তের ও মৃতের সংখ্যা। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকার বাধ্য হয়েই লকডাউন তুলে নেয়। ৩০ মে লকডাউন শেষ হলে সীমিত পরিসরে চালু করা হয় অফিস, আদালত ও গণপরিবহন। কিন্তু বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষার্থীদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ সরকার ও ইউজিসির নির্দেশনায় চালু হয়েছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শুরু হয় অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভাবনার কথা জানার চেষ্টা করেছেন ডিআইইউর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহীন।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘করোনা সংকটে ঘরে বসে সব সময় দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হতো। যেহেতু আমি একজন শিক্ষার্থী, ফলে দীর্ঘদিন বন্ধের কারণে সেশনজট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সব সময় মানসিক চাপে ছিলাম। কিন্তু সরকার ও ইউজিসির নির্দেশনায় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়ার ফলে সেই শঙ্কা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেয়েছি। বর্তমানে এই বৈশ্বিক সংকটে অনলাইন শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কবে এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শেষ হবে তা কারও জানা নেই। আমরা কবে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ক্লাসে ফিরতে পারবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই অবস্থায় ঘরে থেকে থেকে একঘেয়েমি জেঁকে বসেছিল। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এখন সময় ভালোই কাটছে। এখন মোটামুটি ব্যস্ততার মধ্যেই সময় কাটছে। অনলাইনে ক্লাস করছি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছি। এতে সেশনজটে পড়ার সম্ভাবনা কেটে গেছে। ধন্যবাদ ডিআইইউ কর্তৃপক্ষকে এমন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ায়।’

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইজুল হক নোমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন লকডাউনের ফলে ঘর বন্দী জীবন যাপন করতে হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে এছাড়া অন্য কোনো উপায়ও নেই। ঘরে অবস্থান করতে করতে একধরনের বিরক্তি কাজ করতো। অনেক দিন ধরে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা নেই। সব সময় টেনশন কাজ করতো। তবে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হওয়ায় অনেক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি মেলে। অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা অনেক উপভোগ করছি। পূর্বে এ ধরণের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম বাংলাদেশে তেমনভাবে প্রচলিত ছিল না। কিন্তু এই মহামারি করোনাভাইরাস আমাদের অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষার আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে। ধন্যবাদ ইউজিসি ও সরকারকে।’

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. রুহুল আমিন জানান, আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার মাঝামাঝি সময়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাকি পরীক্ষাগুলো নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। কবে ক্যাম্পাস খুলবে, কবে পরীক্ষা হবে এর কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। কিন্তু ইউজিসি, সরকার ও আমাদের বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দূরদর্শিতায় সকল অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে। আমরা অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাই। ফলে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত আছি। তাছাড়া সেশনজটে পড়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তা এখন আর নেই।

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিনা আক্তার লিজা জানান, অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে তার ভাবনার কথা। তিনি বলেন, ‘পড়ালেখা নেই, ক্যাম্পাস বন্ধ, ঘরে বসে কিছুতেই সময় কাটছে না। তার মধ্যে দীর্ঘ বন্ধের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শিক্ষা জীবন। কবে ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবো তা জানা নেই। কবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে সব কিছু এসব প্রশ্ন সব সময় মাথায় ঘুরপাক খেত। তবে অনলাইন শিক্ষা আমাদের দুশ্চিন্তা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। ফলে সেশনজট নিয়ে যে দুশ্চিন্তা ছিল তা কেটে গেছে। অনলাইনে ক্লাস করে এখন সময় ভালোই কাটছে। প্রত্যাশা রাখি অতিশীঘ্রই করোনার প্রকোপ শেষ হবে। সবার সঙ্গে দেখা হবে সুস্থ পৃথিবীতে।

আরও পড়ুন : স্মৃতির পাতায় প্রিয় ক্যাম্পাস

ডিআইইউর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, ‘আমি অনার্স শেষের দিকে আছি। করোনা সংকটের কারণে পুরো বিশ্বে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। শিক্ষা খাতেও দেখা দেয় চরম অনিশ্চয়তা, তৈরি হয় সেশনজটে পড়ার সম্ভাবনা। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়াতে সেশনজটের সম্ভাবনা নেই। ফলে যথা সময়ে আমরা কোর্স সম্পন্ন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও যথেষ্ট আন্তরিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদিও অনলাইন শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা আছে। তবে সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সকল সমস্যা কাটিয়ে উঠে আমরা অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারবো। সংকটকে শক্তিতে রূপ দিয়ে এগিয়ে যাব। ধন্যবাদ জানাই ডিআইইউ কর্তৃপক্ষ, ইউজিসি ও সরকারকে।’

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড