• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

সন্তানের খেয়াল রাখা জরুরি

  মাহবুব নাহিদ

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০০
ছবি : সংগৃহীত

আমাদের যুগে আমরা যখন ক্রিকেট খেলেছি মাঠে, এখনকার যুগে বাচ্চা সেই ক্রিকেট খেলছে মোবাইলে। যুগের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুই। সবকিছুই হাতের মুঠোয় এসেছে কিন্তু সুখগুলো হাতের মুঠোয় আসেনি বরং বোতল বন্দি হচ্ছে। এখন সবুজ ঘাসে বাচ্চাদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় না৷ আমরা তাদের হাতে দিয়েছি মোবাইল ফোন। যাকে বলা হয় সেলফোন অর্থাৎ জেলখানা। প্রাকৃতিক আবহাওয়ার বদলে আমাদের সন্তানেরা বড় হচ্ছে দুঃসহ এক আবহাওয়ায়।

একটি সন্তান একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কথায় বলে "আপনি বাঁচলে বাপের নাম" কিন্তু এর তো আবার উল্টাটা কেউ বলে না যে খারাপ করলেও তো বাপেরই নাম। আমি-আপনি মরে যাওয়ার আগে নিজের সন্তানকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারলেই মৃত্যুর পরেও আমার সুনাম হবে। এটার আমার একটা বিপরীত দিকও আছে। অর্থাৎ নিজের সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্বও নিজেরই। একটি প্রবাদ আছে যে কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ পাকলে করে ঠাস ঠাস।

সন্তানকে সঠিকপথে ধাবিত করার সময়ও শৈশবকাল। ছোটবেলায় পিতামাতার দেখানো পথে হাঁটবে সন্তান, এটাই নিয়ম। আমাদের সমাজের একটা জনপ্রিয় ব্যাধি আছে। ব্যাধি হচ্ছে, সন্তান যখন ভালো কিছু করে তখন তার দ্বায় নেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগে যায় বাবা-মা দুজনেই। কিন্তু সন্তান যখন খারাপ কিছু করে তখন দুজনেই দ্বায় এড়াতে চায়, একে অপরকে দোষারোপ করে। আসলে দ্বায় এড়ানোর কোনোই সুযোগ নেই, বরং দ্বায় ঘাড়ে তুলে নিতে হবে। 

যখনই অসংগতি আসবে তখনই সমাধান করার চেষ্টাও করতে হবে। আমাদের সমাজে ছেলেমেয়েদের ইচ্ছামত প্রযুক্তি আর আধুনিকতা শিখিয়ে আমরা মুক্ত বিহঙ্গের মতো ছেড়ে দেই। মোবাইল, ইন্টারনেট, কম্পিউটারের সহজলভ্যতার কারণে তারা অল্প বয়সেই শিখে যাচ্ছে সকল কিছু। সন্তান একটু বড় হলেই তাদের সামনে জামাকাপড় বদলানো কিংবা ঝগড়া করা ও খারাপ কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখা উচিত।

নিজেদের ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে সন্তানের খোঁজখবর নেই না কিন্তু ঠিকই সন্তান খারাপ কিছু করলে তাকে মানসম্মান ডুবিয়েছে বলে মুখে ফ্যানা উঠিয়ে দেই। সন্তান ভুল করলে আমরা যতটা সিরিয়াস হই ততটা সিরিয়াস আমরা তার প্রতি নজর দেয়ার জন্য হই না। কিন্তু একটা সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে পারিবারিক শিক্ষা।

পারিবারিক শিক্ষার অভাব হলেই সন্তান বিপথগামী হয়। তাই সবসময় সন্তান কী করছে কোথায় যাচ্ছে সে দিকে খেয়াল রাখা উচিত। বিশেষ করে খেয়াল রাখা উচিত তারা কাদের সাথে মিশছে, যেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ বন্ধু নির্বাচনে ভুল করাও জীবনের বড় কোনো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

সন্তান কোনো কারণে হতাশ হয়ে পড়লে তাকে টেনে তোলার দায়িত্ব পিতামাতার। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নিজের সন্তানের সাথে বাবা মায়ের প্রাণ খুলে কথা বলা আর সন্তানকে সময়। বাবা-মায়ের দেয়া সময় যেকোনো সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় পাথেয়। আর পরিবার যদি সন্তানের ভিত্তি গড়ে তুলতে না পারে তবে তাকে যতই ভালো জায়গায় পাঠানো হোক ভালো কিছু তাকে দিয়ে আশা করা যাবে না। 

 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড