• মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট জাতি গঠনই শেখ হাসিনার লক্ষ্য

  মো. খসরু চৌধুরী সিআইপি

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৬:৫৫
খসরু

স্মার্ট বাংলাদেশ-যেখানে প্রত্যেক নাগরিক পাবে অধিকারের নিশ্চয়তা এবং কর্তব্য পালনের সুযোগ। সেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকনোমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি-এ শব্দগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন একটি বাস্তবতা। স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট জাতি গঠনই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। সরকারি বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট, ভার্চুয়াল বাস্তবতা, উদ্দীপিত বাস্তবতা, রোবোটিকস এন্ড বিগ-ডাটা সমন্বিত ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে চায়।

২০৪১ সাল নাগাদ একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তুলার সরকারের নতুন রূপকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সারা বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি সেবা সহজিকরণ করতে এটুআই বেশকিছু ডিজিটাল প্রোগ্রাম উদ্ভাবন ও বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করার লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর সফল বাস্তবায়ন সরকারকে ‘ভিশন-২০৪১’ এর সাথে সঙ্গতি রেখে একটি উদ্ভাবন ও জ্ঞান-ভিত্তিক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার নতুন লক্ষ্য গ্রহণ করতে উৎসাহ যুগিয়েছে।

সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য ৪টি ভিত্তি সফলভাবে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এগুলো হলো- স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি। এর পাশাপাশি হাতে নেওয়া হয়েছে ২১০০ ব-দ্বীপ কেমন হবে- সেই পরিকল্পনা। স্মার্ট বাংলাদেশে সব কাজ, সম্পাদন করা হবে প্রযুক্তির মাধ্যমে। যেখানে প্রত্যেক নাগরিক প্রযুক্তি ব্যবহারে হবে দক্ষ।

এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম- যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ক্যাশলেস সোসাইটি। সরকার ইতোমধ্যে দেশে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, আইসিটি অবকাঠামো ও কানেক্টিভিটি, ই-গভর্নমেন্ট এবং ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশনের ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-২ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিয়েছে। ২০১৯ সালে সরকার ই-গভর্নমেন্ট মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন এবং ২০২৫ সালের মধ্যে শতভাগ সরকারি সেবা অনলাইনে প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে দেশের গ্রামগুলোকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত শহর হিসেবে গড়ে তোলার নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। যেখানে গ্রামের প্রকৃতি ও পরিবেশ সর্বোপরি চাষাবাদ-ফলমূল-সবজির বাগান-খামারের পাশাপাশি পাওয়া যাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিসহ তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা। তবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিকেরও সবিশেষ দায়িত্ব ও করণীয় রয়েছে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করার জন্য বুয়েট-এ এরই মধ্যে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার ফর সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং স্থাপন করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের উন্নয়নের জন্য এগ্রিকালচার, পাওয়ার এবং অন্যান্য সেক্টরের উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করা হচ্ছে। দেশের প্রেক্ষাপটে স্মার্ট এগ্রিকালচার তৈরিতে বুয়েট এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একসাথে কাজ করছে। স্মার্ট ভিলেজের অন্যতম উপাদান স্মার্ট এগ্রিকালচার। স্মার্ট এগ্রিকালচার-এর জন্য আইওটি ডিভাইস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী বাংলাদেশ। স্মার্ট সিটি ও স্মার্ট ভিলেজ বাস্তবায়নের জন্য স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা, স্মার্ট ট্রান্সর্পোটেশন, স্মার্ট ইউটিলিটিজ, নগর প্রশাসন, জননিরাপত্তা, কৃষি, ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

স্মার্ট ঢাকা-১৮ গড়া আমার অঙ্গীকার

ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশনঃ প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষ প্রতিনিয়ত জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সমস্যায় ভুগছে। আমার প্রথম কাজ হবে সর্বাধিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই সমস্যাটির সমাধান করা এবং সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় পূর্বক স্বল্পতম সময়ের মধ্যে টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করা।

কবরস্থান ও খেলার মাঠ : প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে একটি কবরস্থান এবং একটি খেলার মাঠ থাকবে। বাসিন্দাদের আর সমাধির জন্য দূরে যেতে হবে না।

মানসম্মত শিক্ষাঃ শিশুরা মানসম্মত শিক্ষা পাবে। বিশেষ মনিটরিং টুলস থাকবে যাতে স্কুলগুলি সর্বোত্তম কার্য সম্পাদনের জন্য দায়বদ্ধ থাকে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়ার জন্য বিনামূল্যে পরামর্শ সেবা দেওয়া হবে।

কারিগরি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা: একটি উপযুক্ত স্থানে একটি কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে যেখানে যুবকরা কারিগরি প্রশিক্ষণ পাবে। শুধু তাই নয়, দেশে-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টাকরা হবে।

ইন্টারনেট হটস্পট: প্রতিটি বড় বাজার এলাকায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট হটস্পট থাকবে যাতে বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের উন্নতির জন্য প্রযুক্তির সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে পারে।

অর্ধবার্ষিক চিকিৎসা ক্যাম্পেইন: ঢাকা-১৮ এর সকল জনগণ অর্ধবার্ষিক বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পেইন উপভোগ করবেন যেখানে এক্স-রে, চক্ষু, নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ সহ মৌলিক ঔষুধ সুবিধা সহ অভিজ্ঞ ডাক্তার উপস্থিত থাকবেন।

মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি: ঢাকা-১৮ এর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভালো, মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পূর্ণ উপবৃত্তি প্রদান করা হবে। আমি অবশ্যই এটা নিশ্চিত করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা: আমি নিরলসভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় কাজ করব যাতে একজন শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী চাকরি নিয়ে স্নাতক হয়। এটি তাদের সমাজে মূল্য সংযোজন করতে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

আমাদের আসনে যানজটের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।

বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ : আমি নিশ্চিত করব যে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে বিশুদ্ধ গভীর পানি সরবরাহ পয়েন্ট রয়েছে, যা প্রতি পয়েন্টে কমপক্ষে ১০০০০ পরিবারকে সহায়তা করবে। ঢাকা-১৮ এর বাসিন্দারা যেন পানিবাহিত কোনো রোগে আক্রান্ত না হয়, তা হবে আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।

গ্যাস সুবিধা : প্রতিটি বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। যেসব এলাকায় প্রাথমিকভাবে গ্যাসের আওতাভুক্ত করা হবে না সেসব এলাকায় এলপিজি পয়েন্ট থাকবে। যেখানে সম্ভাব্য সর্বনিম্ন বাজারদর থাকবে।

স্মার্ট উদ্যোক্তা কেন্দ্র : আমি তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও গাইড করার জন্য একটি অত্যাধুনিক যুব উদ্যোক্তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার শপথ করছি। কেন্দ্র যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলবে। তারা পরে নিজেদের মতো করে ব্যবসা শুরু করবে। এমনকি স্টার্টআপের জন্য সীমিত আকারে তহবিল থাকবে।

বিনামূল্যে ইসলামিক মৌলিক শিক্ষা : প্রতিটি মসজিদে শিশুদের মৌলিক ইসলামী শিক্ষা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে ১০টি কেন্দ্র (মসজিদ) থাকবে যেখানে এই সুবিধাটি প্রদান করা হবে।

মাদক, সন্ত্রাসে জিরো টলারেন্স: ঢাকা-১৮ হবে মাদকমুক্ত। সন্ত্রাসের ভয় ছাড়াই মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে। এই আসন জনগণ দ্বারা পরিচালিত হবে, যেখানে থাকবেনা কোন সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজ।

আমি হতে চাই জনগণের সেবক : যেখানে আমার আসনের জনগণ কষ্ট পাবে সেখানে আমি কখনই সস্তিতে থাকতে পারব না। সকল সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে সর্বদা জনগণের পাশে থাকব। আমি স্থান করে নিতে চাই আপনাদের হৃদয়ে, কথার মাধ্যমে নয়, আমার কাজের মাধ্যমে। আমি ঢাকা-১৮ কে সকল আসনের মধ্যে সেরা করার প্রয়াস নিয়ে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে বলছি, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যে অগ্রগতি হয়েছে সেটা বাস্তব প্রয়োগে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে, এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।

লেখক: পরিচালক, বিজিএমইএ;

শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ;

চেয়ারম্যান, নিপা গ্রুপ ও কেসি ফাউন্ডেশন।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড