• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইচ্ছা মতো করোনা ভাইরাসের ব্যাখ্যা

  ফারহানা ইয়াসমিন

২০ মার্চ ২০২০, ১২:৪৮
ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

চীনের উহানে উৎপত্তি হলেও প্রায় শতাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে এ ভাইরাস বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তবে এ ভাইরাস যতটা না মানুষদের আক্রান্ত করছে, এর চেয়ে মানুষের তৈরি গুজব আরও বেশি বিভ্রান্ত করছে। 

ইতোমধ্যে দেখা গেছে, অনেক মানুষ বেশি বাজার করা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য গাড়ি নিয়ে এসেছেন, যাতে দাম বেড়ে গেলে অনায়াসে অগ্রিম ক্রয়কৃত পণ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু হুজুগে বাঙালি এটা বোঝে না, তাদের এ কাজের জন্য কৃত্রিম সংকটের তৈরি হবে। এতে একইসঙ্গে দুই সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। একদিকে, করোনা ভাইরাসের উপদ্রব, অন্যদিকে পণ্যসামগ্রীর চড়া দাম। 

এছাড়া মিডিয়ার দিকে নজর দিলে দেখা যাবে এর অপব্যবহার। অশিক্ষিত লোকজনের হাতে মিডিয়া সহজলভ্য হওয়ায় করোনা ভাইরাস নিয়ে বেশি বুঝায় অসচেতনতা বেড়ে গেছে। 

ফেসবুক খুললেই করোনা ভাইরাস সম্পর্কে হাজার হাজার তথ্য পাওয়া যায়। ইউটিউবে সার্চ করলেই করোনা ভাইরাস নিয়ে বাঙালির ব্যঙ্গাত্মক গান, কবিরাজদের ঔষধ বানানোর ভিডিও দেখা যায়। এগুলোর ৯০ শতাংশ তথ্যই ভুল, মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। এ রকম হাজার হাজার তথ্য থাকায় প্রকৃতপক্ষে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। 

কোন তথ্যগুলো তারা কাজে লাগাবে আর কোনগুলো তারা রিজেক্ট করবে। মোদ্দাকথা, তথ্যের সমারোহের কারণে মানুষ ‘করোনা’ নামটি ভুলে বিদেশফেরত প্রবাসীদের সঙ্গে আত্মীয়তা শুরু করে দিয়েছে।

করোনা ভাইরাসের সঙ্গে গুজবের সম্পর্কটা ঠিক কেমন? বাঙালি ট্যাগটা দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে আমরা অর্জন করেছি। কিন্তু বর্তমানে মানুষের কার্যকলাপের কারণে বাঙালি শব্দটি একটি গালাগাল হয়ে গিয়েছে। 

ধর্মকে কিছু মানুষ এ ভয়াবহ সময়ে নিজেদের মতো ব্যবহার করে করোনা ভাইরাস নিয়ে নানা রকমের গুজব, আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছে। আবার সমস্ত শিক্ষা-কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় অনেকে ভ্রমণে যাচ্ছেন। এ রকম অসামাজিক কাজ থেকে নিজেদের অনুগ্রহ করে বিরত রাখুন এবং বাঙালি শব্দের পবিত্রতা রক্ষা করুন।

আরও পড়ুন : জিতেছে সাগর, জিতেছে ফুটবল

আমাদের উচিত করোনা ভাইরাস নিয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো নিজে মেনে চলা এবং অন্যকে মেনে চলার জন্য বলা। কোনো রকম গুজবে কান না দেওয়া বরং প্রত্যেকের নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন থাকা।

এ ক্ষেত্রে, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে পার্লামেন্টারি পর্যন্ত কাউন্সিলিং করা দরকার। কারণ অনেকেই ভাবছেন এটা শহুরে রোগ, গ্রামে আসবে না। আবার অনেকে মনে করেন এটি বিদেশীদের আক্রমণ করবে, আমাদের না। সর্বোপরি আমাদের উচিত আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা চাওয়া।

লেখক : ফারহানা ইয়াসমিন, শিক্ষার্থী 
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখা লেখকের একান্ত মত। এর সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।

ওডি/এমআরকে

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড