• মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অরসিকের ভোলে ভুলে, ডুবছে দর্শন কূ-নদীর জলে

  রনজক রিজভী

১৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:০০
রনজক রিজভী
রনজক রিজভী

বাউল সম্রাট লালন ফকিরের প্রথম তিরোধান দিবস নিয়ে নিশ্চয় অনেকেরই কৌতুহল আছে। জানার আগ্রহও আছে উৎসুকদের। তবে এটুকু নিশ্চিতভাবেই বলা যায়- কুমারখালীর ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে সাধুসঙ্গ নিশ্চয় এখনকার মতো ছিল না। তখন রীতি মেনেই সাধুসঙ্গ হয়েছে। লালনের ঘরের বাউলরা, অর্থাৎ তাঁর অনুসারীরা সব অনুসঙ্গ পালন করতেন। এখন বাউলমতের অন্যঘরের বাউলদেরও আখড়াবাড়ির দু'টি উৎসবেই দেখা মেলে। তারাও আস্তানা নিয়ে বসেন। তাদের ভক্তরাও এসে বিনিময় করেন গুরুর ভক্তিভাব। আখড়াবাড়ির মূল আঙিনা এবং উন্মুক্ত চত্ত্বরের ভিন্ন ভিন্ন আস্তানায় নানা যজ্ঞ পালনের এসব রীতি দেখা মেলে। অন্যদিকে, লালনমঞ্চে এখন যে রীতি চলছে, তা যেন একেবারেই উল্টো। যা উদ্বোধনী আয়োজন বলা হয়ে থাকে। অবশ্য, এই রীতি একদিনে হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে যেন প্রথায় পরিণত হয়েছে। প্রবীণ বাউলরা দৈন্য গেয়ে উৎসব উদ্বোধন করেন। আর আলোচক থাকেন বাউল গবেষকসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। দেশ-বিদেশের অনেক মানুষের সমাগম হয় এখানকার দুটি উৎসবে। তারা লালনের দর্শনকে ধারণ বা উপলব্ধি করতে আসেন। কিন্তু তা কতোটা সম্ভব হয়, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিষয়টি এমন হতে পারে- রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনের কর্তারা সেখানে থাকবেন। তবে আলোচনা করবেন শুধু প্রবীণ বাউল এবং গবেষকরা। এতে উৎসবের প্রাণ সঞ্চার হবে। সেইসঙ্গে দূর হবে- বাউল সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত ধারণাও। এ বিষয়ে কারো আহত হওয়ার কিছু নেই। কেননা, সবারই বলার অনেক জায়গা আছে। বাউলদের জায়গা অতোটা নেই। 

এই সাধনা গাছতলা আর আস্তানা কেন্দ্রীক। তাই, তাদের অর্জন, জ্ঞান এবং সহজ মানুষ ভজনা আর ভাব-ভাবনার রীতি তুলে ধরার সুযোগ দেয়া যেতেই পারে। উৎসবের তিনদিন প্রবীণ বাউল এবং গবেষকরা প্রাণখুলে বলার সুযোগ পেলে এই মত ও পথের বিশ্বাসীরা ভিন্ন একটি জায়গা পাবে। উৎসুকরাও জানবে বছরের নির্দিষ্ট দুটি উৎসবে বাউলমতের তত্ত্বকথা জানার সুযোগ মেলে। এক্ষেত্রে অবশ্য একটি কথা বলে রাখা ভালো, সব প্রবীণ সাধুগুরু উন্মুক্ত আয়োজনে কথা বলবেন তাও নয়। কেউ কেউ যদি আগ্রহ দেখান, সেটি অনেক বড় পাওয়া বলতেই হবে। মোট কথা, উৎসবটি যেহেতু বাউলদের, তাদেরই কথা বলতে হবে। তাদের অনুসঙ্গ এবং ভাব-আচার যতোটা বলা যায়, বাউলরা ততটাই বলবেন। কেননা, গুরু নিশ্চয় সব কথা শিষ্য ছাড়া বলবেন না। কাদের সঙ্গে তিনি বিনিময় করছেন, তা নির্ণয় করেই কথা বলবেন প্রাজ্ঞ সাধুগুরু। এরপরও বাউল দর্শন এবং লালনের ঘরের ভাব-আচার উৎসুকরা সহজেই জানার সুযোগ পাবেন। যা জানা বোঝার জন্যই দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুকরা ছুটে আসেন ছেউড়িয়ায়। যা উন্মুক্ত করে দেয়ার সুযোগ রয়েছে, এখন প্রয়োজন সদিচ্ছা। 

প্রশ্ন জাগতে পারে- সাধুসঙ্গ কী বলে গেছে। এক কথায় এর উত্তর, সাধুসঙ্গ বদলায়নি। আখড়াবাড়িতে কিছু রীতি জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। উদ্বোধনী আয়োজনে নাগরিক সমাজের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এটি দোষের নয়। তবে সেখানে যদি শুধু বাউলরাই কথা বলেন, তাহলে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। যখন অন্যরা তাদের মতো করে একটি মতবাদের ব্যাখ্যা বা অন্য আলোচনা যুক্ত করবেন, তা নিশ্চয় কোনোভাবেই মেনে নেয়ার নয়। ব্যাপারটি এমনই ঘটছে। বাউলরা যেভাবে চান, সেভাবেই লালনের আখড়াবাড়ির আয়োজন হওয়া দরকার। তারা যেভাবে লালনের বাণী বা জ্ঞান উচ্চারণ করবেন, তা অন্যদের পক্ষে সম্ভব নয়। আর গবেষকরা যদি তাদের তত্ত্বকথা সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন, সেই উপলব্ধি হবে বাস্তবসম্মত।

রনজক রিজভী

বার্তা সম্পাদক, এসএ টিভি

বিঃ দ্রঃ- মতামত বিভাগে প্রকাশিত প্রতিটি লেখা লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত। সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নাও থাকতে পারে।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড