• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

তিস্তা চুক্তি বনাম ফেনী নদীর পানি

  অধিকার ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৪৫
ফেনী নদী
ফেনী নদী (ছবি- সংগৃহীত)

তিস্তা আর ফেনী নদীর বিষয়টি এক পাল্লায় মাপাটাই মিথ্যা প্রচারণার অংশ। তিস্তা নিয়ে পানি বণ্টন চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়ে আছে ২০১১ সাল থেকেই। শেখ হাসিনার উদ্যোগেই এটি হয়েছে। এখন সই করার অপেক্ষায়। তিস্তার বিষয়টি হাজার হাজার কিউসেক পানি বণ্টনের বিষয়। যে কারণে এটি অনেক জটিল। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সবসময়ই চুক্তি স্বাক্ষর করতে রাজি ছিল এবং আছে। কিন্তু সমস্যা বাঁধিয়েছে মমতা ব্যানার্জি। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার পানি বণ্টন প্রশ্নে রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে পারে না। সেখানেই সমস্যা হচ্ছে। পদ্মা নদীর পানি চুক্তিও কিন্তু শেখ হাসিনাই করেছিলেন এটা ভুলে গেলে চলবে না। 

ফেনী নদীর পানির সঙ্গে Water Sharing Agreement বা পানি বণ্টন চুক্তি হয়নি। সেখানে মাত্র ১.৮২ কিউসেক পানি ভারতীয় অংশের নদী থেকে খাবার পানির জন্য নেওয়া হবে। পুরো বিষটি আলাদা, এটি পানি বণ্টন চুক্তি নয়। ফেনী নদীর সর্বনিম্ন পানি প্রবাহ ৭৯৪ কিউসেক। ১.৮২ কিউসেক পানি হলো ফেনী নদীর সর্বনিম্ন পানি প্রবাহের মাত্র ০.২৩ শতাংশ এবং বাৎসরিক গড় পানি প্রবাহের ০.০৯৬ শতাংশ। সাধারণভাবে মাথা খাটালেই তো বুঝা যায় এতে কতটুকু কী হতে পারে।

সাবরুম আমাদের একটা উপজেলা শহরের মতো। এক পারে আমাদের রামগড়, ওপারে সাবরুম। নদীর মাঝ বরাবর সীমান্ত রেখা। একটি ছোট্ট শহরের পানীয় জল কতটুকু লাগে? যেটুকু পানি নিবে তা ফেনী নদীর সর্বনিম্ন পানি প্রবাহের ০.২৩ শতাংশ। এটুকু পানি না জানিয়েও যদি নিয়ে যেত, আমরা টেরও পেতাম না। এই পানি যদি আমরা না দেই তাহলে ত্রিপুরার এই এলাকার মানুষের খাবার পানি সংস্থানের জন্য তাদের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হতো। সাবরুমে ভূগর্ভস্থ পানি ওঠালে তা বাংলাদেশের মাটির নিচেও প্রভাব পড়তো। তাতে বরং বাংলাদেশের বেশি ক্ষতি হতো। এখন যে সামান্য পানি আমরা দিচ্ছি তাতে আমাদের কোনো ক্ষতি নেই।

এছাড়াও এই ত্রিপুরার এই সাবরুমেই মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের অনেক মুক্তিযাদ্ধা আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই উপজেলা শহরের মানুষ আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, পানিসহ বিভিন্নভাবে আতিথেয়তা দিয়েছিল।

কাজেই আমরা সামান্য কিছু পানি দিয়ে তাদের উপকার করছি, এখানে আমাদের কোনো ক্ষতিই হবে না। এখন আমরা বলতে পারব যে আমরা মানবিকতা দেখিয়েছি। আন্তর্জাতিক কূটনীতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের ইতিবাচক ইঙ্গিত বা সংকেত দেওয়ার প্রয়োজন আছে।

লেখক :
অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত
চেয়ারম্যান, সুচিন্তা ফাউন্ডেশন

ওডি/এসএ 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড