• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অপরাধকে ‘না’ বলি 

  নাসিফ জাবেদ নীলয়

২২ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৪৭
অপরাধ

অপরাধ সমাজের একটি আতঙ্কের নাম। আর এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মানুষ। বেশিরভাগ সময় অপরাধীরা মনে করে তারা কোনো ভুল কাজ করছে না এবং তারা কখনোই ধরা পড়বে না সেই সাহস নিয়ে তারা অপরাধ করে যাচ্ছে। অপরাধমূলক আচরণ কোনো মানসিক ব্যাধি নয় এটি একটি ইচ্ছাকৃত কর্ম যা মানুষ সচরাচর করে থাকে। 

অপরাধ হলো এমন একটি নাম যা এক সভ্য জগতে চলতে পারে না। অপরাধ মানুষকে একটি সভ্য জগত থেকে অসভ্য জগতে পরিণত করতে সাহায্য করে। অপরাধ করা আর অপরাধীদের সাহায্য করা দুটোই সমান অপরাধ। একজন মানুষ নিজেকে যতটুকু ভালোবাসে তার থেকে বেশি ভালোবাসে তার পরিবারকে আর সেই পরিবারকে সুরক্ষা করার জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত দিতে দ্বিধাবোধ করে না। কিছু মানুষের পেশা হচ্ছে অপরাধ করা আবার কিছু মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আইন ভঙ্গ করে অপরাধ করছে এবং তারা এটিকে আশীর্বাদমূলক বিজয় হিসেবে গ্রহণ করছে। এখনকার মানুষ অপরাধকে একরকম অভ্যাস এ পরিণত করেছে যা তারা দৈনিক রুটিন করে পালন করছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ প্রতিনিয়ত নানা কারণে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। 

বেকারত্ব মানুষের অন্যতম সমস্যা। এ দেশের বেকারত্বের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। পড়ালেখা শেষ করে ও মিলছে না চাকরি। সরকার বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য নানা পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কিন্তু এর ফলেও কোনো সমাধান হচ্ছে না। একজন মানুষ তার পড়ালেখা শেষ করে কোনো চাকরি পাচ্ছে না বেকার হয়ে বসে আছে। অন্যান্য দেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী তার পড়ালেখা শেষ করে যোগ্যতা সম্পূর্ণ চাকরি পাচ্ছে অথচ আমাদের দেশে তার বিপরীতটা হচ্ছে ফলে ঘুষ দিয়েও মিলছে না চাকরি। সংসারের দায়িত্বভার নিজের কাধে হওয়ার কারণে বেকারত্ব কত প্রকার তা হারে হারে টের পাচ্ছে তাই নিজ নিজ ইচ্ছায় অপরাধের সাথে জড়িয়ে বেকারত্ব দূর করার জন্য প্রতিনিয়ত অপরাধ করে যাচ্ছে। অপরাধকে তারা নিজের বন্ধু হিসেবে বিবেচিত করছে।

দরিদ্রতা বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। দরিদ্রতা পূরণের জন্য মানুষ কত কিছুই না করে থাকে। জনসংখ্যার হার বৃদ্ধির কারণে এ দেশের দরিদ্রতার হার দিন দিন বেড়েই চলছে এর ফলে গরিব আরও গরিব হয়ে যাচ্ছে। একটি ছোট জমি ও কিছু গবাদি পশু পালন করে দরিদ্রতা মেটানো সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য সমস্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে দারিদ্র্যের গভীরতা আরও বেড়েই চলছে। বিশেষ করে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে দরিদ্রতার চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। বর্তমান যুগে দরিদ্র দুর্নীতির কারণ হচ্ছে অপরিপূর্ণ সরকার গঠন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেকেই বন্যার প্রবণতা ভোগ করে এতে তাদের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাদের ঘরবাড়ি পূর্ণনির্মাণের জন্য অর্থ দাতাদের প্রয়োজন হয় কিন্তু তাদের দরিদ্রতা পূরণের জন্য সরকার এগিয়ে আসে না। দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তাদের অনেক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে এতে করে মানুষ দরিদ্রতা পূরণের জন্য বিভিন্ন কারণে দিন দিন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে।

অপরাধ জগতের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ হচ্ছে পারিবারিক সমস্যা। আর এর প্রধান কারণ হচ্ছে পিতা-মাতা। তারা তাদের কাজ নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকে ফলে তাদের সন্তানেরা তাদের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত নানা কারণে ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে ফলে তাদের সন্তানেরা তাদের আরও কাছে পায় না। এতে তাদের সাথে পিতা-মাতার সম্পর্ক গভীর হয় না এবং তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে থাকে। সন্তানেরা বেড়ে ওঠার সাথে সাথে তাদের দিক নির্দেশনা ও সহায়তা না করার ফলে তারা বিপদে পড়ে যায় এবং একটি পরিবার যাদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য কোনো ভালো পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নেই ফলে তারা নিরুপায় হয়ে তাদের সন্তানদের একটু একটু করে অপরাধের সাথে আবদ্ধ হতে বাধ্য করছে। তাদের সন্তানেরা তখন বর্তমান আর্থিক দিকের কথা চিন্তা করে অপরাধের খাতায় নাম লেখাচ্ছে। পারিবারিক কলহের কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

শারীরিক সমস্যা একটি মানুষের দৈনিন্দন জীবনে খারাপ প্রভাব ফেলতে সক্ষম করে। শত প্রচেষ্টার ফলেও একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে না পারা সেটিও একটি শারীরিক সমস্যার একটি কারণ বলে বিবেচিত হয়। ড্রাগ ও অ্যালকোহল একজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। একটি ড্রাগ মানুষকে স্বাভাবিক আচরণ থেকে বিরত করে এবং অপরাধ করার ইচ্ছাশক্তিকে প্রভাবিত করে। শৈশব জীবনে নির্যাতিত হওয়ার ফলে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে শারীরিকভাবে অপরাধমূলক শিকারি হয়ে ওঠে। একটি পরিবার তাদের সন্তানের মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য কত কিছুই না করে থাকে। একজন মানুষ নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে এতে যেমন নিজের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি সমাজেরও শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।

বর্তমান সময়ে রাজনীতি মানুষের এক প্রকার ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনকার মানুষ তাদের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে রাজনীতিকে চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। রাজনীতি সবার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনীতি হচ্ছে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করা এবং দেশকে সঠিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অথচ এই রাজনীতিকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে কিছু অসাধু মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অপকর্মে নিয়োজিত হচ্ছে। অপরাধীরা বেশিরভাগই সমাজের সর্বনিম্ন স্তর থেকে আসে এবং তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনীতিকে একটি অসামাজিক কার্যকম হিসেবে গড়ে তুলছে। তারা তাদের ব্যক্তিগত সমস্যাকে রাজনীতির সাথে সংযুক্ত করে একের পর এক অপরাধ করেই যাচ্ছে।

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার কথা না বলই চলে কারণ এ দেশের বিচার ব্যবস্থার হাল দিন দিন এমন অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে ফলে মানুষ আইন এর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। আইন সবার জন্য সমান কিন্তু বিচার ব্যবস্থা সঠিকভাবে না হওয়ার কারণে জনগণের সমস্যা সুষ্ঠুভাবে সমাধান হচ্ছে না ফলে তারা নিরুপায় হয়ে ন্যায়বিচার দাবির জন্য বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। এতে জনগণের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি সমাজেরও শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন আইনে বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ হয়ে বিচার করতে হবে এবং তাদের প্রাপ্য সাজা দিতে হবে তাহলে বিচার ব্যবস্থার সঠিক প্রণয়ন হবে কিন্তু বিচারব্যবস্থার সঠিকভাবে প্রণয়ন না হলে দেশের প্রতি জনগণের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে।

আসুন অপরাধকে না বলি। অপরাধ দমনে এ দেশের প্রতিটি মানুষদের সোচ্চার হতে হবে। এ দেশকে রক্ষা করতে হলে অপরাধকে চিরতরে দমন করতে হবে। এ দেশ জনগণের দেশ। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য দেশকে সঠিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হলে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বাংলাদেশ একটি সাংবিধানিক-শান্তিপূর্ণ, জঙ্গিবাদ-অপরাধ-দরিদ্র ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে এটাই জনগণের একমাত্র আশা।

শিক্ষার্থী, গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ             
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি


 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড